News
‘মদিনার ইসলাম কায়েম করতে চাওয়া বিএনপি ক্ষমতায় এসে করে কোরআনবিরোধী আইন পাস’

ভোটের আগে মদিনার ইসলাম কায়েম করতে চাওয়া বাংলাদেশ জাতীয়তবাদী দল বিএনপি ক্ষমতায় এসে করে কোরআনবিরোধী আইন পাস, এমন মন্তব্য করেছেন জামায়াত ইসলামীর নায়েবে আমির ও রংপুর -২ আসনের সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম।
তিনি বলেছেন, ‘যারা নির্বাচনের আগে বলেছিলেন, ‘আমরা মওদুদীর ইসলাম চাই না, মদিনার ইসলাম চাই’; যারা বলেছিলেন, ‘আমরা ক্ষমতায় গেলে কোরআন-সুন্নাহর বিরুদ্ধে আইন পাস করব না’— ক্ষমতায় আসার পর সম্পত্তি হস্তান্তর আইন পাস করে তারা কোন ইসলামের অনুসরণ করলেন?’
সম্প্রতি দেশের বেসরকারী স্যাটেলাইটভিত্তিক টিভি চ্যানেল স্টার নিউজে প্রকাশিত এক ভিডিওতে তাকে এসব কথা বলতে শোনা যায়।
এ টি এম আজহারুল ইসলাম বলেন, “সম্পত্তি হস্তান্তর আইন যে করা হলো, সেই আইনে কোরআন-সুন্নাহবিরোধী অনেক ধারা আছে। আমরা তখন বললাম, তড়িঘড়ি করার দরকার কী? আপনাদের নিয়ন্ত্রিত ইসলামিক ফাউন্ডেশন আছে, সেখানে আলেম-ওলামারা আছেন। এছাড়াও দেশে বিজ্ঞ আলেম-ওলামা আছেন, তাদের কাছেও পাঠিয়ে দিন। তারা পরামর্শ দেওয়ার ভিত্তিতে যদি আইনটিকে কোরআন-সুন্নাহভিত্তিক করা হয়, তাহলে তা সানন্দে গ্রহণ করব, সম্মতি দেব।”
আরও পড়ুন
তিনি বলেন, “কিন্তু তারা আমাদের কথায় কান না দিয়ে আইন পাস করলেন। অথচ যারা নির্বাচনের আগে বলেছিলেন, ‘আমরা মওদুদীর ইসলাম চাই না, মদিনার ইসলাম চাই’; যারা বলেছিলেন, ‘আমরা ক্ষমতায় গেলে কোরআন-সুন্নাহর বিরুদ্ধে আইন পাস করব না’—ক্ষমতায় আসার পর সম্পত্তি হস্তান্তর আইন পাস করে তারা কোন ইসলামের অনুসরণ করলেন? এটা কি মওদুদীর ইসলাম, নাকি মদিনার ইসলাম? কোরআন-সুন্নাহর আলোকে কোনটি হবে?”
তিনি আরও বলেন, “আমি স্পষ্টভাবে বলি, এটাকেই বলে ধর্মের নামে রাজনীতি। ক্ষমতায় যাওয়ার আগে যারা ধর্মের কথা বলে, ভোট নেওয়ার জন্য যারা বলে, ‘আমরা মদিনার ইসলাম কায়েম করব’; ভোট নেওয়ার জন্য যারা বলে, ‘আমরা কোরআন-সুন্নাহবিরোধী আইন পাস করব না’—ভোট হওয়ার পর ক্ষমতায় এসে যখন এর বিপরীত কাজ করে, এটাকেই বলে ধর্মের নামে রাজনীতি।”
জামায়াত ধর্মের ভিত্তিতে রাজনীতি করে না বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “জামায়াতে ইসলামী ধর্মভিত্তিক রাজনীতি করে, ধর্মকে ব্যবহার করে রাজনীতি করে না। আমরা ক্ষমতার বাইরেও ধর্ম মানি, ক্ষমতার ভেতরেও ধর্ম মানি। আর তারা ক্ষমতার বাইরে গিয়ে ধর্ম নিয়ে কথা বলে, কিন্তু ক্ষমতায় এসে ধর্মের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করে। এ কারণেই এর তীব্র নিন্দা করেছি। এই বিল বাতিল করে নতুন করে বিল আনার জন্য আমরা আহ্বান জানিয়েছি। আলেম-ওলামাদের পরামর্শ নিয়ে এই কাজ করতে হবে।”
এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, “সারা বাংলাদেশের আলেম-ওলামাদের মতামত নেওয়া প্রয়োজন। এমনকি হেফাজতে ইসলাম, যারা সব সময় জামায়াতের বিপক্ষে কথা বলে, তারাও আমাদের বিরোধীদলীয় নেতাকে অভিনন্দন জানিয়েছে। এই বিলের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ হিসেবে আমরা ওয়াকআউট করেছি।”
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে একটি বড় সংশোধনী আনা হয়েছে। এর ফলে এখন থেকে কোনো ব্যক্তি তার সন্তান বা স্ত্রীকে সম্পত্তি দান বা হেবা করার পরও, নিজের জীবদ্দশায় সেই সম্পত্তির আয় বা ভোগদখলের অধিকার নিজের কাছে রাখতে পারবেন। তবে এই নতুন বিধানটি মুসলিম পারিবারিক আইন ও ধর্মীয় উত্তরাধিকার (মিরাস) ব্যবস্থার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে— এমন আশঙ্কা থেকে আলেম সমাজ ও ধর্মীয় সংগঠনগুলোর মধ্যে বেশ বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
source: The Dhaka Diary