শুক্রবার দেশব্যাপী বিক্ষোভের ডাক খেলাফত মজলিসের

আগামী শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে পাস হওয়া ‘ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’ বা সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের সংশোধন বিল বাতিলের দাবিতে দেশব্যাপী বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। কর্মসূচির অংশ হিসেবে শুক্রবার বাদ জুমা বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেট থেকে ঢাকা মহানগর বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হবে।
আজ বুধবার বিকেলে রাজধানীর পুরান পল্টনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত যৌথসভায় এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। সংগঠনের আমির মাওলানা মামুনুল হক সভায় সভাপতিত্ব করেন এবং যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন সভা পরিচালনা করেন।
সভায় মাওলানা মামুনুল হক বলেন, বাবা-মায়ের সুরক্ষার কথা বলে এমন একটি বিল সংসদে পাস করা হয়েছে, যা মুসলিম সমাজের উত্তরাধিকারব্যবস্থা, ফরায়েজ এবং বিশেষ করে নারীদের প্রাপ্য অধিকারকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এ বিল মেনে নেবে না এবং এটি অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।তিনি বলেন, একজন বাবা-মা আগেও চাইলে সন্তানকে হেবা বা বৈধ উপায়ে সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারতেন। বাবা-মায়ের ভরণপোষণ নিশ্চিত করার জন্য দেশে ২০১৩ সালের পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইনও রয়েছে। তাহলে নতুন করে সম্পত্তি হস্তান্তরের সুযোগকে কেন আরও বিস্তৃত করা হচ্ছে-সরকারকে তার জবাব দিতে হবে।
মামুনুল হক বলেন, মুসলমানের উত্তরাধিকার কোনো সামাজিক রীতি বা পারিবারিক সমঝোতার বিষয় নয়; এটি আল্লাহ তায়ালার নির্ধারিত বিধান। জীবিত অবস্থায় সম্পত্তি হস্তান্তরের প্রবণতা এমন পর্যায়ে গেলে যে মৃত্যুর পর ফরায়েজ বণ্টনের জন্য সম্পত্তিই অবশিষ্ট না থাকে, তাহলে আইনগতভাবে ফরায়েজ বহাল থাকলেও এর বাস্তব প্রয়োগ বাধাগ্রস্ত হবে।
তিনি বলেন, যে সমাজে মেয়েরা এমনিতেই নানা কৌশলে ফরায়েজের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়, সেখানে জীবদ্দশায় সম্পত্তি একজন সন্তানের হাতে তুলে দেওয়ার প্রবণতা বাড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে মেয়েদের। বাবা-মায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, তবে মেয়েদের আল্লাহপ্রদত্ত অধিকার ক্ষুণ্ন করে নয়।
তিনি আরও বলেন, শরিয়াহর বিধানকে রাষ্ট্রীয় আইনের ঐচ্ছিক বিকল্প হিসেবে উপস্থাপন করার প্রবণতা গভীরভাবে উদ্বেগজনক। ইসলাম কোনো ‘অপশন’ নয় এবং আল্লাহর বিধান কোনো ‘মেনু’ নয় যে রাষ্ট্রীয় আইনের কাঠামোর মধ্যে মানুষ ইচ্ছামতো তা গ্রহণ বা বর্জন করবে।
মামুনুল হক বলেন, সংসদে পাস হওয়া বিলটি ইসলামি আইন, ফরায়েজ ও সম্পত্তি আইনের বিশেষজ্ঞ আলেম-উলামা ও আইনজ্ঞদের মাধ্যমে পুনরায় পর্যালোচনা করতে হবে। প্রয়োজন হলে সংশোধন করতে হবে। আর এতে শরিয়াহ ও মুসলিম উত্তরাধিকারব্যবস্থার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বিষয় থাকলে সম্পূর্ণ বিলটি বাতিল করতে হবে।
রাষ্ট্রপতির প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের ধর্মীয় অধিকার ও মুসলিম উত্তরাধিকারব্যবস্থার সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো বিলে স্বাক্ষর করা উচিত হবে না। ইসলামবিরোধী কোনো বিল রাষ্ট্রীয় অনুমোদন পেলে তা দেশের জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি করবে। এর দায় সরকারকেই বহন করতে হবে।
আগামী শুক্রবারের বিক্ষোভ মিছিলে আলেম-উলামা, ধর্মপ্রাণ মুসলমানসহ সর্বস্তরের জনগণকে শান্তিপূর্ণভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির।
source: Barta Bazar