News

চাঁদাবাজির অবসান চাই—সালমানের স্টুডিওতে হামলার ঘটনায় উত্তাল নেটদুনিয়া

রাজধানীর ইসিবি চত্বরে জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মোহাম্মদ মুক্তাদিরের নিজস্ব স্টুডিওতে (ব্রাউনফিশ স্টুডিও) দুর্বৃত্তদের ব্যাপক হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এই নজিরবিহীন ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্যে আসার পরই প্রতিবাদ ও ক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে নেটদুনিয়া।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্টুডিও সূত্রে জানা যায়, একদল দুর্বৃত্ত হঠাৎ স্টুডিওটিতে প্রবেশ করে তাণ্ডব চালায়। শুটিংয়ের দামি ক্যামেরা, আলোকসজ্জার সরঞ্জাম, মেমোরি কার্ড ও টেলিভিশনসহ মূল্যবান যন্ত্রপাতি লুট করে নেওয়া হয়। যা তারা সঙ্গে নিতে পারেনি, তা আছড়ে ভেঙে চুরমার করে দিয়ে যায়। এমনকি ইউটিউবের গোল্ডেন প্লে বাটনসহ বিভিন্ন স্মারকও ভাঙচুর থেকে রেহাই পায়নি।

হামলার পর ধারণ করা এক ভিডিওতে দেখা যায়, নিজের দীর্ঘ ১২ বছরের সাধনা ও পরিশ্রমে গড়ে তোলা স্টুডিওটির এমন পরিণতি দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন সেখানে কর্মরত তরুণ কর্মীরা। তবে কর্মীদের সাহস জুগিয়ে এবং শান্ত থাকার পরামর্শ দিয়ে সালমান মুক্তাদির বলেন, ‘সম্পদ ধ্বংস করা গেলেও মানুষের মেধা ও স্বপ্নকে এভাবে দমিয়ে রাখা যায় না।’ ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে না পারলেও তা বিপুল অঙ্কের বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে স্টুডিওতে এমন বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদ জানিয়েছেন দেশের বিশিষ্ট নাগরিক, বিনোদন জগতের ব্যক্তিবর্গ ও সাধারণ নেটিজেনরা। আলোকচিত্রশিল্পী শহিদুল আলম ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সালমানের সাহসের প্রশংসা করেন এবং দেশে চলমান চাঁদাবাজি সংস্কৃতির চিরতরে অবসান চেয়ে অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

নির্মাতা মাবরুর রশিদ বান্নাহ হামলার পর সালমানের ধারণ করা ভিডিওটি ফেসবুকে শেয়ার করে গভীর আবেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, ‘সালমানের এই হাসিটা মনে গেঁথে নেন বাংলাদেশের জনগণ। কথাগুলো শুনুন মন দিয়ে।’ তার এই পোস্টের মাধ্যমে তিনি দেশের বর্তমান পরিস্থিতি এবং একজন ক্রিয়েটরের অসহায় অথচ সাহসী মনোভাবের প্রতি সবাইকে দৃষ্টি দেওয়ার আহ্বান জানান।

জনপ্রিয় উপস্থাপক ও আরজে কিবরিয়া তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে বিষয়টি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি লেখেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উচিত অবিলম্বে সালমান মুক্তাদিরকে ডেকে তার ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ শোনা এবং সব ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা। সেই সঙ্গে দ্রুত সময়ের মধ্যে অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।’ আরজে কিবরিয়া আরো উল্লেখ করেন, স্টুডিওতে এমন সন্ত্রাসী হামলায় দেশের কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

source: Daily Amar Desh

Leave a Reply

Back to top button