সর্বশেষ

দীর্ঘস্থায়ী মানসিক রোগ ‘সিজোফ্রেনিয়া’, এটির লক্ষণ ও প্রতিকার কী?

যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম রসুলের সিজোফ্রেনিয়া আক্রান্ত মেয়ে মেহেজাবিন জান্নাত অনন্যার আচরণকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি স্থানীয়দের হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। অনন্যা সিজোফ্রেনিয়া নামক জটিল মানসিক রোগে আক্রান্ত এবং দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হলে এ রোগটি সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে জানার আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, সিজোফ্রেনিয়া হলো একটি জটিল ও দীর্ঘস্থায়ী সাইকোটিক মানসিক ব্যাধি, যা মানুষের চিন্তাভাবনা, অনুভূতি ও বিচার-বিবেচনাবোধকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি অবাস্তব কিছু দেখা বা শোনা (হ্যালুসিনেশন), ভ্রান্ত বিশ্বাস (ডিলিউশন), অসংলগ্ন কথা বলা এবং ক্ষেত্রবিশেষে অস্বাভাবিক বা সহিংস আচরণের মুখোমুখি হন। বিশ্বজুড়ে মোট জনসংখ্যার প্রায় ১ শতাংশ মানুষ এই মানসিক রোগে আক্রান্ত, যা সাধারণত ১৫ থেকে ৪৫ বছর বয়সের তরুণদের মধ্যে বেশি দেখা যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মস্তিষ্কের ডোপামিন রাসায়নিকের ভারসাম্যহীনতা, বংশগত ও জেনেটিক কারণ, গর্ভকালীন সমস্যা, অতিরিক্ত মানসিক চাপ কিংবা মারাত্মক নগরায়ণের মতো সামাজিক পরিবেশগত উপাদান এ রোগের প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করে। স্প্লিট পার্সোনালিটি ও সিজোফ্রেনিয়া এক বিষয় নয়, তবে এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের আয়ু স্বাভাবিক মানুষের চেয়ে ১০ থেকে ২৫ বছর পর্যন্ত কম হতে পারে এবং এতে আত্মহত্যার প্রবণতাও বেশি থাকে।

সাধারণত এই রোগের লক্ষণ টানা অন্তত ছয় মাস স্থায়ী হলে একজন ব্যক্তিকে সিজোফ্রেনিক হিসেবে শনাক্ত করা হয়। প্রধান লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে—অহেতুক সন্দেহপ্রবণতা, বাস্তবতাহীন অলীক চিন্তা, ঘুমাতে না পারা, সামাজিক মেলামেশা থেকে পুরোপুরি নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া, ব্যক্তিসচেতনতা হারানো এবং নিজেকে বা অন্যকে আঘাত করার প্রবণতা।

যদিও আগে সিজোফ্রেনিয়াকে জটিল ব্যাধি মনে করা হতো, বর্তমান আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে সময়মতো চিকিৎসা ও অ্যান্টিসাইকোটিক ওষুধের মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তবে চিকিৎসকদের পরামর্শ ছাড়া মাঝপথে ওষুধ বন্ধ করা একেবারেই অনুচিত, কারণ এতে রোগের লক্ষণগুলো পুনরায় দেখা দিতে পারে। ওষুধ সেবনের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে মানসিক সুস্থতার জন্য পরিবারের ইতিবাচক মানসিক সমর্থন ও মনঃসামাজিক প্রশিক্ষণ অত্যন্ত জরুরি।

source: Azadir Dak

Leave a Reply

Back to top button