News
জ্বালানি সংকট থেকে উত্তরণে সময় লাগবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

দেশের জ্বালানি সংকট থেকে উত্তরণে সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন শিল্প, বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। বুধবার জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে সিলেটে আয়োজিত আলোচনা সভা ও শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।
বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে সিলেট নগরীর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ তার জ্বালানি চাহিদার একটি বড় অংশ আমদানি করা তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল, যা জাহাজে করে আনার পর গ্যাসে রূপান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও মজুত ব্যবস্থা পর্যাপ্ত পরিমাণে গড়ে তোলা হয়নি অতীতে।
তিনি বলেন, বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে বাসাবাড়ি, শিল্প-কলকারখানা ও নতুন বিনিয়োগের জন্য পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে কিছুটা সময় প্রয়োজন। এ সময়টিকে একটি ‘ট্রানজিশন টাইম’ হিসেবে মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান মন্ত্রী।
জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে বাণিজ্যমন্ত্রী জুলাই আন্দোলনকে স্মরণ করে বলেন, ছাত্র-জনতা, স্কুলশিক্ষার্থীসহ সকল মানুষের অংশগ্রহণে আন্দোলন একটি বিশাল গতি পেয়েছিল, যার ফলে একটি সামাজিক শক্তির উত্থান ঘটে।
তিনি আরও বলেন, প্রায় ৫০-৫৫ বছরের ব্যবধানে একই জাতি দুইবার গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের জন্য জেগে উঠেছে, যা বিশ্বে বিরল দৃষ্টান্ত। জুলাই আন্দোলনে গড়ে ওঠা তরুণ প্রজন্মের শক্তি যেনো কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থসিদ্ধির হাতিয়ারে পরিণত না হয়, সে বিষয়ে সকলকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
জাতীয় নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, জনগণ তাদের পছন্দের প্রতিনিধিদের পাঁচ বছরের জন্য দায়িত্ব দিয়েছে। এই সময়ে তারা ভালো কাজ করলেই কেবল আস্থা নবায়ন হবে।
সিলেটের উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, সিলেটে বর্তমানে ৩০ একর আয়তনের দুটি বিসিক শিল্পনগরী রয়েছে। চলতি বছরই নতুন আরেকটি বিসিক শিল্পনগরীর কাজ শুরু হবে, যার আয়তন হবে প্রায় ১৮৭ একর। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের সম্প্রসারণের মাধ্যমে সিলেটে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রত্যাশা করেন তিনি। এছাড়া মন্ত্রী সিলেট-ঢাকা সড়ককে ছয় লেনে উন্নীত করার কাজ আগামী বছরের মধ্যে শেষ হওয়া, সিলেট-চট্টগ্রাম সড়ক যোগাযোগ, আখাউড়া-সিলেট রেললাইনের কাজসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ বিষয়ে কথা বলেন।
আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম আব্দুল মালিক, সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান, পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে জুলাই শহীদ পরিবারের প্রতিনিধি ও জুলাই যোদ্ধা ছাড়াও প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
source: The Dhaka Diary