News

সাঈদীর ছবিতে জুতা নিক্ষেপ, তিনবার পোস্ট করে ক্ষমা চাইলেন সেই ছাত্রদল নেতা

মঙ্গলবার বেরোবির প্রধান ফটকে ‘রাজাকার’ লেখা একটি ব্যানারে থাকা বিভিন্ন যুদ্ধাপরাধে দণ্ডিত জামায়াত নেতার প্রতিকৃতিতে জুতা নিক্ষেপ করেন ছাত্রদল নেতা আরিফ© ঢাকা ডায়েরি সম্পাদিত
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) প্রধান ফটকে যুদ্ধাপরাধীদের প্রতিকৃতিতে জুতা নিক্ষেপ ও বিক্ষোভ কর্মসূচির পর দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছবিতে জুতা নিক্ষেপ করায় ক্ষমা চেয়েছেন ছাত্রদল নেতা আরিফুল ইসলাম আরিফ। আরিফ কারমাইকেল কলেজের  ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী।
 
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ক্ষমা চেয়েছেন তিনি। একাধিক পোস্টে ক্ষমা চাওয়ার পর  ভিডিওতেও ক্ষমা চান তিনি।
 
ফেসবুকে তিনি লেখেন, আমি যখন রাজনীতি বুঝি না তখন থেকেই আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী সাহেবকে ভালোবাসি। আমি ব্যক্তি দেলোয়ার হোসেন  সাঈদী সাহেবকে পছন্দ এবং সারাজীবন করেই যাব, তবে জামায়াতকে নয়। আমি যুদ্ধাপরাধী ব্যানারের একদম বা সাইডে মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর ছবিটি লক্ষ্য করিনি।
 
তিনি আরও লিখেন, কালকের বেরোবির বিষয়টি মাথায় কঠিন ভাবে কাজ করেছিল। যদিও আমি স্পষ্টভাবে সাঈদী সাহেবকে বুঝতে পারিনি এবং ছবি গুলোর দিকে তাকাইনি। আমি আমার এইসব অসতর্ক ও অপমানজনক কর্মকান্ডের জন্য দুঃখ প্রকাশ করতেছি।
 
ফেসবুকে  তিনি আরও লেখেন, তার সাথে সকলের কাছে ক্ষমা চাচ্ছি। দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী সাহেবের থাকা ব্যানারে অপমান করার সামান্য ইচ্ছে আমার নেই। আল্লাহকে সাক্ষী রেখে বললাম। তার কিঞ্চিৎ পরিমাণ যোগ্যতাও আমার নেই, তিনি মুসলিম বিশ্বের এক অন্যতম নেতা, আমার অসচেতনতামূলক কর্মকাণ্ডের কারণে আমি লজ্জিত ও ক্ষমা প্রার্থী। বাড়িতে আসার পর যখন এটা আমার নজরে আসছে তখন থেকে ভেতর থেকে কান্না আসতেছে।
 
তিনি অনুতপ্ত হয়ে লেখেন,কি পরিমাণ অন্যায় করেছি, হতভম্ব হয়ে আছি। কারো পোস্ট বা থ্রেটে পোস্ট করছি না। জন্মের পর কোন বিষয়ে এতটা অনুতপ্ত হইনি। অজান্তে এই ভুলের জন্য একমাত্র আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই। হাসিনা সরকারের আমলে ওনার জন্য লড়াই করা সেই আমি আজ এত বড় ভুল করলাম। নিজের প্রতি নিজের ঘৃণা হচ্ছে। আল্লাহ তায়ালা ভবিষ্যতে সঠিক ভাবে চলাফেরার তাওয়াফীক দান করুন, আমিন। 
 
আরেকটি পোস্টে তিনি লেখেন, আমি একমাত্র আল্লাহকে সাক্ষী রেখে বলছি, ওনার ছবিটি দেখিনি। আপনারা অনেকে অনেক কথা বলেছেন। কিন্তু একটুও দুঃখ পাইনি। কারণ ওনাকে নিয়ে অন্য কেউ এটা করলে আমিও এমনটাই করতাম। কান্না করার পরও মন কে সান্ত্বনা দিতে পারতেছিনা। আপনাদের মনে যে কষ্ট দিয়েছি তার জন্য আমি লজ্জিত ও ক্ষমা প্রার্থী। সবাই ক্ষমা করবেন।
 
এরপর বুধবার (৫ আগস্ট) ফেসবুকে এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন , আজ অসাবধানতাবসত আমি একটি চরম অন্যায় করে ফেলেছি, যেটা হয়তোবা আমার লোকচক্ষুর বাইরে ছিল। উত্তেজনাবসত হয়তো সেই কাজটি আমার দ্বারা হয়েছে। যে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যুর পর আমি তাকে নিয়ে পোস্ট করি এবং কান্নায় ফেটে পড়ি, তার উপর নির্যাতন হওয়ার পর তার পক্ষে নিজেই অনেক প্রতিবাদ করি। সেই আমি আজ নিজের অসাবধানতাবসত উনাকে অপমান করি। এটাই আমার জীবনের একটি চরম হতাশা এবং দুঃখজনক বিষয়।
 
তিনি আরও বলেন, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী শুধু একজন বাংলাদেশের নেতা  নয় পুরো মুসলিম উম্মার নেতা, সেই নেতাকে আমি অপমান করেছি  নিজের অসাবধানতাবসত। তার জন্য সবার নিকট ক্ষমা চাইতেছি। আপনারা আমাকে ক্ষমা করবেন। আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই, যেন এই ভুল আমার লাইফে আর কখনো না আসে। নিজের ভাষা হারিয়ে ফেলার মত অবস্থা। কখনো বুঝতে পারিনি যে, যে প্রিয় মানুষটাকে ধর্মের পথ থেকে এত ভালোবাসি সে মানুষটাকে অপমান করব। সবার কাছে ক্ষমা চাই, সবাই মাফ করবেন এবং দোয়া করবেন যাতে এরকম অসাবধানতা বসত কোন কাজ আমার নিকট না হয়।
 
এর আগে, মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেলে পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বেরোবির প্রধান ফটকে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন। এ সময় তারা ‘রাজাকার’ লেখা একটি ব্যানারে থাকা বিভিন্ন যুদ্ধাপরাধে দণ্ডিত জামায়াত নেতার প্রতিকৃতিতে জুতা নিক্ষেপ করেন এবং ছাত্রশিবিরবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন।
 
ব্যানারটিতে জামায়াতের সাবেক নেতা মতিউর রহমান নিজামী, দেলোয়ার হোসেন সাঈদী, আলী আহসান মুজাহিদ, কাদের মোল্লা, মীর কাসেম আলীসহ আরও কয়েকজনের ছবি ছিল।
 
 

source: The Dhaka Diary

Leave a Reply

Back to top button