জুলাই নিয়ে অপপ্রচারের দায়ে ঢাবি-জাবির দুইজন ও শিক্ষার্থী নিপীড়ক শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চায় ডাকসু

জুলাই বিপ্লবকে বিতর্কিত ও হেয় করার উদ্দেশ্য়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। এ প্রেক্ষিতে চব্বিশের ১৭ জুলাই ছাত্রলীগের হামলায় আহত ডাকসুর গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক সানজিদা আহমেদ তন্বীসহ জুলাই এর আহত যোদ্ধা ও শহীদদের নিয়ে বিভিন্ন অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে প্লাটফর্মটি।
ডাকসু বলছে, জুলাই বিপ্লব নিয়ে অপপ্রচারের দায়ে ঢাবির অধ্যাপক কাবেরী গায়েন এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রিসালা খানসহ ফ্যাসিবাদী আমলে শিক্ষার্থী নিপীড়নে জড়িত ঢাবি শিক্ষকদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে স্থায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
শনিবার (১৮ জুলাই) ডাকসুর জিএস ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এস এম ফরহাদ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতির মাধ্যমে এসব অভিযোগ ও দাবি জানানো হয়।
ডাকসুর বিবৃতিতে বলা হয়, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছে যে- জুলাই বিপ্লবকে বিতর্কিত ও হেয় করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে জুলাই বিপ্লবের আহত যোদ্ধা ডাকসুর গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক সানজিদা আহমেদ তন্বীসহ জুলাই এর আহত যোদ্ধা ও শহীদদের ঘিরে বিভিন্ন অপপ্রচারের ঘটনাও সেই ধারাবাহিক অপপ্রচারের অংশ বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।”
এতে আরও বলা হয়, “মতপ্রকাশের স্বাধীনতার আড়ালে পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে ইতিহাস বিকৃত করার এবং জুলাই বিপ্লবকে বিতর্কিত রাজনৈতিক বয়ানে প্রতিষ্ঠার অপচেষ্টার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে ডাকসু।”
ডাকসু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিবৃতিতে বলে, “যারা ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তিকর বা অপপ্রচারমূলক তথ্য ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে বিশেষ করে ডাকসুর নির্বাচিত প্রতিনিধি জুলাই এর আহত যোদ্ধাকে নিয়ে অপপ্রচার ছড়ানো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ও কমিউনিস্ট পার্টি অব বাংলাদেশের (সিপিবি) কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য কাবেরী গায়েন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইআইটির অধ্যাপক রিসালা খান প্রমুখের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। একইসাথে জুলাই বিপ্লবের সময় ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনাকে শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি চালাতে উদ্বুদ্ধ করা এবং ফ্যাসীবাদী আমলে শিক্ষার্থী নিপীড়নে জড়িত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে অবিলম্বে স্থায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।”
প্রসঙ্গত, “হলের বড় ভাইয়ের পরামর্শে মুখে টমেটো সস মেখেছিলাম— সানজিদা তন্বী (জুলাই যোদ্ধা)”— এমন একটি ভুয়া উক্তি সম্প্রতি ছড়ানো হয়েছে আওয়ামীপন্থী এক্টিভিস্ট কাজী মামুনসহ বিভিন্ন ফেসবুক একাউন্ট থেকে। সেই ভুয়া উক্তিটি নিজের ফেসবুক পেইজে শেয়ার করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সিনিয়র অধ্যাপক কাবেরী গায়েন। ভুয়া উক্তিটি ছড়ানোর সময় তিনি কৌশলে একটি প্রশ্ন যুক্ত করে দেন, “এও কি সত্যি?”
কাবেরী গায়েন ১৬ জুলাই বিকালে জুলাই আন্দোলন সংক্রান্ত একটি খবরের ফটোকার্ড তার ফেসবুক প্রোফাইলে যুক্ত করে ক্যাপশনে ভুয়া উক্তিটি লেখেন, “বাহ! আরেকটা অত্যন্ত আইকনিক ছবি ছিল এক মেয়ে হাতে লাঠি যার সারা মুখে ছিল রক্ত। আজ তিনি সাক্ষ্য দিয়েছেন দেখলাম যে বড়ভাইয়ের কথায় তিনি মুখে টম্যাটো সস মেখেছিলেন।”
তবে ছাত্রলীগের হাতে ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই আহত ও রক্তাক্ত হওয়া সানজিদা তন্বি গণমাধ্যমকে বলেছেন, “এমন কোন কথা তিনি কখনো বলেননি।” তাছাড়াও আওয়ামীপন্থী কিছু এক্টিভিস্টের প্রোফাইল ও পেইজ ছাড়া কোন নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমে তন্বির এমন উক্তির প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে, অধ্যাপক কাবেরী গায়েনের পোস্টটিকে ঘিরে দেশব্যাপী সমালোচনা শুরু হচ্ছে।
অন্যদিকে, একই ইস্যুতে অর্থাৎ সানজিদা তন্বির সেই ভুয়া উক্তি ঘিরে দৈনিক ভোরের পাতা নামক একটি পত্রিকার নামে বানাবো ফটোকার্ড নিজের ফেসবুক একাউন্টে পোস্ট করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজির সিনিয়র অধ্যাপক ড. রিসালা তাসিন খান।
কিন্তু যাচাইয়ে দেখা যায়, এই ফটোকার্ডটি যে পেইজ থেকে ছড়ানো হয়েছে সেটি মূল ‘ভোরের পাতা’ নামক পত্রিকার ফেসবুক পেইজ নয়। এই পেইজে তৈরির সময় নাম ছিল- ‘সচেতন নাগরিক’। পরে ৪ দফা নাম পরিবর্তন করে ‘Zaima Rahman Friends Club’ করা হয় ২০২৩ সালে। সর্বশেষ ২০২৫ সালের ২৯ জানুয়ারি ’দৈনিক ভোরের পাতা’ নামে নামকরণ করা হয়।
source: The Dhaka Diary

