একসঙ্গে নিভে গেছে একই পরিবারের ৪ প্রাণ, শেষ ঠিকানা দুই স্থানে

একই দুর্ঘটনায় নিভে গেছে একই পরিবারের চারটি প্রাণ। এখন তাদের দাফনের প্রস্তুতি চলছে দুই বাড়িতে। বাবা মোফাজ্জল হোসেন লেবু ও তার মা রাশিদা বেগমের কবর খোঁড়া হচ্ছে নিজেদের বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে। অন্যদিকে, মেয়ে মর্জিনা বেগম ও তার পাঁচ বছরের ছেলে মিনালের কবর খোঁড়া হচ্ছে শ্বশুরবাড়িতে।
আপনজনদের হারানোর শোকের সঙ্গে এবার চিরবিদায়ের এই নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি স্বজনেরা। এমন হৃদয়বিদারক ঘটনায় স্তব্ধ জামালপুরের সদর উপজেলার রানাগাছা ইউনিয়নের দড়িহামিদপুর ভাটিপাড়া গ্রামের মানুষ।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) ময়মনসিংহে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের চারজনসহ জামালপুরের ছয়জন নিহত হন। এ দুর্ঘটনায় মোট সাতজনের মৃত্যু হয়। নিহত একই পরিবারের চারজন হলেন মোফাজ্জল হোসেন লেবু, তার ৮৫ বছর বয়সী মা রাশিদা বেগম, ২৫ বছর বয়সী মেয়ে মর্জিনা বেগম এবং মর্জিনার পাঁচ বছরের ছেলে মিনাল।
শনিবার (৩ অক্টোবর) সকাল ১০ টায় তাদের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আরও দেখুন: এক নজরে দেখুন সপ্তাহের সেরা ১০ সরকারি চাকরি
গ্রামের বাড়িতে বাবা ও দাদির কবর খোঁড়ার প্রস্তুতি চলছে। অন্যদিকে, মর্জিনা ও তার ছোট্ট ছেলে মিনালের জন্য খোঁড়া হচ্ছে আলাদা দুটি কবর, শ্বশুরবাড়িতে। একই পরিবারের চারজনের শেষ ঠিকানা হচ্ছে দুই বাড়ির কবরস্থানে। যে পরিবারে একসঙ্গে বেঁচে থাকার স্বপ্ন ছিল, সেই পরিবারের সদস্যদেরই এখন আলাদা জায়গায় চিরনিদ্রায় শায়িত হতে হবে।
একটি দুর্ঘটনা যেন মুহূর্তেই ওলটপালট করে দিয়েছে পুরো পরিবারের জীবন। স্বজনদের হারানোর বেদনা, পাশাপাশি কবর খোঁড়ার দৃশ্য, সব মিলিয়ে ভাটিপাড়া গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজন ও প্রতিবেশীদের চোখে অশ্রু, চারদিকে বিষাদের আবহ। এমন মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না কেউই।
এলাকাবাসীর কাছে ঘটনাটি কেবল একটি সড়ক দুর্ঘটনা নয়, বরং একটি পরিবারের একসঙ্গে ভেঙে পড়ার বেদনাদায়ক চিত্র। বাবা, দাদি, মেয়ে ও নাতির একসঙ্গে চলে যাওয়া যেন কেড়ে নিয়েছে একটি পরিবারের হাসি-আনন্দ, রেখে গেছে শুধু স্মৃতি আর শূন্যতা।
আরও দেখুন: ‘২৮ হাজার শিক্ষার্থীর হাতই আমার হাত’— এক হাতের প্রতিবন্ধকতা পেরিয়েও তৎপর রাকসুর মাসুদ
একদিকে পারিবারিক কবরস্থানে বাবা ও দাদির জন্য খোঁড়া হচ্ছে কবর, অন্যদিকে শ্বশুরবাড়িতে মা-মেয়ের জন্য নয়, মা মর্জিনা ও তার শিশুসন্তান মিনালের শেষ আশ্রয় প্রস্তুত করা হচ্ছে। এই দৃশ্যের সামনে শোকাহত স্বজনদের সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষাও যেন হারিয়ে গেছে।
চারটি কবর, দুই বাড়ি, আর অসংখ্য অশ্রুসিক্ত চোখ, ভাটিপাড়া গ্রামের এই শোকের দৃশ্য সহজে ভুলতে পারবেন না কেউ। সড়কের এক মুহূর্তের সংঘর্ষ কেড়ে নিয়েছে চারটি জীবন, আর রেখে গেছে এমন এক শূন্যতা, যা কোনো সান্ত্বনাতেই পূরণ হওয়ার নয়।
source: The Daily Campus