‘কুরআন পড়ে আবিষ্কার’ মাধ্যাকর্ষণে বিদ্যুৎ, বিশেষজ্ঞ ছাড়াই প্রচার বাংলা ভিশনের: আরিফ আজাদ

বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে দেশজুড়ে যখন উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা, তখন এক মাদরাসা ছাত্রের দাবিকে ঘিরে বাংলা ভিশনের প্রতিবেদন ভাইরাল হয়েছে। নিউজের শিরোনাম হলো ‘মাদরাসা ছাত্রের অভাবনীয় আবিষ্কার; তেল-গ্যাস ছাড়া মধ্যাকর্ষণেই তৈরি হবে বিদ্যুৎ’। প্রতিবেদনে ‘অভাবনীয় আবিষ্কার’ হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও, এর বৈজ্ঞানিক ভিত্তি যাচাইয়ে কোনো বিশেষজ্ঞের মতামত নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন দেশের জনপ্রিয় ছদ্মবেশী লেখক আরিফ আজাদ।
তিনি বলেছেন, ‘বিদ্যুৎ সংকটের কারণে সারাদেশে যখন হাহাকার চলছে, তখন বাংলা ভিশন চিন্তা করল—এটাই মোক্ষম সময় এরকম একটা ঘটনা ভাইরাল করে দেশ কাঁপিয়ে দেওয়ার। সেই মাদরাসা ছাত্র এবং যে সাংবাদিক এটা কাভার করেছে, তাদের দুজনের কেউ আদৌ জানেও না মাধ্যাকর্ষণ শক্তি কীভাবে কাজ করে।’
গতকাল বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ফেসবুক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ফেসবুক পোস্টে আরিফ আজাদ লেখেন, ‘মাদরাসা ছাত্রের অভাবনীয় আবিষ্কার; তেল-গ্যাস ছাড়া মধ্যাকর্ষণেই তৈরি হবে বিদ্যুৎ’ এই শিরোনামের, মেইনস্ট্রিম টিভি চ্যানেল বাংলা ভিশনের একটা ভিডিও খুব ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে সেই মাদরাসা ছাত্র বলেছে, সে নাকি কুরআন পড়ে, কুরআন থেকেই এই অভাবনীয় বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি আবিষ্কার করেছে। বিদ্যুৎ সংকটের কারণে সারাদেশে যখন হাহাকার চলছে, তখন বাংলা ভিশন চিন্তা করল—‘এটাই মোক্ষম সময় এরকম একটা ঘটনা ভাইরাল করে দেশ কাঁপিয়ে দেওয়ার।’
তিনি বলেন, “সেই মাদরাসা ছাত্র এবং যে সাংবাদিক এটা কাভার করেছে, তাদের দুজনের কেউ আদৌ জানেও না মাধ্যাকর্ষণ শক্তি কীভাবে কাজ করে। সেই মাদরাসা ছাত্রটা জানেও না, কুরআনের কাজ নয় বিদ্যুৎ আবিষ্কারের পদ্ধতি শেখানো। কুরআনকে, ধর্মকে এবং সুন্নতি লেবাসটাকে কোটি কোটি মানুষের সামনে ‘হাস্যকর’ বানানোর অপরাধে সে অপরাধী।”
সবশেষে আরিফ আজাদ বলেন, “সাংবাদিকটা জানে না যে, কোনো বিষয়ের নিউজ কাভার করলে, সেই বিষয়ের এক্সপার্টিজ রাখে এরকম বিশেষজ্ঞদের মতামতও সেই নিউজে রাখতে হয়। সাংবাদিকতার বেসিকটুকু না জেনে, আজকাল এরকম অনেক ছাগলের দল আমাদের সমাজের ‘দর্পণ’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যে দর্পণে সমাজের চেহারা তো দেখা যায়ই না। তার বদলে দেখা যায় কেবল এদের অবারিত অজ্ঞতা আর মূর্খামি।”
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি বাংলা ভিশনের প্রতিবেদনে কুমিল্লার এক কওমি মাদরাসা ছাত্রের ‘মাধ্যাকর্ষণ শক্তি কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের’ দাবি তুলে ধরা হয়। তিনি কুরআন গবেষণা করেই এ পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন বলে দাবি করেন। তবে প্রতিবেদনে তার দাবির বৈজ্ঞানিক সত্যতা যাচাইয়ে কোনো সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের মতামত রাখা হয়নি। এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।
source: The Dhaka Diary