News

‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংঘর্ষের জায়গা নয়, তাই সহিংসতার সংস্কৃতি গ্রহণযোগ্য হতে পারে না’

হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) লোগো© সংগৃহীত ও সম্পাদিত
গত ৩ থেকে ৫ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রসংগঠনসমূহের মধ্যে সংঘর্ষ, হামলা-পাল্টাহামলা ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী, সাধারণ মানুষ, ছাত্রসংসদের প্রতিনিধি, সাংবাদিক ও শিক্ষক আহত হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)।
 
সংগঠনটি বলছে, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কোনো রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক সংঘর্ষের স্থান নয়; এটি জ্ঞানচর্চা, মুক্তবুদ্ধি, মতপ্রকাশ, সহনশীলতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বিকাশের নিরাপদ স্থান। তাই শিক্ষাঙ্গনে সহিংসতার সংস্কৃতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।’
 
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) এইচআরএসএসের নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতির মাধ্যমে এ উদ্বেগ ও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। 
 
বিবৃতিতে বলা হয়, “সাম্প্রতিক সময়ে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি), জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা, ঢাকা কলেজ ও সরকারি তোলারাম কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় শিক্ষার্থী, সাধারণ মানুষ, ছাত্রসংসদের প্রতিনিধি, শিক্ষক ও সাংবাদিকদের আহত হওয়ার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।”
 
এতে বলা হয়, “শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জ্ঞানচর্চা, মুক্তবুদ্ধি, মতপ্রকাশ, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও নেতৃত্ব বিকাশের অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র। অথচ শিক্ষাঙ্গনে সংঘর্ষ ও সহিংসতার বিস্তার শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করছে। একই সঙ্গে ছাত্রসংসদের প্রতিনিধি ও সাংবাদিকদের ওপর হামলা বা তাদের আহত হওয়ার ঘটনা শিক্ষাঙ্গনে গণতান্ত্রিক চর্চা ও স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি করে।”
 
শিক্ষাঙ্গনে সহিংসতার ভয়াবহতার কথা জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, “রাজনৈতিক, সাংগঠনিক কিংবা মতাদর্শগত বিরোধ কোনোভাবেই হামলা, সংঘর্ষ, ভাঙচুর বা সহিংসতার মাধ্যমে সমাধান করা গ্রহণযোগ্য নয়। গণতান্ত্রিক সমাজে মতপার্থক্য থাকবে এবং ভিন্নমত প্রকাশের অধিকারও থাকবে। তবে সেই মতপার্থক্যকে কেন্দ্র করে সহিংসতা সৃষ্টি হলে তার সবচেয়ে বড় ক্ষতির শিকার হন সাধারণ শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সাংবাদিক ও নিরীহ মানুষ। বিশেষ করে শিক্ষাঙ্গনে সংঘর্ষের কারণে ক্লাস-পরীক্ষা ও শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়া, শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং ক্যাম্পাসে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। শিক্ষার্থীদের নিরাপদে মতপ্রকাশ, সংগঠিত হওয়া ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করা রাষ্ট্র, শিক্ষা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের দায়িত্ব।”
 
সংঘর্ষ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়ে এইচআরএসএসের বিবৃতিতে বলা হয়, “শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কোনো রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক সংঘর্ষের স্থান নয়; এটি জ্ঞানচর্চা, মুক্তবুদ্ধি, মতপ্রকাশ, সহনশীলতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বিকাশের নিরাপদ স্থান। তাই শিক্ষাঙ্গনে সহিংসতার সংস্কৃতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। সাম্প্রতিক ঘটনাবলির প্রেক্ষাপটে সকল ছাত্রসংগঠন, রাজনৈতিক দল, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, শিক্ষা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের প্রতি এইচআরএসএস-এর আহ্বান— উসকানি ও প্রতিশোধের রাজনীতি পরিহার করুন, সংঘর্ষ এড়িয়ে চলুন, ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকুন এবং শিক্ষাঙ্গনে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও সহনশীলতার পরিবেশ বজায় রাখুন।”

source: The Dhaka Diary

Leave a Reply

Back to top button