News
আপনারা সরকারের কাজের সমালোচনা করবেন, ভুলত্রুটি তুলে ধরবেন: তথ্যমন্ত্রী

সাংবাদিকদের জন্য সরকার একটি স্বাধীন ও উন্মুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে চায় বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ। তিনি বলেন, ‘গণমাধ্যম গণতন্ত্রের অন্যতম স্তম্ভ। সরকার সংবাদমাধ্যমের কাজে কোনও ধরনের হস্তক্ষেপ করবে না। সাংবাদিকদের ওয়েজ বোর্ড, কল্যাণ, প্রশিক্ষণ ও নীতিমালাসংক্রান্ত দাবিগুলো নিয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। আমাদের কাজগুলো ভালো হচ্ছে নাকি খারাপ হচ্ছে সেগুলো আপনারা দেখবেন। তবে সাংবাদিকদের কলম যেন অযথা কারও সম্মানহানি না করে।’
বৃহস্পতিবার (০৩ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ভোলা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গত প্রায় দুই দশকের রাজনৈতিক জীবনে আমি কখনও কোনও সাংবাদিককে ফোন করে সংবাদ প্রকাশে বাধা দিইনি বা কোনও প্রেসক্লাবের রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করিনি। আমি বিশ্বাস করি ২০টি টিভি চ্যানেল ও হাজার হাজার পত্রিকা আপনার পক্ষে থাকলেও আল্লাহ যদি না চায় আপনি থাকতে পারবেন না। এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ ছিল ফ্যাসিস্ট রেজিম। দুই বছর আগে আমরা দেখেছি যে, সব আপনার পক্ষ থাকলেও যখন সময় থাকবে না তখন কেউ আপনার পক্ষে থাকবে না। আল্লাহ যখন চাইবে না তখন মানুষের মনের মধ্যেই আপনার প্রতি ঘৃণা দিয়ে দেবে। আমার কখনও আগ্রহ ছিল না যে, আমার পক্ষে ১০ জন সাংবাদিক লিখবে বা না লিখলে আমি ফোন করে তাদের চাকরি নষ্ট করবো। এই চর্চা থেকে বের হতে চাই আমরা।’
সাংবাদিকদের তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা আপনাদের মতো স্বাধীনভাবে কাজ করবেন। আপনারা সরকারের কাজের সমালোচনা করবেন, ভুলত্রুটি তুলে ধরবেন। তবে সংবাদ যেন বিদ্বেষপ্রসূত, অর্ধসত্য বা মনগড়া না হয়। একটি ভুল সংবাদ একজন মানুষের জীবন, ক্যারিয়ার ও সম্মান নষ্ট করতে পারে।’
আরও পড়ুন
বর্তমানে বাংলাদেশে সাইবার বুলিং একটি বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এর কারণে সংবাদমাধ্যমের গুরুত্ব ও বিশ্বাসযোগ্যতা কমছে। মানুষ এখন অনেক সময় সত্যিকারের সংবাদ দেখেও সেটিকে ফেক নিউজ মনে করছেন। ফলে সংবাদমাধ্যমও প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছে।’
স্থানীয় সাংবাদিকদের দাবির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের একটি ছোট প্রতিনিধি দল ঢাকায় এসে আমার সঙ্গে বসুন। আপনারা কী কী চান, কোন বিষয়গুলোয় নীতিগত সিদ্ধান্তের প্রয়োজন, এসব নিয়ে আলোচনা করবো। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে যেগুলো সম্ভব, সেগুলো বাস্তবায়নের চেষ্টা করবো।’
মতবিনিময় সভার সভাপতি ভোলা প্রেসক্লাবের সভাপতি নজরুল হক জানান, সাংবাদিকদের জন্য দ্রুত ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়ন, একটি যুগোপযোগী সাংবাদিক নীতিমালা প্রণয়ন, পিআইবির মাধ্যমে জেলাপর্যায়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা এবং সাংবাদিক কল্যাণে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। তিনি প্রেসক্লাব ভবনের সংস্কার ও উন্নয়নের জন্যও তথ্য মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা কামনা করেন।
সভা সঞ্চালনায় ছিলেন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নাসির লিটন ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মশিউর রহমান। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক শামীম রহমান, পুলিশ সুপার শহিদুল্লাহ কাওসার, আজকের ভোলার সম্পাদক মুহাম্মদ শওকাত হোসেন, ভোলা জেলা বিএনপির সদস্যসচিব রাইসুল আলম প্রমুখ।
source: The Dhaka Diary