News

পদত্যাগের আগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কী আলোচনা হয়েছিল, জানালেন ইশরাক

মাদকবিরোধী অভিযানে অস্ত্র হাতে উপস্থিতির ঘটনা ঘিরে বিতর্কের পর পদত্যাগ করা ইশরাক হোসেন জানিয়েছেন, পদত্যাগের আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তাঁর একাধিক দফায় আলোচনা হয়েছিল। ঢাকা-৬ আসনের এই সংসদ সদস্যের ভাষ্য অনুযায়ী, দুইজনের মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন বিষয়ে কথা হয় এবং পরে ভবিষ্যতে কীভাবে কাজ করবেন, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

গণমাধ্যমকে ইশরাক জানান, প্রধানমন্ত্রী তাঁকে দুপুরে সাক্ষাতের সময় দিয়েছিলেন। সেখানে একান্তে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা হয়। পরে মন্ত্রিসভার বৈঠকের সময় হয়ে গেলে প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে চলে যান। ইশরাক পাশের একটি কক্ষে অপেক্ষা করেন, যাতে বৈঠক শেষে আলোচনা আবার চালিয়ে যাওয়া যায়।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পরে প্রধানমন্ত্রী তাঁকে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ডেকে নির্ধারিত আসনে বসতে বলেন। তিনি বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠক শেষে তাঁরা আবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গিয়ে আলোচনা করেন। সেখানেই পরবর্তী সময়ে কীভাবে কাজ করবেন, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।

দলের প্রতি ক্ষোভ নেই, দাবি ইশরাকের

পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়ে দলের প্রতি কোনো ক্ষোভ রয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ইশরাক বলেন, মন্ত্রিসভার কোনো সদস্যের পদত্যাগ দল স্বাভাবিকভাবে চাইবে না।

তিনি অভিযোগ করেন, কয়েকটি দৈনিক পত্রিকা পরিকল্পিতভাবে তাঁর বিরুদ্ধে প্রচার চালাচ্ছে। তাঁর দাবি, তাঁকে ক্ষতিগ্রস্ত করার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর কর্মকাণ্ডকেও বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

বিরোধী দলের নেতারাও পাশে থাকার কথা বলেছেন

ইশরাকের দাবি, বিরোধী দলের একাধিক নেতা তাঁকে ফোন করে সমর্থন জানিয়েছেন। তাঁদের অনেকে তাঁর পাশে থাকার এবং ভবিষ্যৎ কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলেও জানান তিনি।

তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিরোধী দলের নেতাদের বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ার ইঙ্গিত

আগামী ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ইশরাক বলেন, ২০২০ সাল থেকে তাঁর সঙ্গে কাজ করা নেতাকর্মীদের অনেকে তাঁকে ওই পদে দেখতে চেয়েছেন এবং এখনো চান।

তবে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে মেয়র পদে প্রার্থিতা ঘোষণা করেছেন কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

যে ঘটনা ঘিরে বিতর্ক

গত ১৭ অক্টোবর রাজধানীর গেন্ডারিয়া থানার ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডে রেললাইনের পাশের একটি মাঠের কাছে মাদকবিরোধী অভিযান চালান ইশরাক হোসেন ও তাঁর সহযোগীরা। ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে তাঁকে অস্ত্র হাতে মাদকাসক্ত ও মাদক বিক্রেতাদের ধাওয়া করতে দেখা যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। পরে ইশরাক তাঁর বক্তব্যে দাবি করেন, অভিযানে যাওয়ার আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নিজস্ব গোয়েন্দা সূত্র থেকে নিরাপত্তাঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছিল। মাদক কারবারিরা ওপর থেকে গুলি চালাতে পারে—এমন আশঙ্কার কারণে তিনি ও তাঁর সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা আত্মরক্ষার্থে অল্প সময়ের জন্য অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেছিলেন বলে ব্যাখ্যা দেন।

পদত্যাগ নিয়ে প্রথমে অস্বীকার, পরে সিদ্ধান্ত

ঘটনাটি নিয়ে বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ার পর রোববার মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী তাঁকে ডেকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন বলে সংবাদ প্রকাশিত হয়। তবে প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় ইশরাক এ ধরনের খবরকে মিথ্যা বলে দাবি করেছিলেন।

পরদিন সোমবার সকালে তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা জানান। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মন্ত্রিসভায় শপথ নেওয়ার প্রায় নয় মাসের মাথায় তিনি তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভা থেকে সরে দাঁড়ান।

পদত্যাগের আগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর আলোচনার বিবরণ প্রকাশের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

source: Azadir Dak

Leave a Reply

Back to top button