সম্প্রতি ‘ধর্ষণ-নিপীড়নের’ ঘটনাগুলো অত্যন্ত দুঃখজনক ও লজ্জাকর: ধর্মমন্ত্রী

সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ‘ধর্ষণ-নিপীড়নের’ ঘটনাগুলোকে অত্যন্ত দুঃখজনক ও লজ্জাজনক বলে মন্তব্য করেছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ। এ ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধে জুমার খুতবায় সচেতনতামূলক আলোচনা করার জন্য তিনি ইমামদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।
গতকাল শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে জাতীয় ইমাম সমিতির ত্রিবার্ষিক কাউন্সিল অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
গাজীপুরের টঙ্গীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সম্প্রতি মাদরাসায় ‘ধর্ষণ-নিপীড়ন ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড’ ঘিরে তৈরি হওয়া দেশব্যাপী সমালোচনা ও বিতর্ক নিয়ে সরকারের পদক্ষেপ জানতে চান সাংবাদিকরা।
জবাবে ধর্মমন্ত্রী বলেন, ‘আমি একটু চিকিৎসার জন্য বাইরে ছিলাম। ওখান থেকেও কিছুটা লক্ষ করেছি, দেশে এসেও লক্ষ করেছি। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক ও লজ্জাকর।’
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘ভবিষ্যতে এই জিনিসটা ঘটবে না বলে আমি বিশ্বাস করি। আমরা সে ব্যাপারে যা করা প্রয়োজন, তাই করব, ইনশাআল্লাহ।’
এ ধরনের অপরাধ ও বিতর্ক রোধে মসজিদ থেকে সচেতনতা সৃষ্টির তাগিদ দিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘আপনারা লক্ষ করেছেন, আমার বত্তৃদ্ধতায় বলেছি ইমাম সাহেবদের, আপনারা খুতবায় এই বিষয়গুলো তুলে আনবেন। কারণ ইমাম সাহেবরা যদি খুতবায় এই বিষয়গুলো উল্লেখ করেন এবং শরিয়তের নির্দেশ অনুযায়ী কোনটা হারাম, কোনটা হালাল, কোনটা কী, এগুলো বোঝান, এটা অনেক কাজে লাগবে।’
বিষয়টিতে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের গুরুত্বের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে অত্যন্ত সচেতন। উনি আমাদের নির্দেশনাও দিয়েছেন যাতে এ জিনিসগুলো থেকে আমরা বেঁচে থাকতে পারি, জনগণ বেঁচে থাকতে পারে।’
বক্তব্যের এক পর্যায়ে আলেম-উলামাদের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার ব্যক্ত করে মন্ত্রী কায়কোবাদ বলেন, ‘ইমামদের জন্য যদি দরকার হয় গায়ের রক্ত দিতে হলেও দিতে দ্বিধা বোধ করব না। শুধু ইমামরা নয়, এ দেশের আলেম, কওমি, উলামায়ে কেরাম যাঁরা আছেন, যাঁরা ইসলামের ধারক-বাহক, তাঁদের জন্য যদি রক্ত দিতে হয় তা-ও দেব ইনশাআল্লাহ।’
তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও ধর্মীয় সেবকদের সম্মানি দেওয়ার বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে পর্যায়ক্রমে সম্মানি ভাতা দেওয়া শুরু হয়েছে।’
source: Barta Bazar