‘হিন্দু জাতীয়তাবাদ নয়, ভয়ে মোদি সরকারের অনুগত থাকেন বলিউড তারকারা’

প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভ দমনে পুলিশের বলপ্রয়োগের ঘটনায় উত্তাল ভারত। শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনে সমর্থন জানিয়েছে সমাজের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। তবে দু-একজন ব্যতিক্রম ছাড়া প্রায় চুপ রয়েছে বলিউড।
আন্দোলনের ইস্যুতে বলিউডের এই অবস্থান নিয়ে সাংবাদিক মেহেদি হাসানের পডকাস্টে আলাপ করেছেন ভারতীয় সাংবাদিক শ্রীনিবাসন জৈন। ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরোধিতা করার ক্ষেত্রে বলিউড তারকারা কেন চুপ থাকেন, সে বিষয়ে আলাপ করেন তারা।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি ডাকলেই বলিউড তারকারা কোনো অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমর্থন জানাতে চলে আসেন। হিন্দুত্ববাদী ভাবাদর্শে বিশ্বাস, নাকি নিজেদের ক্যারিয়ার ও পরিবারের নিরাপত্তার ভয়ে বলিউড তারকারা এমন করেন? এ বিষয়ে শ্রীনিবাসন শাহরুখ খানের উদাহরণ দেন শ্রীনিবাসন। তিনি বলেন, শাহরুখের ছেলেকে মাদক মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, যা মূলত তার ওপর সরকারের একটা চাপের অংশ বলে মনে করেন শ্রীনিবাসন।
শুধু বলিউড নয়, ক্রিকেটার, অ্যাথলিট ও শিল্পপতিরাও এই চাপে থাকেন। মোদি সরকারের সমালোচনা করলে বা তাদের কথা না শুনলে বিভিন্ন তদন্তকারী সংস্থাকে পেছনে লেলিয়ে দেওয়া হয় বলে জানান তিনি।
এই সাংবাদিক জানান, মাঝে মাঝে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়। তিনি বলেন, ‘এক কৌতুক অভিনেতার অফিসের একাংশ ভেঙে ফেলা হয়েছিল এবং মোদি সরকারের সমালোচনাকারী এক ব্যক্তির সহযোগীর বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়েছিল।’
তারকাদের দিয়ে কেবল টুইট বা সমর্থনই আদায় করা হচ্ছে না, বরং একের পর এক উগ্র জাতীয়তাবাদী ও বিতর্কিত প্রচারণামূলক চলচ্চিত্র তৈরি করানো হচ্ছে বলেও জানান শ্রীনিবাসন।
ভারতীয় এই সংবাদিক আরো জানান, ‘জনপ্রিয়তাও তারকাদের সুরক্ষা দিতে পারে না। ভারতে আমির খান ও শাহরুখ খানের মতো বিশ্বখ্যাত তারকাদের অগাধ জনপ্রিয়তাও তাদের সরকারের রোষানল থেকে বাঁচাতে পারে না। মোদি সরকারের প্রথম মেয়াদে দেশে মুসলিমদের ওপর হামলার ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে আমির খান ও তার স্ত্রী দেশ ছাড়ার কথা ভেবেছিলেন। এরপর তার বিরুদ্ধে অনলাইন প্রচারণা চালানো হয় এবং তার বেশ কিছু বাণিজ্যিক চুক্তি বাতিল হয়ে যায়।’
আরএ
source: Daily Amar Desh

