Jannah Theme License is not validated, Go to the theme options page to validate the license, You need a single license for each domain name.
Bd বাংলাদেশ

পদের জন্য নিজেদের তথ্য শিবিরকে দিত সাদা দল, শিবির নেতার পোস্ট

প্রবাস কন্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট:

নোবিপ্রবি প্রতিনিধি

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) প্রশাসনিক পদ লাভের আশায় জাতীয়তাবাদী শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দলের এক নেতার গোপন তথ্য শাখা ছাত্রশিবিরের নেতাদের দিত সাদা দলের অন্য পদপ্রত্যাশী নেতারা। সম্প্রতি জুলাই গণঅভ্যুত্থান থেকে দায়িত্বপালন করা সদ্য সাবেক নোবিপ্রবি শিবিরের সভাপতি আরিফুল ইসলামের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগ এবং সাদা দলের শিক্ষকদের পদ পাওয়ার সম্ভাবনাকে কেন্দ্র তাদেরকে সতর্কতামূলক এমন পোস্ট দিয়েছেন দাবি শিবিরের এই সাবেক সভাপতির।

গতকল (১৬ মে) ফেসবুকে দেওয়া ওই পোস্টে শাখা শিবিরের সাবেক সভাপতি আরিফুল ইসলাম লিখেছেন, ৫ আগস্টের পর নোবিপ্রবির অধিকাংশ শিক্ষার্থীর আশা ছিল অন্তত শ্রদ্ধেয় শফিক স্যার ভাইটাল ৩ পদের যেকোনো একটিতে আসুক। আমিও ব্যক্তিগতভাবে সেটাই চেয়েছিলাম। কিন্তু স্যারের এ পদে আসার অন্যতম বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল সাদা দলেরই কিছু শিক্ষক।

তিনি পোস্টে আরও উল্লেখ করেন, উপাচার্য নিয়োগের পর যখন অধ্যাপক ড. শফিকুল ইসলামের প্রো-ভিসি হওয়ার গুঞ্জন চলছিল, তখন সাদা দলের বর্তমান “সুপার থ্রি” নেতৃত্বের একজন শিক্ষক তাঁকে রেস্টুরেন্টে ডেকে নিয়ে শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তোলেন। এসময় তাঁর হাতে কিছু ছবি ও মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগে পাঠানোর জন্য একটি অভিযোগপত্র তুলে দেওয়া হয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

পোস্টের সঙ্গে সংযুক্ত অভিযোগপত্রে অধ্যাপক ড. শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে আওয়ামীপন্থী শিক্ষক রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা, প্রশাসনিক সুবিধা গ্রহণ এবং বিভিন্ন কমিটিতে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ আনা হয়। চিঠিতে বলা হয়, তিনি ২০০৬ সালে নিয়োগ পাওয়ার পর নিজেকে সাদা দলের সদস্য হিসেবে পরিচয় দিলেও সে বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক নোটিশ বা অনুমোদনের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

আরিফুল ইসলামের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই শিক্ষক তাঁকে বলেন, শফিক স্যার সাদা দলের কেউ ছিল না, তিনি আওয়ামী আমলে সব সুযোগ সুবিধা ভোগ করেছেন তোমরা এ বিষয়ে সতর্ক থেকো।

চিঠিতে আরও দাবি করা হয়, গত ১৭ বছরে তিনি ফ্যাকাল্টি অ্যাওয়ার্ডশিপ, বিভিন্ন প্রশাসনিক দায়িত্ব ও আর্থিক সুবিধা পেয়েছেন এবং সাবেক উপাচার্যের আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এছাড়া ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে তিনি নিজেকে সাদা দলের সভাপতি ঘোষণা করে শিক্ষকদের আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে সমর্থন তৈরির চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ করা হয়। তবে আরিফুল ইসলাম তাঁর পোস্টে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, তিনি কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওই চিঠি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠাননি।

পোস্টের শেষাংশে তিনি লেখেন, উদ্দেশ্য বিভেদ তৈরি করা নয়। বরং ক্ষমতা ও সুযোগ সুবিধার জন্য শিক্ষকরাও সবকিছু করতে পারে, সেটিই তুলে ধরা। আর স্যারের সামনে যেহেতু নতুন সুযোগ এসেছে, তাই আপন শত্রু সম্পর্কে সতর্ক করা।

সাবেক শিবির সভাপতির পোস্টের কমেন্টে বর্তমান ছাত্রশিবিরের প্রচার সম্পাদক ও বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ও নোয়াখালী জেলার সদস্য সচিব বনি ইয়ামিন সাদা দলের সাধারণ সম্পাদক ড. জাহাঙ্গীর সরকার ও সাংগঠনিক সম্পাদক ড.মাসুদ কাইয়ুমের আওয়ামী কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের কিছু ছবি শেয়ার দিয়ে লিখেন, “রেস্টুরেন্টে ডেকে নিয়ে আমাদের কাছে একজন আরেকজনের নথিপত্র বর্ণনা করতো। এভাবেই সব আমাদের হাতে এসে পরতো।”

তবে সাদা দলের কে কার বিরুদ্ধে তথ্য দিত সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কোনো নাম উল্লেখ করেননি শিবিরের সাবেক সভাপতি আরিফুল ইসলাম।

এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে নোবিপ্রবি সাদা দলের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর সরকার বলেন, “আমরা একসাথে আছি, ছিলাম এবং থাকব। অনেকে অনেক ধরনের কথা বলবে, এগুলো আমি বিশ্বাস করি না। আমাদের সবসময় কথা হয়, আমরা তিনজন ইউনাইটেড। ফেসবুকে কে কী লিখল, সেটি তার স্বাধীনতা।” শিবির নেতাদের রেস্টুরেন্টে নিয়ে গিয়ে একেকজনের বিরুদ্ধে তথ্য দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, “এটি আমার জানা নেই।”

নোবিপ্রবি সাদা দলের সভাপতি অধ্যাপক ড. শফিকুল ইসলাম বলেন, “ফেইসবুকে দেওয়া পোস্টটি কয়েকজন আমাকে ইনবক্সে পাঠাইছে। একজন শিক্ষক হিসেবে এই বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করবো না, যে কেউ তাদের নিজস্ব ফেইসবুকে অনেক লেখায় লিখতে পারে।”

প্রবাস কন্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট/আ/মু

Source: mirrornews24.net

Leave a Reply

Back to top button