News

পাস করেও ফল দেখা হলো না সিরাজুলের, আনন্দের দিনে পরিবারে শোক

এবারের দাখিল পরীক্ষায় পাস করেছে বাগেরহাটের শেখ সিরাজুল ইসলাম। তবে কাঙ্ক্ষিত সেই ফল নিজের চোখে দেখে যেতে পারেনি সে। ফল প্রকাশের আগেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যাওয়া সিরাজুলের পাসের খবরে আনন্দের বদলে শোকে কাতর তার পরিবার।

শেখ সিরাজুল ইসলাম বাগেরহাট সদর উপজেলার বাগদিয়া আলিম মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ছিল। সে সদর উপজেলার চাপাতলা গ্রামের শেখ মিজানুর রহমানের ছেলে। এবারের দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সে তার পরিবারকে গর্বিত করেছে। অথচ যে দিনটির জন্য একজন শিক্ষার্থী দীর্ঘদিন অপেক্ষা করে, সেই ফল প্রকাশের দিনটিতেই সিরাজুল নেই। গত ১ মে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যায় সিরাজুল।

স্থানীয় মাসুম শেখ জানান, একটি মুরগির খামারে বিদ্যুৎ সংযোগের কাজ চলাকালে হঠাৎ পানির সঙ্গে বিদ্যুতের সংযোগ ঘটে। এতে পানিতেও বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়। ওই সময় সেখানে থাকায় সিরাজুল বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়। তার চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ছুটে এসে তাকে পানি থেকে তুলে আনেন। পরে তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।

মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে আজ সেই সিরাজুলের ফলাফল প্রকাশ হলো। ফলাফলের তালিকায় তার নামের পাশে ‘উত্তীর্ণ’ লেখা থাকলেও সেই খবরটি নিজের চোখে দেখার সুযোগ হলো না তার। পাসের খবরে সিরাজুলের স্মৃতি আঁকড়ে কান্না করছেন মা-বাবাসহ পরিবারের সদস্যরা।

সোমবার অন্য শিক্ষার্থীরা যখন মোবাইল ফোনে ফলাফল দেখছে, বাবা-মায়ের মুখে হাসি ফুটছে, ভবিষ্যতের স্বপ্ন বুনছে—সিরাজুলের পরিবার তখন স্মরণ করছে তাদের প্রিয় সন্তানকে। সন্তানের কাঙ্ক্ষিত সাফল্যের দিনে একজন বাবা-মায়ের আনন্দ হওয়ার কথা ছিল; কিন্তু সেই আনন্দ আজ অশ্রুসিক্ত স্মৃতিতে পরিণত হয়েছে।

সিরাজুল নেই, কিন্তু তার ফলাফল রয়ে গেছে। দাখিল পরীক্ষায় তার উত্তীর্ণ হওয়ার খবর হয়তো পরিবারের জন্য কিছুটা স্বস্তির, কিন্তু সেই সাফল্য উদযাপন করার মানুষটিই যখন নেই, তখন আনন্দের চেয়ে বেদনার ভারই যেন বেশি।

source: The Daily Campus

Leave a Reply

Back to top button