News

হাদিকে গুলির পর নিরাপত্তার জন্য অস্ত্রটির লাইসেন্স নেন ইশরাক, যে কারণে নেই হলফনামায়

রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় রেললাইনসংলগ্ন একটি বস্তিতে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে আটক করেছেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। পরে তাদের পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। অভিযানের ভিডিওতে প্রতিমন্ত্রীর হাতে একটি পিস্তল দেখা গেছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) ঢাকা-৬ আসনের ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডের গেন্ডারিয়া থানাধীন রেললাইনসংলগ্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের দুটি ভিডিও নিজের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী। প্রকাশিত ভিডিওতে কয়েকজনকে হাতকড়া পরিয়ে পুলিশের সাথে নিয়ে যেতে দেখা যায়। এ সময় প্রতিমন্ত্রীর হাতেও একটি পিস্তল দেখা গেছে। তবে অস্ত্রটির কিছু অংশ ঝাপসা করে দেওয়ায় সেটির ধরন নিশ্চিত হওয়া যায়নি। 

গণমাধ্যমকে দেওয়া এক বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক বলেন, তাঁর হাতে থাকা অস্ত্রটি বৈধ। তবে নির্বাচনের সময় রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে দেওয়া তাঁর হলফনামায় আগ্নেয়াস্ত্র থাকার কথা উল্লেখ করা হয়নি। প্রতিমন্ত্রী ইশরাক বলেন, তিনি অস্ত্রটি নিয়েছেন ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করার পর। যখন তিনি এটি নিয়েছেন, তখন মনোনয়নপত্রে দেখানোর সুযোগ ছিল না।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, তিনি একজন জনপ্রতিনিধি। তাঁর সংসদীয় আসনের মধ্যে গেন্ডারিয়ার রেলস্টেশন–সংলগ্ন দয়াগঞ্জ ঘুণ্টিঘর এলাকাটি পড়েছে। সেখানে মাদক ব্যবসা হয়। এলাকার মানুষ বারবার তাঁর কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন। তিনি পুলিশকে বিষয়টি জানিয়েছেন। তবে কাজ হয়নি। এ কারণে বাধ্য হয়ে তিনি সেখানে গেছেন। তিনি বলেন, পুলিশ কোনো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি। তিনি অন্ততপক্ষে ৩০-৪০ বার পুলিশের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তারা একেক সময় একেক কথা বলে। তাদের জনবল কম, গাড়ি নেই—এসব কথা বলে। এর আগে সেখানে অভিযান চালাতে গিয়ে কয়েকজন পুলিশ গুলিবিদ্ধ হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর পুলিশ এখনো ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। মাদক ব্যবসায়ীরা দূর থেকে গুলি করে দেয়। সে কারণে তাঁর হাতে অস্ত্র ছিল। তিনি বলেন, ‘আমি তো আর গুলি করি নাই, ওটা নিয়ে কাউকে ভয়ও দেখাই নাই। হ্যাঁ, অভিযান আমরা করেছি, আমরা সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলছি।’

মাদক ব্যবসায়ীদের ছাড় নয়: ইশরাক
ইশরাক হোসেনের মিডিয়া সেলের পাঠানো এক বার্তায় জানানো হয়, ঢাকা-৬ আসনকে মাদকমুক্ত না করা পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদক কারবারিরা যে দলেরই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। এমনকি নিজের দলের কেউ মাদক কারবারে জড়িত থাকলে তার শাস্তি আরও কঠোর হবে বলেও জানান তিনি।

অভিযান চলাকালে এলাকাবাসীর উদ্দেশে ইশরাক হোসেন বলেন, মাদক বিক্রেতাদের ঢাকা-৬ আসনে কোনো জায়গা নেই। মাদকের কারণে তরুণ সমাজ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি জানান, গত ছয় মাস ধরে গোয়েন্দাদের মাধ্যমে এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, যারা বাইরে থেকে এলাকায় মাদক সরবরাহ করে, তাদের শনাক্ত ও আটক করতে সহযোগিতা করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মূল্যায়ন করা হবে। ঢাকা-৬ আসন থেকে শুরু হওয়া মাদকবিরোধী অভিযান সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।

অভিযানের সময় আটক ব্যক্তিরা ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানালে তাদের আশ্বস্ত করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, তাদের গায়ে কেউ হাত দেবে না; পুলিশ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই তাদের শাস্তি নির্ধারিত হবে।

এ বিষয়ে গেন্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান মনির জানান, প্রতিমন্ত্রী ছয়জনকে আটক করার পর থানায় ফোন করেন। পরে পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের থানায় নিয়ে আসেন। ওসি আরও জানান, আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে সাদা পাউডারজাতীয় পদার্থ পাওয়া গেছে। সেগুলো হেরোইন কি না, তা পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এর আগেও ঢাকা-৬ আসনের বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। আসনটিকে মাদকমুক্ত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি এলাকাবাসীর সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।

source: The Daily Campus

Leave a Reply

Back to top button