News

অভিযুক্ত অটোরিকশাচালক ছিলেন ঘরজামাই, যেভাবে উদ্ধার হলো আইফোন

কুমিল্লার লালমাইয়ে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিন হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার অটোরিকশাচালক সুমন একসময় শ্বশুরবাড়িতে ঘরজামাই হিসেবে থাকতেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, পারিবারিক বিরোধের জেরে প্রায় এক মাস আগে তিনি শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে চলে যান। তাজমিন হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাস্থল থেকে জব্দ করা অটোরিকশার সূত্র ধরে তার পরিচয় শনাক্ত করে পুলিশ। পরে চট্টগ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উদ্ধার করা হয়েছে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোন।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেল সোয়া ৩টার দিকে সুমনকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. লুৎফর রহমান। তিনি বলেন, গ্রেপ্তার সুমনকে কুমিল্লায় আনা হচ্ছে। এ হত্যাকাণ্ডে তিনি একাই জড়িত, নাকি আরও কেউ জড়িত, তা জিজ্ঞাসাবাদের পর বিস্তারিত জানানো হবে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানান, সুমনকে জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোন উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া তাজমিনের মোবাইল ফোনের কললিস্ট বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডে একাধিক ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে।

পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের তদন্তে ঘটনাস্থল থেকে জব্দ করা অটোরিকশার নিবন্ধনের সূত্র ধরে এর মালিককে শনাক্ত করা হয়। বৃহস্পতিবার রাতে অটোরিকশার মালিককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি জানান, গাড়িটি ভাড়ায় চালাতেন সুমন। এরপর তার অবস্থান শনাক্ত করে চট্টগ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সুমনের বাড়ি চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায়। কয়েক বছর আগে বিয়ে করে লালমাই উপজেলার জয়নগর গ্রামে ঘরজামাই হিসেবে বসবাস শুরু করেন তিনি। তবে পারিবারিক বিরোধের জেরে প্রায় এক মাস আগে শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে চলে যান। এরপর আর সেখানে ফেরেননি।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ৪ অক্টোবর বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় তাজমিন। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছিলেন, বান্ধবীর বাসায় বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে সে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল। পরে তার মোবাইল ফোনের কললিস্ট বিশ্লেষণ করে পুলিশ জানতে পারে, ওই দিন সে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গিয়েছিল। পরদিন ৫ অক্টোবর কুমিল্লায় ফিরে আবার কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হয়।

পুলিশ জানায়, ৭ অক্টোবর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কক্সবাজার থেকে রওনা হয়ে রাতে কুমিল্লার পদুয়ার বাজারে নূরজাহান হোটেলের সামনে নামে তাজমিন। সিসিটিভি ফুটেজে তাকে একটি গাড়ি থেকে একা নামতে দেখা যায়। পরে আশপাশের বিভিন্ন ক্যামেরার ফুটেজে মোবাইল ফোন হাতে ও কাঁধে ব্যাগ নিয়ে তাকে ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে। একপর্যায়ে সে সড়কের দিকে চলে যায়। এরপর তার চলাচল সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার মতো কোনো ফুটেজ পাওয়া যায়নি।

তাজমিনের আইফোন উদ্ধারের পর ফোনটির কললিস্ট ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করছে পুলিশ। তার সঙ্গে কারা যোগাযোগ করেছিল এবং হত্যাকাণ্ডে আর কারা জড়িত, তা শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে লালমাই উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগৎপুর গ্রামের একটি ফসলি জমি থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

মরদেহ উদ্ধারের পর তাজমিনের বাবা সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, বুধবার গভীর রাতে তার মেয়ে মুঠোফোনে বার্তা ও লাইভ লোকেশন পাঠিয়ে তাকে আটকে রাখার কথা জানায় এবং উদ্ধারের অনুরোধ করে। তবে তিনি তখন ঘুমিয়ে ছিলেন। ভোরে বার্তা দেখে লাইভ লোকেশন অনুসরণ করে সেখানে গিয়ে মেয়ের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি জানতে পারেন।

এ ঘটনায় তাজমিনের বাবা অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন বলে জানিয়েছেন লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান।

source: The Daily Campus

Leave a Reply

Back to top button