বিশ্ব

শুভেন্দু মনে করিয়ে দিলেন, প্রতিবেশী হিন্দুরা ভারতে আশ্রয় পাবেন, মুসলিমরা নয়

ভারতের বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধন আইনের (সিএএ) সূত্র ধরে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, ‘প্রতিবেশী দেশ থেকে ভারতে প্রবেশ করা হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পারসি ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষ অনুপ্রবেশকারী নন। তারা শরণার্থী।’ এ আইনে প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে আসা হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পারসি ও খ্রিস্টানদের শরণার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হলেও মুসলিমদের কথা বাদ দেওয়া হয়েছে।

বিতর্কিত সিএএ-তে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে আসা হিন্দুসহ ৬টি ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে দ্রুত নাগরিকত্ব দেওয়ার বিধান রয়েছে, তবে মুসলিমদের এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। সমালোচক ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, এই আইন ভারতের সংবিধানের ১৪ অনুচ্ছেদে থাকা ‘আইনের চোখে সমতা’ ও ধর্মনিরপেক্ষতার নীতির পরিপন্থী।

শনিবার পশ্চিমবঙ্গে ১৬তম ডিজিটাল জনগণনার সূচনা অনুষ্ঠানে এমন কথা বলেন শুভেন্দু অধিকারী।

অনুপ্রবেশকারী ও শরণার্থীদের মধ্যে ফারাক স্পষ্ট করে দিয়ে শুভেন্দু নাগরিকত্ব সংশোধন আইনের (সিএএ) ধারার কথা স্মরণ করিয়ে দেন। বলেন, হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পারসি ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের যেসব মানুষ বাংলাদেশ থেকে এসেছেন, তারা অনুপ্রবেশকারী নন, যথাযথ আইনি কাঠামোয় তারা শরণার্থী।

তিনি আরও বলেন, ‘ভারত সরকারের ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫-এর বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী নিয়ম স্পষ্ট। যে সমস্ত শরণার্থী ৩১ ডিসেম্বর ২০১৪-এর মধ্যে ধর্ম বা প্রাণ বাঁচানোর তাগিদে এ দেশে এসেছেন, তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা করা যাবে না এবং পুলিশও তাদের কোনো হয়রানি করতে পারবে না।’ এরপরই তিনি বলেন, ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারীরা এই রাজ্যে বা দেশে থাকবে না। নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের চিহ্নিত করে সতর্কতার সঙ্গে ফেরত পাঠানো হচ্ছে এবং আগামী দিনেও হবে। অনুপ্রবেশকারীদের দেখভাল করার দায়িত্ব ভারতের নয়।’

এ সময় অতীত ভুলের প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু বলেন, ‘আগের সরকারের আমলে বীরভূমে একটি ত্রুটি ঘটেছিল, যেখানে ভারতীয় নাগরিককে সমস্যায় পড়তে হয়েছিল। যদিও পরে তাকে ফেরানো হয়। আমাদের সরকার নিশ্চিত করবে যাতে এই প্রক্রিয়ায় একজন প্রকৃত ভারতীয় নাগরিকও বিন্দুমাত্র সমস্যায় না পড়েন।’

source: Daily Amar Desh

Leave a Reply

Back to top button