‘স্ত্রী ডিভোর্স দিলেও’ দেনমোহর পরিশোধ করতে হবে স্বামীকে

প্রবাস কন্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট:
বিবাহবিচ্ছেদ স্বামী বা স্ত্রীর—যার উদ্যোগেই হোক না কেন, নির্ধারিত দেনমোহর পরিশোধে স্বামী আইনগতভাবে বাধ্য। তবে বাস্তবে অনেক নারীই তাদের এই বৈধ অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এমন প্রেক্ষাপটে দেনমোহর আদায়ে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে রোববার (৫ জুলাই) হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন দায়ের করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার ফাহমিদা আখতার।
রিটে বলা হয়েছে, ইসলামী শরিয়াহ ও দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী দেনমোহর স্ত্রীর বৈধ ও আইনসিদ্ধ অধিকার। বিয়ের সময় নির্ধারিত দেনমোহর পরিশোধ করা স্বামীর আইনগত দায়িত্ব। বিবাহবিচ্ছেদ কে করেছেন বা কী কারণে হয়েছে, তা দেনমোহর পরিশোধের বাধ্যবাধকতাকে প্রভাবিত করে না।
ব্যারিস্টার ফাহমিদা আখতার বলেন, মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী দেনমোহর পরিশোধ বাধ্যতামূলক হলেও বাস্তবে বিলম্বিত দেনমোহর অনেক বছর পরও আগের নির্ধারিত অর্থমূল্যেই পরিশোধ করা হয়। ফলে সময়ের সঙ্গে অর্থের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় নারীরা প্রকৃত আর্থিক সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হন।
রিটে একটি উদাহরণ তুলে ধরে বলা হয়েছে, যদি ২০ বছর আগে দুই লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ে হয় এবং এর মধ্যে এক লাখ টাকা তাৎক্ষণিক পরিশোধ করে বাকি এক লাখ টাকা বিলম্বিত দেনমোহর হিসেবে নির্ধারণ করা হয়, তাহলে দুই দশক পর বিবাহবিচ্ছেদের সময় একই এক লাখ টাকা পরিশোধ করা বাস্তব অর্থনৈতিক মূল্য বিবেচনায় ন্যায্য হয় না। এতে দেনমোহরের মূল উদ্দেশ্য, অর্থাৎ নারীর আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ব্যাহত হয়।
এ কারণে বিবাহের এক বছর বা তার বেশি সময় পর পরিশোধযোগ্য দেনমোহরের মূল্য নির্ধারণ, আদায় পদ্ধতি এবং বাস্তবায়ন নিয়ে একটি সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। রিটে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব এবং লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে।
এছাড়া মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ১০ ধারার আওতায় দেনমোহর আদায়ের জন্য একটি সমন্বিত নির্দেশিকা প্রণয়নের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারির আবেদন করা হয়েছে।
রিটে আরও বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত নীতিমালায় বিবাহের এক বছর পর প্রদেয় দেনমোহরের মূল্যায়ন ও আদায়ের পদ্ধতি নির্ধারণের মাধ্যমে নারীদের আর্থিক অধিকার সংরক্ষণ, আইনের বিদ্যমান অস্পষ্টতা দূর করা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
ব্যারিস্টার ফাহমিদা আখতার বলেন, সমাজে একটি ভুল ধারণা প্রচলিত রয়েছে যে, স্ত্রী যদি তালাক দেন বা সংসার ছেড়ে চলে যান, তাহলে স্বামী আর দেনমোহর দিতে বাধ্য নন। কিন্তু আইন এমনটি বলে না। তার ভাষায়, দেনমোহর পরিশোধ করা স্বামীর আইনগত দায়িত্ব এবং বিবাহবিচ্ছেদ কার উদ্যোগে হয়েছে, তা এ ক্ষেত্রে বিবেচ্য নয়। এটি নারীর বৈবাহিক অধিকার, যা আইন দ্বারা সুরক্ষিত।
তিনি আরও বলেন, বিলম্বিত দেনমোহরের মূল্য সময়ের সঙ্গে সমন্বয় করা হলে স্বামীরা বিয়ের সময়ই তাৎক্ষণিক দেনমোহর পরিশোধে আরও উৎসাহিত হবেন। এতে নারীদের বৈবাহিক আর্থিক অধিকার আরও কার্যকরভাবে নিশ্চিত হবে এবং তাদের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকবে।
প্রবাস কন্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট/আ/মু
Source: mirrornews24.net

