ভারতে ড. ইউনূসের অবমাননাকর ‘রাবণ পোস্টার’ ছিঁড়ে ফেললো সমাজবাদী পার্টি

ভারতের উত্তর প্রদেশের লখনউতে দশেরা উৎসবকে কেন্দ্র করে উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের ব্যানার টাঙানো একটি কুরুচিপূর্ণ ও উসকানিমূলক পোস্টার নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ‘সনাতন রক্ষা সংগঠনের’ উদ্যোগে টাঙানো ওই পোস্টারে পৌরাণিক চরিত্র রাবণের ১০ মাথায় বাংলাদেশের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্ক, রাহুল গান্ধী ও অখিলেশ যাদবসহ বিশ্ববরেণ্য ব্যক্তিত্বদের মুখচ্ছবি বসানো হয়েছিল। ‘সনাতন ভারতের বিরোধী রাবণ’ শিরোনামের এই পোস্টার প্রকাশের পরই চারদিকে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর ২০২৬) উত্তর প্রদেশে উদযাপিত ঐতিহ্যবাহী ‘রাবণ দহন’ উৎসবকে সামনে রেখে এই পোস্টার প্রচার করা হয়। পোস্টারে দশটি মাথায় প্রতীকীভাবে যাঁদের মুখ ব্যবহার করা হয়েছিল, তাঁদের মধ্যে ড. ইউনূস ও ইলন মাস্ক ছাড়াও ছিলেন জর্জ সোরোস, মার্কিন কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমর, সমাজবাদী পার্টির (এসপি) প্রধান অখিলেশ যাদব, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, ভারতের সাবেক এমএলএ আতীক আহমেদ ও মুখতার আনসারি, আজম খান এবং আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ। উল্লেখ্য, গত বছরও দেশটির একটি দুর্গোৎসব মণ্ডপে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে অসুর রূপে উপস্থাপন করে চরম উসকানি দেওয়া হয়েছিল।
এমন বিকারগ্রস্ত ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক পোস্টার দেখলেই স্বভাবতই স্বাধীন বাংলার অবিসংবাদিত নেতা শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের সেই অমর ও ঐতিহাসিক বাণীটি মনে পড়ে যায়। তিনি অত্যন্ত দূরদর্শিতার সঙ্গে বলে গেছেন—“যখন দেখবে কলকাতার দাদারা আমাদের সমালোচনা করছে, বুঝবে আমরা সঠিক পথে আছি। আর যখন তারা প্রশংসা করবে—বুঝবে আমরা দেশের বিরুদ্ধে কাজ করছি।” ভারতের উগ্র সাম্প্রদায়িক ও আধিপত্যবাদী শক্তি যখন বিশ্বনেতাদের এভাবে রাবণের প্রতীকী রূপে অবমাননা করে, তখন প্রমাণিত হয় যে সত্য, ন্যায় ও স্বাধীন অবস্থানের পথেই রয়েছে তাঁদের চলন।
এদিকে, এই কুরুচিপূর্ণ পোস্টার প্রকাশ্যে আসার পর তীব্র রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, উত্তর প্রদেশে বিজেপির প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এবং ধর্মনিরপেক্ষতাকামী দল সমাজবাদী পার্টির (এসপি) কর্মীরা ক্ষোভে ফেটে পড়ে লখনউয়ের বিভিন্ন স্থান থেকে ওই পোস্টারগুলো ছিঁড়ে ফেলছেন ও অপসারণ করছেন।
সমাজবাদী পার্টির এক সংসদ সদস্য এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, আসন্ন উত্তর প্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে অখিলেশ যাদবের ক্রমবর্ধমান জনসমর্থন ও জনপ্রিয়তায় ভীত হয়েই বিজেপি সমর্থিত উগ্র গোষ্ঠীগুলো এই ধরনের নিচ ও হীন রাজনৈতিক অপপ্রচার চালাচ্ছে। দশেরার মতো ধর্মীয় উৎসবকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে বিশ্বনেতাদের অবমাননা করার এই ঘৃণ্য ঘটনায় সচেতন মহলেও তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে।
source: Azadir Dak