ব্যাংকিং সেক্টরে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না: গভর্নর

ব্যাংকিং সেক্টরে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংক চট্টগ্রাম কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে গভর্নর ‘এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য: চট্টগ্রাম অঞ্চলের সম্ভাবনা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এ কথা জানান।
ব্যাংকের অনিয়মের বিষয়ে সর্বোচ্চ শাস্তির সুপারিশ করে পরিদর্শন প্রতিবেদন তৈরির জন্য তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শকদের নির্দেশনা দিয়েছেন।
সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে গভর্নর এসএমই ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে ঋণ প্রবাহ বৃদ্ধি, ‘এক গ্রাম, এক পণ্য’ নীতির কার্যকর বাস্তবায়ন, ব্লু-ইকোনমি, সামুদ্রিক সম্পদ, আইটি সেক্টর এবং ম্যানমেড ফাইবারে দীর্ঘমেয়াদি ও সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা প্রদান, প্রবাসী শ্রমিকদের অদক্ষ হিসেবে না পাঠিয়ে সুনির্দিষ্ট চাহিদার ভিত্তিতে দক্ষ করে বিদেশ পাঠানো এবং প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের কার্যক্রম জোরদার করাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দেন।
ডিজিটাল লেনদেন ত্বরান্বিত করা ও ক্যাশলেস বাংলাদেশ গঠনের জন্য বাংলা কিউআর-এর বিস্তার এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধির লক্ষ্যে কার্যক্রম গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন গভর্নর।
গভর্নর কর্মকর্তাদের পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন, সর্বসাধারণকে উন্নত ব্যাংকিং সেবা প্রদান এবং বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম অফিসের নির্বাহী পরিচালক মো. হানিফ মিয়া। বিশেষ অতিথি ছিলেন ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহাম্মদ ও প্রধান কার্যালয়ের নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম।
সভায় উপস্থাপিত কনসেপ্ট পেপারে চট্টগ্রাম অঞ্চলের সামষ্টিক অর্থনীতি, শিল্পায়ন ও ব্যাংকিং খাতের প্রধান প্রতিবন্ধকতাগুলো চিহ্নিত করে তা উত্তরণের রূপরেখা তুলে ধরা হয়।
যাতে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম অঞ্চলে প্রায় ২০০টি বন্ধ বা বন্ধের উপক্রম শিল্প কারখানা রয়েছে, যার ফলে প্রায় ৫ লাখ কর্মী বেকার এবং প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা খেলাপি ও অবাণিজ্যিক ঋণ জমেছে। এই কারখানাগুলো পুনরায় চালুর মাধ্যমে প্রায় ১০ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং টেকসই উন্নয়নের সুযোগ রয়েছে। তবে জ্বালানি সংকট, দীর্ঘমেয়াদি পুঁজির অভাব এবং দক্ষ অপারেটরের ঘাটতির মতো প্রধান প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করা জরুরি। এ ছাড়া, অলস জমির বিকল্প ব্যবহার, আইনি জটিলতা নিরসন এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিগত সহায়তার মাধ্যমে ব্যাংক ও অর্থনীতির সামগ্রিক স্বাস্থ্য রক্ষা করে একটি সমন্বিত অর্থনৈতিক সমাধান নিশ্চিত করা সম্ভব।
জাতীয় অর্থনীতিতে দেশের মোট রপ্তানির ১৮ শতাংশ, আমদানির ২১ শতাংশ, রেমিট্যান্সের ২৮ শতাংশ, আমানতের ১৯.১৯ শতাংশ এবং মোট ঋণের ১৮ দশমিক ৫ শতাংশ এই অঞ্চল থেকে জোগান দেওয়া হয়।
ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহাম্মদ বলেন, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্ব অর্থনীতি চাপে থাকবে। কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য আঞ্চলিক সেন্ট্রাল ব্যাংকিং কার্যক্রম বাড়াতে হবে।
পাশাপাশি, আর্থিক বৈষম্য ও আয় বৈষম্য কমানো, সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়ানোর ওপর তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন।
বার্তা বাজার/আইকে
source: Barta Bazar