News

মধ্যপ্রাচ্যের সাগরে হামলার শিকার বাংলাদেশি মেরিন ইঞ্জিনিয়ার আমান উদ্ধার, রোমহর্ষক বর্ণনা সাইয়েদ আবদুল্লাহর

ওমান উপকূলে হামলার শিকার হওয়া জাহাজ থেকে বাংলাদেশি মেরিন ইঞ্জিনিয়ার চিফ ইঞ্জিনিয়ার আমান উল্লাহকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি ওমানের আতানা রিসোর্টে অবস্থান করছেন এবং সম্পূর্ণ সুস্থ ও শঙ্কামুক্ত আছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (যুব কর্মসংস্থান) মো. সাইয়েদ বিন আবদুল্লাহ। 

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এসব তথ্য জানান।

সাইয়েদ বিন আবদুল্লাহ লিখেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সাগরসীমায় সংঘটিত হওয়া আক্রমণজনিত একটা দুর্ঘটনায় বাংলাদেশের মেরিন ইঞ্জিনিয়ার কমিউনিটিতে একটা ভীতিকর অবস্থা বিরাজ করছিলো গতকাল বিকেল থেকে। ওমান উপকূলে থাকা যেই জাহাজ আক্রমণের শিকার হয়েছিলো, সেখানে ছিলেন বাংলাদেশী নাগরিক চিফ ইঞ্জিনিয়ার আমান উল্লাহ। জাহাজের ইঞ্জিনরুমে চালানো হামলায় একজন (নন বাংলাদেশি) প্রাণ হারিয়েছিলেন তখনই, জাহাজে আগুন ধরে গিয়েছিলো। পুরো জাহাজে বাংলাদেশি ছিলেন একজনই, ইঞ্জিনিয়ার আমান।

তিনি লেখেন, এরপর বেশকিছুক্ষণ ধরে খোঁজ খবর পাওয়া যাচ্ছিলো না ইঞ্জিনিয়ার আমানের। ভীতিকর একটা অনিশ্চয়তার পরিবেশ তৈরী হয়েছিলো। মেরিন ইঞ্জিনিয়ার আমান উল্লাহর ছেলে সাকিব আমান এর উৎকণ্ঠাজড়িত ফেইসবুক পোস্টগুলো দ্রুতই ছড়িয়ে পড়তে থাকে স্যোসাল মিডিয়ায়। সেটার প্রেক্ষিতেই তার সাথে যোগাযোগ করি গতকাল রাতে। এরপর ছেলের কাছ থেকে তার বাবার সব ডিটেইল তথ্য কালেক্ট করার পর অফিসিয়াল চ্যানেলগুলোতে যোগাযোগ করতে থাকি। ছেলের কাছ থেকে পাওয়া ফোন নাম্বারে একটা পর্যায়ে গিয়ে ডিরেক্ট কথা হয় ইঞ্জিনিয়ার আমান উল্লাহর সাথেও।

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট অফিসার এবং ওমানে অবস্থিত বাংলাদেশ এম্বাসির কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করার পর, তারা তড়িৎগতিতে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে থাকে এবং চিফ ইঞ্জিনিয়ার আমান এর সাথে তারা যোগাযোগ স্থাপন করে। ওমানে অবস্থিত বাংলাদেশ এম্বাসি এখন ইঞ্জিনিয়ার আমান এর সার্বিক ব্যবস্থাপনার ব্যাপারে তৎপর আছে।

সাইয়েদ বিন আবদুল্লাহ স্ট্যাটাসে ওমানে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তার পাঠানো একটি অফিসিয়াল বার্তাও হুবহু শেয়ার করেন। সেখানে বলা হয়—

বিষয়: ওমান উপকূলে আক্রান্ত ‘এমভি কেপ দাও’ (MV Cape Dao) জাহাজে অবস্থানরত বাংলাদেশী প্রকৌশলী জনাব আমানের উদ্ধার এবং বর্তমান অবস্থা সম্পর্কিত জরুরি প্রতিবেদন।

উপযুক্ত বিষয়ে অবহিত করা যাচ্ছে, ওমানের মুসান্দাম গভর্নরেটের উপকূল থেকে প্রায় ২.৫ নটিক্যাল মাইল দূরে আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার পতাকাবাহী বাল্ক ক্যারিয়ার ‘এমভি কেপ দাও’ (MV Cape Dao)-আক্রান্ত হয়। ওই জাহাজে কর্মরত ২৮ জন ক্রুর মধ্যে আমান নামের একজন বাংলাদেশী নাগরিক মেরিন প্রকৌশলী (Engineer) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

১. উদ্ধার ও শারীরিক অবস্থা:
ঘটনার পরপরই ওমান রয়্যাল নেভি এবং ওমান কোস্ট গার্ড যৌথ উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। জাহাজের অন্যান্য বেঁচে যাওয়া ক্রু সদস্যদের সাথে বাংলাদেশী প্রকৌশলী আমানকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ ও শঙ্কামুক্ত আছেন।

২. বর্তমান অবস্থান:
ওমানি কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনায় উদ্ধারকৃত ক্রুদের সাময়িকভাবে ওমানের ‘আতানা রিসোর্ট’ (Atana Resort)-এ আবাসন ও প্রয়োজনীয় সার্বিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। জনাব আমান বর্তমানে উক্ত রিসোর্টে অবস্থান করছেন।

৩. দূতাবাসের যোগাযোগ ও মনিটরিং:
বাংলাদেশ দূতাবাস, মাস্কাট ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই ওমানের সংশ্লিষ্ট সামুদ্রিক নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ (Maritime Security Center) এবং হোটেল কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় সাধন করেছে। জনাব আমান এবং বাংলাদেশে অবস্থানরত তার পরিবারের সদস্যদের সাথে দূতাবাসের পক্ষ থেকে সরাসরি ও নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ বজায় রাখা হচ্ছে। তাদের যেকোনো প্রশাসনিক, শারীরিক বা মানসিক সহযোগিতায় দূতাবাস সার্বক্ষণিক পাশে রয়েছে।

৪. পরবর্তী পদক্ষেপ:
আমানের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন এবং তার আইনি ও দাপ্তরিক কাগজপত্র/ভাতা সংক্রান্ত বিষয়ে জাহাজের মূল পরিচালনকারী সংস্থা ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সাথে দূতাবাস প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে। বিষয়টি সদয় অবগতির জন্য উপস্থাপন করা হলো।”

স্ট্যাটাসে সাইয়েদ বিন আবদুল্লাহ লেখেন, ওমানে অবস্থিত বাংলাদেশের এম্বাসি এবং আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন ডিজি সার্বক্ষণিক খোঁজ খবর রাখছেন বলে, তারা আমাকে অবহিত করেছেন। কাজেই আপাতত বাংলাদেশি মেরিনারকে নিয়ে আর তেমন কোন দুশ্চিন্তার কারণ নেই বলেই আশ্বস্ত হওয়া যেতে পারে এবং সে যাতে নিরাপদে বাংলাদেশে তার পরিবারের কাছে ফিরতে পারে, সেটা সরকার নিশ্চিত করবে ইনশাআল্লাহ।

source: The Daily Campus

Leave a Reply

Back to top button