News

ব্যবসা না থাকলেও ‘ব্যবসায়িক কাজের’ ছলে বার বার বাংলাদেশে, ডিবির হাতে আটক ভারতীয় নাগরিককে নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য সায়েরের

সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের খান এবং আটক ভারতীয় নাগরিক রবিউল ইসলাম রবি© সংগৃহীত এবং সম্পাদিত

রাজধানীর উত্তরা থেকে গ্রেপ্তার ভারতীয় নাগরিক রবিউল ইসলামকে চার দিনের রিমান্ডে নিয়েছে আদালত। সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নাশকতায় তার কোনো সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা জানতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এরই মধ্যে রবিউলকে নিয়ে চাঞ্চল্যকর কিছু দাবি করেছেন কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের খান। 

তিনি জানান, ‘ব্যবসা না থাকলেও ‘ব্যবসায়িক কাজের’ ছলে বার বার বাংলাদেশে। এমনকি কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তার ব্যবসায়িক সম্পর্কের প্রমাণও মেলেনি বলে দাবি করেন সায়ের।’

তিনি আরও বলেছেন, ‘আটক ভারতীয় নাগরিক বাংলাদেশে জঙ্গি সংগঠনের বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে দেখা করেন।’

গতকাল বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।

জুলকারনাইন সায়ের খান ফেসবুক স্ট্যাটাসে লেখেন, “ভারতীয় নাগরিক রবিউল ইসলাম রবি গত কয়েক বছর ভিন্ন ভিন্ন পাসপোর্ট ব্যবহার করে একাধিকবার বাংলাদেশে এসেছেন।”

আরও পড়ুন

তিনি বলেন, “মুখে দাবি করেন, তিনি ব্যবসায়িক কাজে বাংলাদেশে আসেন; তবে বাংলাদেশে তার কোনো ব্যবসার সন্ধান পাওয়া যায়নি, কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্কের প্রমাণও মেলেনি।”

তিনি আরও বলেন, “এবার তিনি ভিন্ন একটি পাসপোর্টে সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে এসেছেন এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে দেখা করেছেন। তবে এ যাত্রায় বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থার নজর এড়াতে পারেননি রবি; বিশেষ একটি সংস্থা পরিচালিত অপারেশনের মাধ্যমে তিনি আটক হয়েছেন।”

জুলকারনাইন সায়ের খান বলেন, “ভারতীয় নাগরিক রবি বাংলাদেশে কাদের পক্ষ হয়ে আসেন, কেন আসেন, ভিন্ন ভিন্ন পাসপোর্ট কেন ব্যবহার করেন এবং তার আসল উদ্দেশ্য কী—আশা করি সেসব সামনে আসবে।”

এদিকে গতকাল বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেসবুকে আরও একটি পোস্টে তিনি লেখেন, “ভিন্ন ভিন্ন পাসপোর্ট ব্যবহার করে বাংলাদেশে একাধিকবার প্রবেশ করে সন্দেহজনকভাবে বিচরণ করা রবিউল ইসলাম রবি দীর্ঘদিন ভারতের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা (আইবি) এর হয়ে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের ওপর নজরদারি চালাতেন বলে জানা গেছে।”

তিনি বলেন, “এবার তিন সপ্তাহ আগে সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন রবি; তবে বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থার তৎপরতায় গত সোমবার মধ্যরাতে তাকে আটক করা হয়।গুপ্তচরবৃত্তির জন্য বাংলাদেশে এখনো ঔপনিবেশিক আমলের অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের অধীনেই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।”

তিনি আরও বলেন, “রবিসহ গত কয়েক মাসে কমপক্ষে চারজন ভারতীয় অপারেটিভকে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আটক করা হয়েছে, সুনির্দিষ্ট এসপিয়োনাজ অ্যাক্ট না থাকায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এদের ৫৪ ধারায় সন্দেহজনক ব্যক্তি হিসেবে দেখিয়ে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়, এ ধরনের ব্যক্তিদের বিষয়ে অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেয়া হয় এসআই পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তাকে, এবং একটা সময়ে এরা বেশ সহজেই জামিন নিয়ে নিজ দেশে পালিয়ে যায়।”

জুলকারনাইন সায়ের বলেন, “রবির মতো বিদেশি গুপ্তচরকে উপযুক্ত সংস্থার মাধ্যমে জিজ্ঞাসাবাদ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।”

প্রসঙ্গত, গত ২২ সেপ্টেম্বর ডিবির করা সাধারণ ডায়েরির (জিডি) ভিত্তিতে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় ভারতীয় নাগরিক রবিউলকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উত্তরা পশ্চিম থানার ১১ নম্বর সেক্টরের ১৩ নম্বর সড়কের ৬০ নম্বর বাসার নিচতলা থেকে তাকে আটক করা হয়েছিল। ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে তিনি বাংলাদেশে অবস্থান করছিলেন।

source: The Dhaka Diary

Leave a Reply

Back to top button