News
ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট পাঁচ ক্যান্টনমেন্টে বিদ্রোহ না করলে, দেশ কোনোদিনই স্বাধীন হতো না: স্পিকার

ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট পাঁচ ক্যান্টনমেন্টে বিদ্রোহ না করলে, দেশ কোনোদিনই স্বাধীন হতো না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ও ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশের প্রকৃত ইতিহাস লেখা হয় নাই। যেই কারণে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট, ইপিআরের সৈনিকদের যে আত্মত্যাগ, বীরত্ব, সাহসিকতা—এ কথার উল্লেখ সঠিকভাবে নাই।’
গতকাল শনিবার (১৭ অক্টোবর) ঢাকার মহাখালীতে অবসরপ্রাপ্ত ‘সিনিয়র টাইগার্স’ (ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট)-এর এক পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
সংসদ সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, “একাত্তরে ৩০শে মার্চ যে বিদ্রোহ শুরু করেছিলাম যশোর ক্যান্টনমেন্টে, ১৫ই ডিসেম্বর সেই যুদ্ধের অবসান হলো। বাংলাদেশ স্বাধীন হলো। এই যে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈনিকদের কৃতিত্ব—জীবনপণ করে লড়াই।”
তিনি বলেন, “এতজন অফিসার, জেসিও, আদার র্যাঙ্ক শহীদ হল। এ কথা ইতিহাসে লেখা নাই। ইতিহাস বিজয়ীরা লেখে, কিন্তু বাংলাদেশের ইতিহাস লিখেছে রাজনীতিবিদরা। তাদের ইতিহাস পড়লে দেখা যায়, তাদের নেতা একটা ভাষণ দিয়েছে। এতেই দেশ স্বাধীন হয়ে গেছে।”
আরও পড়ুন
তিনি আরও বলেন, “স্বাধীনতা যুদ্ধের উদ্যোগ এবং সৃষ্টি করল ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট। ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট যদি পাঁচটা ক্যান্টনমেন্টে বিদ্রোহ না করত, এই দেশ কোনোদিনই স্বাধীন হতো না। এই ভয়াবহ দানব পাক বাহিনীর গোলাগুলির সামনে কারা মোকাবেলা করত? দুই দিন করে ভারতে যারা পালিয়ে গিয়েছে, সবাই দেশে ফিরে আসত। আবার এ দেশ পাকিস্তান থাকত।”
সংসদ সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, “আমরা যারা পাঁচটা ক্যান্টনমেন্টে বিদ্রোহ করেছি, আমাদের ভাগ্য ছিল অনিশ্চিত। কিন্তু বাংলাদেশের প্রকৃত ইতিহাস লেখা হয় নাই। যেই কারণে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট, ইপিআরের সৈনিকদের যে আত্মত্যাগ, বীরত্ব, সাহসিকতা—এ কথার উল্লেখ সঠিকভাবে নাই। আমরা এখনো জীবিত আছি। চেষ্টা করব, ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের কথা যেন বাংলার মানুষের হৃদয়ে গাঁথা থাকে।”
source: The Dhaka Diary