যেকোনো উপায়ে যুদ্ধ জিততে চান ট্রাম্প

ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা আরো কঠোর ও জোরালোভাবে অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, ওয়াশিংটনের মূল লক্ষ্য হলো এই যুদ্ধে ‘জয়লাভ’ করা। কোনো অবস্থাতেই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে দেওয়া হবে না।
স্থানীয় সময় শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের ক্যাম্প ডেভিডে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এসব কথা বলেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা কেবল জিততে চাই। আমরা খুব ভালো অবস্থানে আছি। এমন পরিস্থিতিতেও আমরা যতটা সম্ভব সংযত থাকার চেষ্টা করছি। কিন্তু ইরান মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ছে।’
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে নিজের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘বিষয়টি খুবই সহজ। ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র পাবে না।’
হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা ইরানের ওপর খুব কঠোরভাবে হামলা চালিয়ে যাব। একসময় তারা বলবে, আর সহ্য করতে পারছি না।’
ইরান এখনো সামরিকভাবে শক্ত অবস্থানে রয়েছে—এমন দাবি নাকচ করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ইরান অত্যন্ত খারাপ অবস্থায় রয়েছে। তারা চরম অসৎ এবং তাদের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানো কঠিন।
বক্তব্যে অতীত যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে আনেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ভিয়েতনাম ও আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘকালীন সংঘাতের সঙ্গে বর্তমান সংকটের তুলনা করে তিনি দাবি করেন, মাত্র পাঁচ মাসের অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ করে দিয়েছে।
ইরানের সঙ্গে চলমান পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ আলোচনা নিয়ে তীব্র সংশয় প্রকাশ করেন ট্রাম্প। তেহরানের ওপর আস্থা কমার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘তাদের ওপর আমার আস্থা কমে যাচ্ছে, কারণ তারা মিথ্যা বলে।’
তিনি একটি ঘটনার উল্লেখ করে বলেন, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের ফোনকলের জন্য তিনি যখন অপেক্ষায় ছিলেন, ঠিক তখনই প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ তাকে জানান যে ইরান জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানি হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ধারাবাহিক সামরিক অভিযান পরিচালনা করে আসছে। জবাবে তেহরানও জর্ডানসহ উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত জুনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় সংঘাত অবসানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি কাঠামোগত চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিল। তবে সাম্প্রতিক এসব হামলা ও পাল্টা হামলায় দু’দেশের উত্তেজনার পারদ আবারও চরমে পৌঁছেছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
এএম
source: Daily Amar Desh