আইএলডি জরিপ: বিএনপি ও জামায়াত জোটের মধ্যে ব্যবধান মাত্র ০.২০ শতাংশ

প্রবাস কন্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট:
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াত নেতৃত্বাধীন দুই জোটের মধ্যে প্রায় সমান প্রতিদ্বন্দ্বিতার চিত্র উঠে এসেছে সাম্প্রতিক একটি জরিপে। ইনস্টিটিউট ফর লিডারশিপ ডেভেলপমেন্ট (আইএলডি) পরিচালিত এই জরিপ অনুযায়ী, দুই জোটের ভোটার সমর্থনের ব্যবধান মাত্র ০.২০ শতাংশ।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ফারস হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জরিপের ফলাফল প্রকাশ করা হয়। জরিপটি চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পরিচালিত হয়েছে বলে জানায় সংস্থাটি।
জরিপের মূল ফলাফল
জরিপে দেখা গেছে, বিএনপি জোটের পক্ষে সমর্থন রয়েছে ৪৪.১ শতাংশ ভোটারের, অন্যদিকে জামায়াত জোটের পক্ষে রয়েছে ৪৩.৯ শতাংশ। আসনভিত্তিক পূর্বাভাসে ১০৫টি আসনে জামায়াত জোট এবং ১০১টি আসনে বিএনপি জোট এগিয়ে থাকার চিত্র পাওয়া গেছে। এছাড়া ৭৫টি আসনে দুই জোটের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে বলে জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে।
লিঙ্গভিত্তিক পছন্দে ভিন্নতা
জরিপের ফলাফল বিশ্লেষণে ভোটারদের লিঙ্গভেদে রাজনৈতিক পছন্দে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়েছে। পুরুষ ভোটারদের মধ্যে বিএনপি জোট অধিক সমর্থন পেলেও নারী ভোটারদের মধ্যে জামায়াত জোটের প্রতি সমর্থন তুলনামূলকভাবে বেশি। মোট উত্তরদাতার মধ্যে পুরুষ ভোটার ছিলেন ৫৭.৫৯ শতাংশ এবং নারী ভোটার ৪২.৪১ শতাংশ।
ভোটারদের পছন্দের কারণ
জরিপে অংশ নেওয়া ভোটারদের কাছে তাদের রাজনৈতিক পছন্দের কারণ জানতে চাওয়া হয়েছিল। বিএনপি জোটকে সমর্থনকারীরা সরকার পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা, অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলার প্রত্যাশা এবং অতীত শাসনামলের অভিজ্ঞতাকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
অপরদিকে, জামায়াত জোটের সমর্থকরা নৈতিকতা, সুশাসনের প্রতিশ্রুতি, দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান এবং ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাকে তাদের পছন্দের কারণ হিসেবে তুলে ধরেছেন।
জরিপের পরিসংখ্যান
বয়সভিত্তিক বিভাজনে দেখা যায়, ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সী ভোটার ছিলেন ২৭.৪৮ শতাংশ, ৩০ থেকে ৪৪ বছর বয়সী ৪১.২৫ শতাংশ, ৪৫ থেকে ৫৯ বছর বয়সী ২৩.৭৭ শতাংশ এবং ৬০ বছরের বেশি বয়সী ভোটার ৭.৫০ শতাংশ।
শিক্ষাগত যোগ্যতার দিক থেকে সর্বাধিক অংশগ্রহণ পরিলক্ষিত হয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের ভোটারদের মধ্যে। ধর্মীয় পরিচয়ে মুসলিম ভোটার ছিলেন ৮৭.৪৭ শতাংশ, হিন্দু ১০.৭৪ শতাংশ এবং বাকি অংশ বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও অন্যান্য ধর্মাবলম্বী।
জরিপ পদ্ধতি
আইএলডি জানিয়েছে, জরিপটি ছিল জাতীয় পর্যায়ের এবং এতে টু-স্টেজ স্ট্র্যাটিফায়েড র্যান্ডম স্যাম্পলিং পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে। দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনকে পৃথক স্ট্র্যাটাম হিসেবে বিবেচনা করে প্রতিটি আসনের ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড থেকে দৈবচয়ন পদ্ধতিতে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।
প্রতিটি আসনে ১০০ থেকে ৩০০ জন ভোটারের মতামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং সকল উপজেলা থেকে তথ্য সংগ্রহের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানায় প্রতিষ্ঠানটি। পরবর্তীতে পোস্ট-স্ট্র্যাটিফিকেশন পদ্ধতিতে তথ্য ভারসাম্য করা এবং মান নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
Source: thedhakadiary.com

