News

জাতির পিতার বাংলাদেশে ২০২৪ সাল থেকে জঙ্গিবাদের উত্থান হয়েছে: চৈতালী চক্রবর্তী

আইনজীবী চৈতালী চক্রবর্তী© সংগৃহীত
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী চৈতালী চক্রবর্তী বলেন, ‘আমার সোনার বাংলা, জাতির পিতার সেই বাংলাদেশে আমরা আজ খুব অসহায় জীবনযাপন করছি। আমরা অত্যন্ত দুঃখ ও ভারাক্রান্ত হৃদয় নিয়ে এখানে দাঁড়িয়েছি। এই সোনার বাংলায় হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধ সবাই মিলেমিশে বসবাস করতাম। দীর্ঘ ১৭ বছর আমরা এভাবেই জীবনযাপন করেছি। কোথা থেকে কী হয়ে গেল, তা বুঝতে পারছি না।’
 
চৈতালী চক্রবর্তী বলেন, এখন যেদিকেই তাকানো যায়, সনাতনীরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। দেশের প্রতিটি সেক্টর ও ক্ষেত্রে তারা নির্যাতিত হচ্ছেন বলে দাবি করেন তিনি।
 
রংপুরের সাম্প্রতিক ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আজ রংপুরে যে ঘটনাটি ঘটেছে, আমি বলব, এটি একমাত্র জঙ্গিবাদের উত্থান। ২০২৪ সাল থেকে জঙ্গিবাদের উত্থান হয়েছে। কোনোভাবেই এই জঙ্গিবাদ বিলুপ্ত করা যাচ্ছে না। দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর বাংলাদেশ জঙ্গিবাদে আক্রান্ত হয়ে গেছে।’
 
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ কিশোর গ্যাংয়ের দ্বারাও আক্রান্ত। রংপুরের ঘটনায় তিনি অতীতে আলোচিত ‘জজ মিয়া’ নাটকের প্রসঙ্গ টেনে আনেন।
 
চৈতালী চক্রবর্তী বলেন, ‘আমরা অতীতে এক ধরনের জজ মিয়া দেখেছিলাম। এখন আবার সেই জজ মিয়া রংপুরে চলে এসেছে। কী অস্বাভাবিক বিষয় দেখুন সনাতনীদের মধ্যে যিনি ডাক্তার, তাকে সনাতনী বলেছেন। অথচ ধর্ষণ হয়েছে বলা হলেও তিনি তা দিতে পারছেন না। এখানে চাপ প্রয়োগ হচ্ছে। পুলিশ কর্মকর্তার ওপরও চাপ প্রয়োগ হয়েছে।’
 
তিনি দাবি করেন, রংপুরের ঘটনায় একজন বাবা ও ছেলে তাকিয়ে থাকার সময় মা ও মেয়েকে ধর্ষণ করা হয়েছে। দুই কিশোর শুধু সাক্ষ্য দিয়েছিল কারা কারা সেখানে ঢুকেছিল বা কিছু লোক ঢুকেছিল। সেই সাক্ষ্যই এখন তাদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে এমনভাবে বোঝানো হচ্ছে, যেন হিন্দুরাই হিন্দুদের মারছে। সবকিছু হিন্দুরাই করছে। দেশের রাজনৈতিক হিন্দুরা কিন্তু তা নয়।’
 
চৈতালী চক্রবর্তী বলেন, রংপুরের একটি ঘটনা নয়, দেশের বিভিন্ন জায়গায় একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে। রংপুরের পাশাপাশি বগুড়ার ঘটনাও উল্লেখ করেন তিনি। রংপুরে আরও মানুষ মারা গেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
 
উল্লেখ্য, রংপুরে গণপতি পরিবারের চারজনের ময়নাতদন্তের ব্যাপারে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গের এক ডোমের বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে। সেখানে ডোমকে দাবি করতে শোনা যায়, দুই মৃত নারীর শরীরে শুক্রাণুর উপস্থিতি পাওয়া গেছে এবং তা সংরক্ষণ করা হয়েছে।
 
তবে ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক বাবলু কিশোর বিশ্বাস সেই দাবি নাকচ করে বলেছেন, “ওখান থেকে যে সোয়াবগুলো আমরা মাইক্রোবায়োলজি ল্যাবে পাঠিয়েছিলাম, সেখানে এ ধরনের কোনো আলামতের কথা বলেনি। সুতরাং সেই অর্থে আমরা বলতে পারি, এখানে ধর্ষণের বিষয়টি আমরা বাদ দিতে পারি।”
 
তাহলে কেন ডোম এ ধরনের কথা বললেন–সেই প্রশ্নে চিকিৎসক বলেন, “ভ্যাজাইনাল সোয়াব নেওয়ার সময় তার মনে হয়ে থাকতে পারে যে, পরীক্ষায় রেজাল্ট আসতে পারে। হয়ত সে কারণেই সে এমন কথা বলেছে। কিন্তু পরীক্ষায় ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি।”
 
রংপুর জিলা স্কুলের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে অবসরে যান। তিনি আগে রংপুর শহরের বাংলাদেশ ব্যাংক মোড় এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। পরে নগরীর মাছুয়াপাড়া (দাসপাড়া) এলাকায় জমি কিনে বাড়ি নির্মাণ শুরু করেন।
 
সেই বাড়ির দোতলায় প্রায় তিন বছর ধরে পরিবার নিয়ে বসবাস করে আসছিলেনে গণপতি চক্রবর্তী। তবে নিচতলার কাজ এখনো শেষ হয়নি। অবসরে যাওয়ার পর হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক হিসেবে রোগীও দেখতেন তিনি।
 
২২ আগস্ট (শনিবার) রাতে ওই বাসা থেকে গণপতি (৬০), তার স্ত্রী প্রীতিলতা (৫০), স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী মেয়ে আগামী (২৫) এবং পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তীর (১২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
 
লাশের সুরতহাল করার পর পুলিশ চারজনকেই শ্বাসরোধে হত্যার কথা বলেছিল। ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকও একই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন।
 
ডা. বাবলু কিশোর বিশ্বাস বলেন, “আমরা যখন মরদেহ পেয়েছি, তখন সেগুলো ফুলে গেছে, পোকায় ধরেছে। স্বাভাবিক ছবিতে যেমন দেখা যায়, আসলে সেগুলো তেমন ছিল না। প্রচুর গন্ধ ছিল। মাথায় ও বুকে তাদের কাউকে কাউকে আঘাত করা হয়েছে। তবে সবার গলায় দাগ রয়েছে। তার মানে, সবাইকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।”

source: The Dhaka Diary

Leave a Reply

Back to top button