বিএনপি ৩১ দফা প্রতিশ্রুতি দেয়, ৩২ দফা পর্যন্ত পূরণ করে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বিএনপি ৩১ দফা দিয়ে প্রতিশ্রুতি দেয় এবং সেই প্রতিশ্রুতির বাইরে গিয়ে ৩২ দফা পর্যন্ত বাস্তবায়ন করে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, বেসরকারি শিক্ষকদের অবসর সুবিধা ডিজিটাল পদ্ধতিতে সরাসরি তাদের ব্যাংক হিসাবে পৌঁছে দেওয়া এর একটি উদাহরণ। এটি বিএনপির ইশতেহারে না থাকলেও বাস্তবায়িত হচ্ছে।
আজ শনিবার (১৫ আগস্ট) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে দেশের ৬৪ জেলায় একযোগে অবসর সুবিধা বোর্ড ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থ বিতরণ কার্যক্রমের অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘একজন শিক্ষকের সন্তান হিসেবে আমার পিতা যদি বেঁচে থাকতেন, আজকের এই অনুষ্ঠান দেখে তিনি অবশ্যই খুশি হতেন। তিনি বেসরকারি শিক্ষক ছিলেন না, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। অবসর গ্রহণের পর আমি যখন হাইস্কুলে পড়তাম, তখন তিনি ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পেনশন পেতেন। কিন্তু সেই ১৫০–২০০ টাকা পাওয়ার জন্য ২০ মাইল দূরে উপজেলা সদরে, তখনকার দিনে থানায় যেতে হতো। আসা-যাওয়া করতে হতো। কত টাকা দিতে হতো, উপরে জানি না। সেটা একটা সময় ছিল।’
তিনি বলেন, ‘বিএনপি প্রতিশ্রুতি দেওয়ার আগে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করে। বাস্তবায়ন করে। ৩১ দফা দেয়, ৩২ দফা পর্যন্ত পূরণ করে। এটাই বিএনপি। আমরা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে দেখে ছাত্ররাজনীতিতে যোগদান করেছিলাম। কারণ তিনি উৎপাদনমুখী শিক্ষা ব্যবস্থার কথা বলেছিলেন। বেকার সৃষ্টি করার কোনো কথা তিনি বলেননি। শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য উৎপাদনমুখী শিক্ষা এবং প্রত্যেক শিক্ষার্থীর হাতকে কর্মের হাতে পরিণত করার জন্য তিনি উদ্যোগ নিয়েছিলেন।’
তিনি বলেন, ‘কারিগরি শিক্ষাসহ সব উদ্যোগ তার সময়ে নেওয়া হয়েছিল। সাক্ষরতার হার বৃদ্ধির জন্য তিনি গণশিক্ষা শুরু করেছিলেন। বহু বছর সেই গণশিক্ষা কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে যারা জীবনে দস্তখত শিখতে পারেননি, তারা দস্তখত করে মৃত্যুবরণ করেছেন। শিক্ষার হার বেড়েছিল। আমার নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এই বেসরকারি শিক্ষকদের মর্মবেদনা বুঝে, সরকারে থেকে তাদের জন্য অবসরকালীন এই ভাতার প্রচলন করেন। শিক্ষক কল্যাণ ট্রাস্ট তো আছেই।’
তিনি বলেন, ‘আজকে আমি সচিবের কাছে শুনলাম, একজন একজন করে কমপক্ষে খুব সম্ভবত ছয় থেকে সাত লাখ টাকা করে অবসর সুবিধা পাবেন। পাঁচ, ছয়, সাত লাখ এভাবে। এটা একজন দরিদ্র স্কুলশিক্ষকের জন্য, যিনি গ্রামে বসে আছেন, সেটা অনেক বেশি। বাড়িতে বসে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ডিজিটালাইজ পদ্ধতিতে তার টাকা তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ঢুকছে। এক টাকাও কোথাও উৎকোচ দিতে হবে না। আপনি বাস্তবায়ন করেছেন।’
আরও পড়ুন: শিক্ষকদের অশ্রু মুছতে আজ ২১০০ কোটি টাকা দেওয়া হচ্ছে: শিক্ষামন্ত্রী
তিনি বলেন, ‘অনেকে গতকাল বলছেন, আগামী দুই দিন পর তো সরকারের ১৮০ দিন পূর্ণ হবে। আপনারা কী কী বাস্তবায়ন করেছেন? এগুলো দেখে যান, বাস্তবায়ন। এটা আমাদের ইশতেহারে ছিল না। এটা ৩২ নম্বর। আর স্কুল ড্রেস এটি ৩৩ নম্বর।’
প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী, আমি আপনার প্রশংসা করতে চাই না, জাতি প্রশংসা করবে। কিন্তু আমি স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, আপনি দায়িত্ব নেওয়ার আগেই যে সমস্ত প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, ইশতেহারে নিয়ে এসেছেন, পরিকল্পনা বলেছেন আই হ্যাভ এ প্ল্যান। আমরা সবাই বলেছি, উই হ্যাভ এ প্ল্যান। আপনি কৃষকদের কাছে কথা রেখেছেন। তাদের কৃষক কার্ড দেওয়া শুরু করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি উন্নত মানের কৃষিপদ্ধতি অবলম্বন করতে পারবেন। আবহাওয়ার রিপোর্ট পাবেন। ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ, সার ও বীজ পাবেন। সেটা আপনি আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করবেন আমরা বিশ্বাস করি, আশাও করি।’
ফ্যামিলি কার্ডের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আপনি এ দেশের দরিদ্র মা-বোনদের ভুলেননি। বলেছেন ফ্যামিলি কার্ড দেবেন। আমাদের পক্ষের লোকেরা বলেছে, রাখ তোর ফ্যামিলি কার্ড। এখন তারাই প্রতিযোগিতা করছে ফ্যামিলি কার্ড কবে দেবেন। মা-বোনেরা ফ্যামিলি কার্ড পেয়েছেন। আপনি শুরু করেছেন।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের আর্থিক সংগতির সঙ্গে মিল রেখে ইনশাআল্লাহ আমরা পূর্ণাঙ্গভাবে আগামী চার-পাঁচ বছরের মধ্যে এ দেশের সব মা-বোনের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেব। এর প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার হবে। অর্থাৎ সার্কুলেশন হবে। বাজারের দ্রব্য সে কিনবে। সেই দ্রব্যের কারণে চেইন ইন্ডাস্ট্রিগুলো চলবে। সেখানেও কর্মসংস্থান হবে। একটা জিনিসের সঙ্গে আরেকটা জড়িত।’
তিনি বলেন, ‘বৃহৎ লোন যারা নেয়, তারা হয়তো তছরুপ করে। কিন্তু এই অর্থ দরিদ্র পরিবারের কাছে, মা-বোনদের কাছে যখন যাবে, সে সেটা খরচ করবে পরিবারের কল্যাণে। চেইন ইন্ডাস্ট্রিগুলো গড়ে উঠবে। তার আর্থিক সক্ষমতা হবে। ছেলেমেয়েরা শিক্ষিত হবে। দেশের সম্পদ হবে। এটার একটা চেইন ইফেক্ট আছে। দরিদ্রকে যদি আপনি দরিদ্রই রেখে দেন, জাতির কখনো কল্যাণ হবে না। মুক্তি হবে না।’
ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় নেতাদের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আপনি দরিদ্র ইমাম-মুয়াজ্জিনদের কথা রেখেছেন। অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের উপাসনালয়ের সমস্ত কর্তাদের, পুরোহিতদের, ক্ষেত্রমতে হেবায়েতদের সবাইকে আপনি সম্মানিত করেছেন। রাষ্ট্রীয় ভাতা দিয়েছেন। এটা শুধু ভাতা নয়। তাদের একটি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান করা এবং তাদের সম্মানিত করা। সেটা আপনি করেছেন, শুরু করেছেন।’
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘দেশের এমন কোনো অঙ্গন নেই ক্রীড়াবিদ, সংস্কৃতিজীবী সবার কাছে আপনি আপনার প্রতিশ্রুতি পৌঁছে দিয়েছেন, রক্ষা করেছেন, কথা বলেছেন। পর্যায়ক্রমে তাদের সবাইকে আপনার সেই কর্মসূচির ভিতরে নিয়ে আসবেন। তাঁরা তাঁদের জীবনের একটা স্বীকৃতি পাবেন, মূল্যায়ন পাবেন। অর্থ বড় কথা নয়।’
তিনি বলেন, ‘এভাবে পরিবেশ-প্রতিবেশ সংরক্ষণের জন্য, দেশের কৃষি উন্নয়নের জন্য, কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর জন্য, মৎস্য উৎপাদন বাড়ানোর জন্য, লাইভস্টক বাড়ানোর জন্য, পরিবেশ-প্রতিবেশ সংরক্ষণ করার জন্য খাল খননের মধ্য দিয়ে এবং বৃক্ষরোপণের মধ্য দিয়ে আপনি যে কর্মসূচি শুরু করেছেন, সেটা বাংলাদেশকে একটি সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্টের দিকে নিয়ে যায়। এটা শুধু আমরা বিশ্বাস করি না, এটা আমরা জানি। সেটা আপনি প্রতিপালন করবেন এবং দেশের মানুষ এটা বিশ্বাস করে।
source: The Daily Campus