Jannah Theme License is not validated, Go to the theme options page to validate the license, You need a single license for each domain name.
Uncategorized

জামায়াতের ইশতেহার: প্রতিরক্ষায় আত্মনির্ভরতা ও কূটনীতিতে পুনর্বিন্যাস

প্রবাস কন্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট:

পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক বাস্তবতায় বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ঘোষিত এ ইশতেহারে পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা খাতে ব্যাপক সংস্কার ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের কথা তুলে ধরা হয়েছে।

ইশতেহারে প্রচলিত রাজনৈতিক অঙ্গীকারের পাশাপাশি বৈশ্বিক কূটনীতি, সামরিক সক্ষমতা এবং জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ে একটি বিস্তৃত ভবিষ্যৎ রূপরেখা উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে ন্যায্যতা ও পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক জোরদার, মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে নতুন কূটনৈতিক সমীকরণ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে প্রতিরক্ষা খাতে পূর্ণ আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনের লক্ষ্য এতে গুরুত্ব পেয়েছে।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে এ নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করা হয়। অনুষ্ঠানে দলের শীর্ষ নেতারা পররাষ্ট্রনীতি ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

পররাষ্ট্রনীতি: সম্মান, ন্যায্যতা ও ভারসাম্যের কূটনীতি

ইশতেহারে জামায়াতে ইসলামী একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও মর্যাদাভিত্তিক পররাষ্ট্রনীতির ওপর জোর দিয়েছে। প্রস্তাবিত নীতির প্রধান দিকগুলো হলো-

১. আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ ও বাংলাদেশি নাগরিকদের সম্মান বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশি পাসপোর্টের গ্রহণযোগ্যতা জোরদার করা।

২. ভারত, ভুটান, নেপাল, মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ ও থাইল্যান্ডসহ প্রতিবেশী ও নিকটবর্তী দেশগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা।

৩. মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ককে অগ্রাধিকার দেওয়া।

৪. যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশ, জাপান ও কানাডাসহ উন্নত রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে গঠনমূলক ও বাস্তবমুখী সম্পর্ক জোরদার করা।

৫. পূর্ব ইউরোপ, আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক সম্প্রসারণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ।

৬. বিশ্ব শান্তি, মানবাধিকার ও উন্নয়ন ইস্যুতে জাতিসংঘ এবং এর অঙ্গসংস্থাগুলোতে বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণ আরও বাড়ানো।

৭. সার্ক ও আসিয়ানের মতো আঞ্চলিক জোটে বাংলাদেশের ভূমিকা শক্তিশালী করা।

৮. আন্তর্জাতিক সহায়তায় রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই ও শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা।

৯. জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ অব্যাহত রাখা।

১০. বৈধ, নিরাপদ ও স্বচ্ছ অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় কাজ করা।

প্রতিরক্ষানীতি: ভিশন ২০৪০ ও সামরিক আত্মনির্ভরতার লক্ষ্য

প্রতিরক্ষা খাতে জামায়াত ঘোষিত পরিকল্পনার মূল বিষয়গুলো হলো-

১. আধুনিক বৈশ্বিক নিরাপত্তা বাস্তবতার আলোকে সব প্রতিরক্ষা অংশীজনের সমন্বয়ে একটি সময়োপযোগী জাতীয় প্রতিরক্ষা নীতি প্রণয়ন।

২. বিদ্যমান ভিশন ২০৩০ পুনর্মূল্যায়ন করে আধুনিকায়নের মাধ্যমে নতুন ‘ভিশন ২০৪০’ প্রণয়ন এবং হালনাগাদ সামরিক ডকট্রিন তৈরি।

৩. প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়নে সমন্বয় জোরদার করতে একটি জাতীয় সামরিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা, যার লক্ষ্য হবে আধুনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি অর্জন ও দেশীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি।

৪. সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে এবং নিজস্ব প্রযুক্তি বিকাশে প্রতিরক্ষা বাজেট ধাপে ধাপে বৃদ্ধি ও বাহিনীর আধুনিকীকরণ।

৫. ২০৪০ সালের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সামরিক সরঞ্জাম দেশেই উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জনের মাধ্যমে শতভাগ আত্মনির্ভরশীলতার পথে অগ্রসর হওয়া।

৬. জাতীয় নিরাপত্তা জোরদারে সামরিক গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর আধুনিকীকরণ, সংস্কার ও কাঠামোগত পুনর্বিন্যাস।

৭. ১৮ থেকে ২২ বছর বয়সী তরুণ-তরুণীদের জন্য ৬ থেকে ১২ মাসের স্বেচ্ছাসেবী সামরিক প্রশিক্ষণ চালুর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা।

৮. জনসংখ্যার অনুপাতে পর্যায়ক্রমে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যসংখ্যা বৃদ্ধি।

৯. সীমান্ত এলাকায় মাদক চোরাচালানসহ সব ধরনের অবৈধ কার্যক্রম দমনে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সক্ষমতা জোরদার।

প্রবাস কন্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট/আ/মু

Source: thedhakadiary.com

Back to top button