News

রংপুরে ৪ খুনের বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্না করা সেই পুলিশ কমিশনারের বদলি

রংপুর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ© দ্যা ঢাকা ডায়েরি ছবি
রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের চার সদস্য হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিতে গিয়ে সংবাদ সম্মেলনে আবেগাপ্লুত হয়ে কান্না করা মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদকে বদলি করা হয়েছে। তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) ডিআইজি মু. মাহবুবুর রশীদ।
 
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব তৌছিফ আহমেদ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ বদলির আদেশ দেওয়া হয়। এতে বলা হয়েছে, এসবির ডিআইজি মু. মাহবুবুর রশীদকে রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার করা হয়েছে।
 
একই আদেশে ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আসলাম উদ্দিনকে পুলিশ সদর দপ্তরে (টিআর পদে) এবং নোয়াখালী পিটিসির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নূরুল আমীনকে খাগড়াছড়ি এপিবিএন ও বিশেষায়িত ট্রেনিং সেন্টারে বদলি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এসব আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
 
গত ২৩ আগস্ট রংপুরে চারজনকে হত্যার ঘটনায় সংবাদ সম্মেলন করেন তৎকালীন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ। সেখানে তিনি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দুই যুবককে আটকের তথ্য জানান। চারজনকে নির্মমভাবে হত্যার বর্ণনা দিতে গিয়ে একপর্যায়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি।
 
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, রংপুর মহানগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের মাছুয়াপাড়া এলাকায় একটি পরিবারের চারজনকে হত্যা করা হয়েছে। নিহত ব্যক্তিরা হলেন রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে প্রার্থী চক্রবর্তী এবং ১২ বছর বয়সী ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তী।
 
১২ বছর বয়সী শিশুটির মৃত্যুর কথা বলতে গিয়ে আবদুল মাবুদ বলেন, শিশুটির মৃত্যু আমাকে ব্যক্তিগতভাবে আবেগাপ্লুত করেছে। তার বয়স আমার নিজের সন্তানের কাছাকাছি। শিশুটিকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
 
এর আগে শনিবার (২২ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকার একটি তালাবদ্ধ বাড়ি থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতরা হলেন রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ভোলা (৫০), মেয়ে প্রার্থী চক্রবর্তী (২৫) এবং ছোট ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তী (১২)।
 
স্বজন ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কয়েক দিন ধরে মোবাইল ফোনে গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের সদস্যদের পাওয়া যাচ্ছিল না। শনিবার রাতে গণপতির বাড়িতে যান তার এক শ্যালিকা। বাড়ির দরজা তালাবদ্ধ দেখে তার সন্দেহ হয়। পরে জানালা দিয়ে ভেতরে তাকিয়ে ঘর এলোমেলো দেখতে পান। বিষয়টি তিনি পুলিশকে জানান।
 
স্থানীয়রা জানান, কয়েক দিন ধরেই বাড়িটি ভেতর থেকে তালাবদ্ধ ছিল। শনিবার রাতে সন্দেহ আরও বাড়লে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে কোতোয়ালি থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাড়ির তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে।
 
পুলিশ জানায়, দুইতলা বাড়ির ছাদ থেকে গণপতি চক্রবর্তীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার স্ত্রী ও মেয়ের মরদেহ পাওয়া যায় বাসার সিঁড়িতে। আর ছেলে প্রিয়মের মরদেহ ছিল ঘরের ভেতর খাটের নিচে।
 
স্থানীয়রা জানান, শিক্ষকতা থেকে অবসর নেওয়ার পর গণপতি চক্রবর্তী নিজের বাসায় হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার চেম্বার পরিচালনা করতেন।

source: The Dhaka Diary

Leave a Reply

Back to top button