বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ব্রিটিশ বিনিয়োগের আগ্রহ

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে কোনো দলীয় মনোনয়ন ও প্রতীক থাকবে না। একই সঙ্গে তিনি জানান, বাংলাদেশের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে বিনিয়োগে ব্রিটিশ বিনিয়োগকারীরা বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান প্রতিমন্ত্রী।
ব্রিটেনকে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন সহযোগী রাষ্ট্র হিসেবে উল্লেখ করে মীর শাহে আলম বলেন, ব্রিটিশ বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের সিটি করপোরেশনগুলোতে, বিশেষ করে মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কাজ করতে আগ্রহী।
তিনি বলেন, ব্রিটিশ বিনিয়োগকারীরা সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) মডেলে ‘ওয়েস্ট টু এনার্জি’ বা বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে বিনিয়োগ করতে চান। এ বিষয়ে যোগাযোগ দাপ্তরিকভাবে এগিয়ে নিতে একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে একটি দল গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোকে জাতীয় নির্বাচনের মতো অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করার লক্ষ্যে সরকার আইন সংশোধন করেছে।
তিনি বলেন, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন—এই পাঁচ স্তরের নির্বাচনে কোনো দলীয় প্রতীক থাকবে না। এটি একটি সাধারণ নির্বাচন হবে। বৈধ যেকোনো ব্যক্তি প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন।
নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যেহেতু এটি দলীয় নির্বাচন নয়, তাই এখানে কোনো বিশেষ দলের প্রশ্নই আসে না। তবে বিএনপি স্থানীয়ভাবে একক প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার কৌশল নিতে পারে। একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পন্ন করতে সরকার নির্বাচন কমিশনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে বদ্ধপরিকর।
প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে জনগণের সরকার অর্থবছরের সময়সীমা পরিবর্তন করেছে। আগামী ২০২৮ সাল থেকে অর্থবছর শুরু হবে ১ এপ্রিল এবং শেষ হবে ৩১ মার্চ। ব্রিটিশ প্রতিনিধিরা এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, এর ফলে শুষ্ক মৌসুমে উন্নয়নকাজ দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
মীর শাহে আলম বলেন, অর্থবছরের সময়সীমা পরিবর্তনের জন্য সংবিধানে কিছু সংশোধনের প্রয়োজন হবে। মহান সংসদ কর্তৃক গঠিত সংবিধান সংশোধনী কমিটিতে এ বিষয়ে কাজ চলছে।
এ ছাড়া জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের চেতনা এবং বিএনপির প্রস্তাবিত সংস্কারগুলোও সংবিধান সংশোধনের সময় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
source: Daily Amar Desh