News

কলাপাতার থালায় খাবার বিতরণ, ধনী গরীব সবাই খেলেন একপাত্রে

এখন যেমন খাবার পরিবেশনে বাহারী থালা পরিবেশন করা হয় সামাজিক ধর্মীয় সহ নানান অনুষ্ঠানে এক সময় বিতরণ করা হত কলা পাতা। কলাপাতা দিয়ে সুন্দর থালা তৈরি ছিল শৈল্পীকতার ছোঁয়া।

হারিয়ে যেতে বসা এমনই এক গ্রামীণ ঐতিহ্যের দেখা মিলেছে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার কাচিনা ইউনিয়নের কাদিগড় পশ্চিমপাড়া পুরাতন জামে মসজিদে।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজের পর মসজিদ প্রাঙ্গণে স্থানীয় মুসল্লিদের হাতে কলাপাতা তুলে দিতে দেখা যায়। পরে সবাই মাটিতে বসে একসঙ্গে খাবার খান। এতে শিশু, তরুণ, প্রবীণ থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সী মানুষ অংশ নেন।

স্থানীয় প্রবীণদের ভাষ্য, রোগ-শোক ও বালামুসিবত থেকে মুক্তি এবং মনের প্রশান্তির আশায় বহু বছর ধরে গ্রামবাংলায় মসজিদে মানত ও মিলাদের পর খাবারের আয়োজনের প্রচলন ছিল। জুমার নামাজ শেষে মিলাদ ও দোয়া পড়ানো হতো। এরপর কলাপাতায় করে ক্ষীর, পোলাও, ভাত ও মাংস খাওয়ানো হতো। একই জায়গায় ধনী-গরিব সবাই একসঙ্গে বসে খাবার খেতেন।

তবে কালের বিবর্তনে আধুনিক খাবারের পরিবেশন ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এই ঐতিহ্য অনেকটাই হারিয়ে যেতে বসেছে। কোথাও কোথাও এখনো এমন আয়োজন হলেও আগের মতো নিয়মিত দেখা যায় না।

কাদিগড় পশ্চিমপাড়া পুরাতন জামে মসজিদের এই আয়োজন তাই স্থানীয়দের কাছে শুধু খাবারের অনুষ্ঠান নয়; এটি যেন পুরোনো দিনের সামাজিক বন্ধন ও সাম্যের এক স্মৃতিকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।

প্রবীণ কয়েকজন বলেন, একসময় গ্রামবাংলার বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের আয়োজন ছিল খুবই স্বাভাবিক। সবাই পাশাপাশি বসে খেতেন। এতে মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক ও ভ্রাতৃত্ব আরও দৃঢ় হতো। এখন এসব আয়োজন দিন দিন কমে যাচ্ছে।

তরুণদের কয়েকজন জানান, কলাপাতায় সবাই মিলে একসঙ্গে খাবার খাওয়ার বিষয়টি তাদের কাছে নতুন অভিজ্ঞতা। পুরোনো এই ঐতিহ্য ধরে রাখলে নতুন প্রজন্মও গ্রামবাংলার সংস্কৃতি ও সামাজিক বন্ধনের সঙ্গে পরিচিত হতে পারবে।

স্থানীয়দের মতে, আধুনিকতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার পাশাপাশি গ্রামীণ সংস্কৃতি ও পারস্পরিক সম্প্রীতির এমন ঐতিহ্যগুলোও ধরে রাখা প্রয়োজন। 

source: The Daily Campus

Leave a Reply

Back to top button