News

প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন মতপ্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব করবে: অধিকার

মানবাধিকার সংগঠন অধিকার বলেছে, সাইবার সুরক্ষা আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, যা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব করবে। বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনা করে মতপ্রকাশ করার কারণে মতপ্রকাশকারীকে সন্ত্রাস দমন আইনে অভিযুক্ত করা হচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

শুক্রবার মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের ৩২ বছর পূর্তিতে অধিকার টিমের দেওয়া এক বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অধিকার-এর বর্তমান উদ্বেগের কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে— গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন। এই আইনগুলোতে শৃঙ্খলা বাহিনীর মানবাধিকার লঙ্ঘন তদন্ত করার ক্ষমতা রহিত করা হয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই সরকারের সময়েই মিরাজ শেখ নামের এক জেলে গুমের শিকার হন যাকে আজও ফিরে পাওয়া যায়নি।

র‍্যাব-এর নাম পরিবর্তন করে একই কাঠামো বহাল রেখে এসআরবি গঠন করা হয়েছে, যা অতীতের মতোই মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণ হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে অধিকার অবিলম্বে এই গুরুত্বপূর্ণ আইনগুলো সংশোধনের জন্য সরকারের কাছে আহ্বান জানিয়েছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ফলে বিএনপি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই এই সরকারের অনেক কর্মকাণ্ডই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে পড়েছে। ফলে অবধারিতভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে। ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই বিএনপি সরকার গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে অস্বীকার করে এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারিকৃত মানবাধিকার সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো সংসদে পাশ না করায় তা বাতিল হয়ে যায়।

৩২ বছর পূর্ণ করা অধিকার সংগঠনটি ১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর এরশাদের অবৈধ শাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রামে অংশ নেয়া কয়েকজনের প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠিত হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিবাদ করতে যেয়ে বিভিন্ন সরকারের আমলে অধিকার হয়রানি ও নিপীড়নের শিকার হয়েছে এবং সারা দেশে অধিকার এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মানবাধিকার কর্মীরা বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে আক্রান্ত হয়েছেন। বিশেষ করে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে অধিকারের ওপর হয়রানি এবং নিপীড়ন চরম আকার ধারণ করে।

অধিকার বলেছে, মানবাধিকার এবং সুশাসন ছাড়া একটি দেশ কিছুতেই এগিয়ে যেতে পারে না। ৩২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অঙ্গীকার, বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার, ন্যায় বিচার ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তাদের আপসহীন লড়াই অব্যাহত থাকবে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার ব্যক্তিদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে এবং পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে এবং আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে নিবেদিত জনগণের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করছে। গত ৩২ বছর ধরে অধিকার তার পাশে দাঁড়ানো সমস্ত মানবাধিকারকর্মী, আন্তর্জাতিক সংস্থা, স্থানীয় নেটওয়ার্ক, সমর্থক এবং শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে।

এতে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই অধিকার সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের জন্য সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে এবং জনগণের নাগরিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

source: Daily Amar Desh

Leave a Reply

Back to top button