News

ঢাকার ২ দূতাবাসে হামলার হুমকি, কূটনৈতিক এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার

কূটনৈতিক এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার© সংগৃহীত
ঢাকায় অবস্থিত চীন ও রাশিয়ার দূতাবাসে ই-মেইলের মাধ্যমে হামলার হুমকি পাওয়ার পর পুরো কূটনৈতিক এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গুলশান ও বারিধারাসহ বিদেশি কূটনীতিকদের বসবাসের এলাকাতেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
 
রবিবার (২৩ আগস্ট) ঢাকা মহানগর পুলিশের ডিপ্লোমেটিক সিকিউরিটি বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (এডিসি) আবু খায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
 
তিনি বলেন, চীন ও রাশিয়ার দূতাবাসে হুমকি দিয়ে ই-মেইল পাঠানো হয়েছে। তবে এসব বার্তা কোথা থেকে এসেছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে এগুলো ‘স্ক্যাম’ বা ভুয়া ই-মেইল হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
 
আবু খায়ের জানান, ঢাকায় থাকা বিদেশি দূতাবাসগুলো নিয়ম অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি জানিয়েছে। পরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পুলিশ সদর দপ্তর ও কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমকে (সিটিটিসি) বিষয়টি জানানো হয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে দূতাবাস ও কূটনৈতিক এলাকার বিদ্যমান নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।
 
আবু খায়ের বলেন, দূতাবাসগুলোর পক্ষ থেকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে কোনো লিখিত অভিযোগ পাননি। তবে বিষয়টি জানার পর বিদ্যমান নিরাপত্তাব্যবস্থাই আরও কঠোর করা হয়েছে। আপাতত বড় ধরনের কোনো ঝুঁকির তথ্য পাওয়া যায়নি বলেও জানান তিনি। এ ঘটনায় থানায় কোনো সাধারণ ডায়েরি (জিডি) বা লিখিত অভিযোগ করা হয়নি।
 
এর আগে, বুধবার (১৯ আগস্ট) রাতে একটি উগ্রবাদী সংগঠনের নামে চীনা দূতাবাসে ই-মেইলের মাধ্যমে হামলার হুমকি দেওয়া হয়। পরে দূতাবাস কর্তৃপক্ষ বিষয়টি পুলিশ সদর দপ্তর ও সিটিটিসিকে জানায়।
 
হুমকির পর রাজধানীতে বিদেশি কূটনীতিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে তৎপর হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। একই সঙ্গে হুমকিদাতাদের পরিচয় ও উদ্দেশ্য শনাক্তে তদন্ত শুরু হয়। সিটিটিসির কর্মকর্তারা চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়।
 
গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, ওই বৈঠকে নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে পুলিশ ও দূতাবাসের কর্মকর্তাদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। একপর্যায়ে হট্টগোলের ঘটনাও ঘটে বলে তারা জানায়।
 
সিটিটিসির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার মুন্সি শাহাবুদ্দিন বলেন, হুমকির খবর পেয়ে তারা দূতাবাসে গিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। কে বা কোন সংগঠনের নামে ই-মেইল পাঠিয়েছে, তা শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এটি স্ক্যাম মেইলও হতে পারে বলে জানান তিনি।
 
এরপর সিটিটিসির কর্মকর্তারা জাপানি দূতাবাসেও বৈঠক করেন। বৃহস্পতিবার জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচির সঙ্গে আলোচনায় কূটনৈতিক স্থাপনার নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে।
 
গোয়েন্দা সূত্র বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধারের ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এসব ঘটনার পর বিদেশি কূটনীতিকদের নিরাপত্তাকেও বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

source: The Dhaka Diary

Leave a Reply

Back to top button