আলোচিত নুসরাত হত্যা মামলায় খালাসের পর মুক্তি পেলেন রুহুল-কাউন্সিলর মাকসুদ

ফেনীর সোনাগাজীর আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফী হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড থেকে খালাস পাওয়া মাকসুদ আলম প্রকাশ মোকসুদ কাউন্সিলর ও রুহুল আমিন কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) মাকসুদ আলম ফেনী জেলা কারাগার এবং রুহুল আমিন চট্টগ্রাম কারাগার থেকে মুক্তি পান। পরে তারা পরিবার-পরিজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সঙ্গে দেখা করে ঢাকায় চলে যান বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।
মাকসুদ আলম সোনাগাজী উপজেলার চরগণেশ এলাকার মৃত আহসান উল্যাহর ছেলে। তিনি সোনাগাজী পৌরসভার তৎকালীন কাউন্সিলর এবং পৌর আওয়ামী লীগের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
রুহুল আমিন সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি এবং সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার তৎকালীন গভর্নিং বডির সহ-সভাপতি ছিলেন। তার বাড়ি চরচান্দিয়া ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যানপাড়া এলাকার কোরবান আলী বাড়িতে। তারা দীর্ঘদিন ধরে সপরিবারে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন।
মুক্তির বিষয়ে রুহুল আমিনের চাচাতো ভাই রানা ও মাকসুদ আলমের ছেলে জয় পরিবারের পক্ষ থেকে স্বস্তির কথা জানিয়েছেন। তারা বলেন, সময় লাগলেও দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে তারা ন্যায়বিচার পেয়েছেন।
জানা গেছে, নুসরাত হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৬ আসামির মধ্যে ১০ জনকে খালাস এবং চারজনের মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট। দুই আসামি-সিরাজ উদদৌলা ও শাহাদাত হোসেন শামীমের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ে খালাস পাওয়া ১০ জনের মধ্যে রুহুল আমিন ও মাকসুদ আলমও রয়েছেন।
খালাসপ্রাপ্ত অপর আটজন হলেন কামরুন নাহার মনি, হাফেজ আব্দুল কাদের, মহিউদ্দিন শাকিল, ইমরান হোসেন ওরফে মামুন, আব্দুর রহিম শরীফ, মোহাম্মদ শামীম, ইফতেখার উদ্দিন রানা ও আবছার উদ্দিন। মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন দেওয়া চারজন হলো- নূর উদ্দিন, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জুবায়ের ও উম্মে সুলতানা ওরফে পপির।
এর আগে গত রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে হাইকোর্টের খালাসের আদেশের অনুলিপি ফেনী জেলা কারাগারে পৌঁছায়। জেল সুপার মো. আব্দুল জলিল ও জেলার কাজী মাজহারুল ইসলাম বলেন, আদেশের ভিত্তিতে সোমবার মাকসুদ আলমকে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
আরও খবর: স্বস্তি মিলল যুক্তরাষ্ট্রে থাকা বিদেশি শিক্ষার্থী-সাংবাদিকদের, ভিসায় ট্রাম্পের কড়াকড়ি আটকে গেল আদালতে
অন্যদিকে রুহুল আমিন চট্টগ্রাম জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। খালাসপ্রাপ্ত অপর সাত আসামি গাজীপুরের কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার এবং কামরুন নাহার মনির গাজীপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় মামলা হলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলা তুলে না নেওয়ায় ৬ এপ্রিল মাদরাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের হাত-পা বেঁধে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল নুসরাতের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় তার বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।
২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশীদ মামলাটির রায় ঘোষণা করেন। রায়ে তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। পরে আসামিরা উচ্চ আদালতে আপিল করেন।
হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ে ১৬ আসামির মধ্যে দুজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল, চারজনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন এবং ১০ জনকে খালাস দেওয়া হয়। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, খালাসপ্রাপ্ত ১০ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণের মতো পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
source: The Daily Campus