সর্বশেষ

আন্দোলনকারীদের অধিকাংশই জামায়াতপন্থি মৌলবাদী: শুভেন্দু

ভারতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদ কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সহিংসতায় ‘বিদেশি মদদপুষ্ট ইসলামপন্থি মৌলবাদী’ গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে অভিযোগ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি দাবি করেন, আন্দোলনে সহিংসতায় জড়িত ব্যক্তিদের অধিকাংশই শিক্ষার্থী নন; বরং তারা জামায়াতপন্থি মৌলবাদী এবং তাদের পেছনে কোনো বিদেশি শক্তির সমর্থন ছিল কি না, তা তদন্তকারী সংস্থাগুলো খতিয়ে দেখবে।

রোববার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ওই ব্যক্তিদের সঙ্গে মূল আন্দোলনের কোনো সম্পর্ক নেই।তারা শিক্ষার্থী নয়, বরং জামায়াতি মৌলবাদী।গত শুক্রবার নিট (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে আয়োজিত বিক্ষোভে বামপন্থি সমর্থিত আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে।

ঘটনার পর সহিংসতার সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে রাজ্যের সদ্য প্রণীত ‘অ্যান্টি-গুন্ডা’ আইন প্রয়োগের ঘোষণা দিয়েছে প্রশাসন।এ বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, যারা সহিংসতার সঙ্গে জড়িত, তাদের এমন শাস্তি দেওয়া হবে যা তাদের পরবর্তী তিন প্রজন্মও মনে রাখবে।এর আগে বিধানসভাতেও তিনি দাবি করেছিলেন, চিহ্নিত প্রায় ৭০ জনের কেউই শিক্ষার্থী নন।

শুভেন্দু অধিকারীর মতে, রাজ্যে অবৈধ মাদ্রাসার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ, ওবিসি সনদ সংক্রান্ত আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন, গবাদিপশু জবাই-সংক্রান্ত আইন প্রয়োগ এবং শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের প্রতি ক্ষোভ থেকেই এই সহিংসতা উসকে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে।বিক্ষোভকালে সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা এবং তাদের ওপর হামলা চালিয়ে প্রাণনাশের চেষ্টা করা হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ আনেন।

এদিকে কেন্দ্রীয় সরকার সোমবার লোকসভায় ‘পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অব আনফেয়ার মিনস) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬’ উত্থাপনের প্রস্তুতি নিয়েছে। প্রস্তাবিত বিলে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মামলার দ্রুত নিষ্পত্তিতে প্রতিটি রাজ্যে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠন, দুই মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করা এবং দোষীদের ৫ থেকে ১০ বছরের কারাদণ্ড ও সর্বোচ্চ ৫০ লাখ রুপি জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস ইস্যুতে আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) শনিবার তাদের ৩৬ দিনের আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ অন্যান্য দাবির প্রতি সরকারের সম্মতির পর দলটি আন্দোলন প্রত্যাহারের এই সিদ্ধান্ত নেয় বলে জানিয়েছে।

source: Azadir Dak

Leave a Reply

Back to top button