আপনার বহু আগে আমি ছাত্রদল করেছি—জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতিকে এসপি

‘আপনাদের নিজের শত্রুকেই এখন ফ্যাসিস্ট বানিয়ে দিচ্ছেন’ কুমিল্লা মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ফখরুল ইসলাম মিঠুকে এ কথা বলেছেন জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) আনিসুজ্জামান। এ সময় তিনি নিজেকে ‘ছাত্রদল করে আসা লোক’ বলেও উল্লেখ করেন। তাদের কথোপকথনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) জাতীয় জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় এ ঘটনা ঘটে।
ভিডিওতে দেখা যায়, বক্তব্যের একপর্যায়ে ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ফখরুল ইসলাম মিঠু পুলিশ সুপারকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনি কুমিল্লায় আসার পর ফ্যাসিস্টরা কুমিল্লায় চলে এসেছে। আপনি তাদের গ্রেপ্তার করছেন না।’
এর জবাবে পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান বলেন, ‘এটা পলিটিকসের মঞ্চ নয়। একটি বাহিনী সম্পর্কে আপনি এভাবে কথা বলতে পারেন না। ছাত্রদল আমি নিজেও করেছি। আপনার বহু আগে আমি ঢাকায় ছাত্রদল করে এসেছি। আপনি যখন কোনো সভায় কথা বলবেন, তখন তথ্য নিয়ে কথা বলবেন।’
পরে আবার মাইকে বক্তব্য নিয়ে ফখরুল ইসলাম মিঠু বলেন, ‘আমরা যখন আপনাদের তথ্য দিই, তখন আপনারা গ্রেপ্তার করেন না।’
জবাবে পুলিশ সুপার বলেন, ‘আপনাদের নিজের শত্রুকেই এখন ফ্যাসিস্ট বানিয়ে দিচ্ছেন। যাকে আপনাদের পছন্দ হয় না, তাঁকেই ফ্যাসিস্ট বানিয়ে দিচ্ছেন।’
তিনি বলেন, ‘৫ আগস্টের পর দেশে কোনো পুলিশ ছিল না। এই পুলিশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এখনো ফ্যাসিস্টের লোকজন পুলিশে আছে। গত ১৭ বছরে বিভিন্ন বিভাগকে শেষ করে দেওয়া হয়েছে। এই সরকারের বয়স মাত্র চার মাস। সরকারকে সময় দিতে হবে। একটি বাচ্চাকেও খাওয়া শিখতে ৯–১০ মাস সময় লাগে।’
পুলিশ সুপার আরও বলেন, ‘দেশে বিচার হচ্ছে। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং পুলিশের হাবিবের (সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান) ফাঁসির রায় হয়েছে। একটু অপেক্ষা করুন। আমি নিজেও ঢাকায় অনেকের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়ে এসেছি।’
জুলাই শহীদ দিবসের ওই আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লার জেলা প্রশাসক রোজি আক্তার, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু, কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান উদবাতুল বারী আবু, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম, পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
source: The Dhaka Diary

