News

আমরা ১০ দশ বছর রেলের ভাড়া বাড়াইনি, এজন্য আপনারা ধন্যবাদ দিয়েছেন কিনা— প্রশ্ন রেলমন্ত্রীর 

রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম© সংগৃহীত

আমরা ১০ দশ বছর রেলের ভাড়া বাড়াইনি, এজন্য আপনারা ধন্যবাদ দিয়েছেন কিনা? এমন প্রশ্ন করেছেন রেলপথ, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

তিনি বলেছেন, ‘গতবার যখন ডিজেলের দাম ১৫ টাকা বাড়ানো হয়েছিল, তখন আমরা রেলের ভাড়া বাড়াইনি। এবার যখন ডিজেলের দাম ২০ টাকা বাড়ানো হয়েছে, তখন রেলের ভাড়া বাড়ানোর চাপ আছে। আপনারা জানেন, আমরা রেলে লোকসান করি।’

গতকাল বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে লঞ্চ মালিকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

রেলমন্ত্রী রবিউল আলম বলেন, “গতবার যখন ডিজেলের দাম ১৫ টাকা বাড়ানো হয়েছিল, তখন আমর রেলের ভাড়া বাড়াইনি। এবার যখন ডিজেলের দাম ২০ টাকা বাড়ানো হয়েছে, তখন রেলের ভাড়া বাড়ানোর চাপ আছে। আপনারা জানেন, আমরা রেলে লোকসান করি। এই জ্বালানির দাম যেভাবে বেড়েছে, আমরা যদি রেলের ভাড়া না বাড়াই, তাহলে লোকসান আরও বাড়বে। আমরা ১০ বছর ভাড়া বাড়াইনি। আপনারা আমাদের ধন্যবাদ দিয়েছেন? হ্যাঁ, ১০ বছর ভাড়া বাড়াইনি। আবার গতবার তেলের দাম বাড়লেও আমরা ভাড়া বাড়াইনি।”

আরও পড়ুন

তিনি বলেন, “তার মানে কী হচ্ছে? জনগণের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা যেমন আছে, তেমনি জনগণের প্রতি আমাদের মনোযোগও আছে। রেলের ভাড়া বাড়ানোর জন্য এবার ‘খুব চাপ’ রয়েছে। ভাড়া সমন্বয় করা না হলে রেলের লোকসান আরও বাড়বে। তবে এখনো ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। আমরা চাইবো, ভাড়াটা যাতে না বাড়িয়ে অ্যাডজাস্ট রাখা যায়। এটা এখনো পর্যন্ত উদ্যোগ নেওয়া হয়নি, ওই ভাড়া থাকছে। দেখা যাক, আর কিছুদিন অপেক্ষা করি, চাপটা কেমন হয়।”

ভাড়া বাড়ানো নিয়ে তিনি বলেন, “আমি রেলের যারা আছেন, মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করছেন, ভাড়া কালেকশন নির্ধারণ যারা করেন, তাদের বলছি যে সর্বাত্মক স্যাক্রিফাইস করে অ্যাডজাস্ট করার চেষ্টা করেন। তবে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে গেলে, ভাড়া না বাড়িয়ে রেল পরিচালনা করা অসম্ভব হয়ে পড়লে যৌক্তিকভাবে ভাড়া বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।”

ফেরিতে লোকসান নিয়ে তিনি বলেন, “ দীর্ঘদিন ভাড়া না বাড়ানোর কারণে ফেরি পরিচালনায় লোকসান হচ্ছে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) চেয়ারম্যানও ফেরির ভাড়া যৌক্তিক পর্যায়ে বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন। ট্রাক ও বাস মালিক সমিতিও এতে সম্মতি দিয়েছে। তবে জনস্বার্থের কথা বিবেচনা করে ফেরির ভাড়া এখনো বাড়ানো হয়নি বলে জানান মন্ত্রী।”

তিনি আরও বলেন, “যখন একটা প্রতিষ্ঠান একেবারে অকেজো হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি হয়, ডিসফাংশনাল হয়ে যায়, এটা তো একটা সার্ভিস। এখানে বেতন আছে, জ্বালানি আছে, মেইনটেন্যান্স আছে। আর আমাদের সরকার তো আর খুব বড় সাবসিডি সরকার কন্টিনিউ করতে পারে না।”

শেখ রবিউল আলম বলেন, “সেই জায়গা থেকে আমরা সর্বোচ্চ চাপ নিচ্ছি, ঝুঁকি নিচ্ছি, চেষ্টা করছি না বাড়ানোর। একান্তই হয়ে গেলে সেটাও আপনারা জানবেন। নিশ্চয়ই সেটা যৌক্তিকভাবে বাড়বে এবং আপনাদের জানিয়ে বাড়বে। আপাতত রেলের ভাড়া অপরিবর্তিতই থাকছে।”

source: The Dhaka Diary

Leave a Reply

Back to top button