ওসমানীনগরে দুই সড়কের কাজ ফেলে উধাও ঠিকাদার, দুর্ভোগে মানুষ

সিলেটের ওসমানীনগরে সরকারি অর্থায়নে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণকাজ শুরু করে দীর্ঘদিন ধরে ফেলে রাখার অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও শেষ হয়নি কাজ। কোথাও সড়ক খুঁড়ে, কোথাও পুরোনো কার্পেটিং তুলে কাজ বন্ধ থাকায় তৈরি হয়েছে খানাখন্দ। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী, রোগী ও পথচারীরা।
এলজিইডি সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ওসমানীনগর উপজেলার গোয়ালাবাজার ইউনিয়নের করনশী জহিরপুর-কালারাই বাজার সড়কের ৩৬৮০ মিটার থেকে ৪৯৬৮ মিটার পর্যন্ত অংশে বিটুমিনাস কার্পেটিং, মাটির কাজ, একটি বক্স কালভার্ট ও একটি ড্রেনেজ কালভার্ট নির্মাণের জন্য মেসার্স এসকে কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ডিজাইনের সঙ্গে চুক্তি করা হয়।
নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২ জানুয়ারি কাজ শুরুর অনুমতিপত্র দেওয়া হয় এবং ৯ জানুয়ারি থেকে কাজ শুরুর তারিখ নির্ধারণ করা হয়। কাজটি ৩০ জুন ২০২৫ সালের মধ্যে শেষ করার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও কাজ শেষ হয়নি। এ প্রকল্পের চুক্তিমূল্য ১ কোটি ৩০ লাখ ১১ হাজার ৩৪৪ টাকা ৪০ পয়সা।
অন্যদিকে, দয়ামীর জিসি-দেওয়ান বাজার জিসি সড়কের ওসমানীনগর অংশে ০ থেকে ২৫০০ মিটার পর্যন্ত পর্যায়ক্রমিক রক্ষণাবেক্ষণকাজের জন্য ২০২৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি মেসার্স অমল কান্তি চৌধুরীর সঙ্গে চুক্তি করে এলজিইডি। চুক্তি অনুযায়ী ২২ ফেব্রুয়ারি কাজ শুরু করে ২২ জুনের মধ্যে তা শেষ করার কথা ছিল। এ কাজের চুক্তিমূল্য ২ কোটি ৬৪ লাখ ৯১ হাজার ৮৫৭ টাকা ৯৬ পয়সা।
কাজ বন্ধ, দুর্ভোগে স্থানীয়রা
সরেজমিনে দেখা যায়, কয়েক মাস ধরে দুটি সড়কের বিভিন্ন অংশ খুঁড়ে ইটের খোয়া ফেলে কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে সড়ক দুটির বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
এরই মধ্যে প্রকল্প দুটির প্রায় ৮০ শতাংশ বিল উত্তোলন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হলে নোটিশ দিয়ে চুক্তি বাতিল ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে কাজ অসম্পূর্ণ থাকা অবস্থায় এত বড় অঙ্কের বিল কীভাবে পরিশোধ করা হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, বিল পরিশোধের আগে কাজের মান ও অগ্রগতি যথাযথভাবে যাচাই করা হয়নি।
ব্যাটারিচালিত রিকশাচালক আকবর আলী জানান, ‘সংস্কারের আগে সড়কটি দিয়ে তবু চলাচল করতে পারতাম। এখন তো চলাই কঠিন। দীর্ঘদিন রাস্তা মেরামতের কাজটি বন্ধ থাকায় গ্রামের লোকজনের চলাচলের অনেক অসুবিধা হচ্ছে। জরুরি ভিত্তিতে রাস্তাটি মেরামতের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’
মেসার্স এসকে কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ডিজাইনের প্রতিনিধির কাছে কাজ বন্ধ থাকার কারণ জানতে চাইলে তিনি বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে কাজের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হওয়ার কথা জানান। একাধিকবার তার নাম জানতে চাওয়া হলেও তিনি নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি।
অন্যদিকে, মেসার্স অমল কান্তি চৌধুরীর প্রতিনিধি ওয়াতিউর রহমান আতিক বলেন, ‘রক্ষণাবেক্ষণকাজের আরসিসি অংশের কিছু কাজ করা হয়েছে। বৃষ্টির কারণে পরবর্তী কাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। এখন যেহেতু আবহাওয়া অনুকূলে আছে, এক সপ্তাহের মধ্যে কাজ শেষ করে দেব।’
ওসমানীনগর উপজেলা প্রকৌশলী মো. মনিরুল ইসলামের কাছে দুটি সড়কের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ না হওয়ার কারণ এবং চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি-না জানতে চাইলে তিনি ঠিকাদারদের দেওয়া আবহাওয়াজনিত অজুহাতের কথা উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি দুটি প্রকল্পের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে বক্তব্য দেওয়ার চেষ্টা করেন।
source: Daily Amar Desh