বাংলাদেশ-পাকিস্তানে এলএনজি সরবরাহ বাতিল করলো কাতারএনার্জি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান তীব্র সংঘাত এবং বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি পথ হরমুজ প্রণালিতে আশঙ্কাজনক নিরাপত্তা সংকটের কারণে ইউরোপ ও এশিয়ার দেশগুলোতে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ বাতিলের মেয়াদ আবারও বাড়াল কাতারএনার্জি। ব্লুমবার্গ ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে জানা গেছে, চলতি সপ্তাহে কাতারএনার্জি পাকিস্তানের ক্রেতাদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে যে তাদের এলএনজি কার্গো বাতিলের প্রক্রিয়া আগামী অক্টোবর পর্যন্ত বহাল থাকবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের এলএনজি সরবরাহের ক্ষেত্রেও ‘ফোর্স মেজর’ বা অপরিহার্য পরিস্থিতির মেয়াদ চলতি সেপ্টেম্বরের পরও বাড়ানো হয়েছে।
ইউরোপের জ্বালানি খাতও কাতারের এই সরবরাহের সংকটে চরমভাবে প্রভাবিত হচ্ছে। ইতালির শীর্ষ জ্বালানি কোম্পানি ‘এডিসন’ নিশ্চিত করেছে যে গত এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া কাতারএনার্জির সরবরাহ স্থগিতাদেশের মেয়াদ নভেম্বরের শুরু পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে শুধুমাত্র এডিসনেরই প্রায় ২৯টি এলএনজি কার্গো ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তারা বিকল্প উৎস থেকে নিজস্ব যোগান বজায় রাখার চেষ্টা করছে।
সংকটের সূত্রপাত ঘটে মূলত গত মার্চের ৪ তারিখে, যখন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের জের ধরে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল মারাত্মক ব্যাহত হয় এবং কাতারএনার্জি এলএনজি কার্যক্রমে ফোর্স মেজর ঘোষণা করতে বাধ্য হয়। পরবর্তীতে মার্চের শেষদিকে কাতারের প্রধান জ্বালানি হাব ‘রাস লাফান’ স্থাপনায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলে পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নেয়।
কাতারএনার্জির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও কাতারের জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী সাদ শেরিদা আল-কাবি জানান, রাস লাফানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর থেকে কাতারের এলএনজি রপ্তানি সক্ষমতা প্রায় ১৭ শতাংশ কমে গেছে। এর ওপর গত জুলাইয়ে হরমুজ প্রণালিতে কাতারের এলএনজি ট্যাংকার ‘আল রেকায়্যাত’-এর ওপর ইরান ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালালে নিরাপত্তার বিষয়টি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
বর্তমানে কাতার থেকে জ্বালানি রপ্তানি চরমভাবে সীমিত থাকলেও তেহরানে উচ্চপর্যায়ের সফর চালিয়ে যাচ্ছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার স্বাভাবিক রাখতে এবং আঞ্চলিক যুদ্ধ পরিস্থিতি প্রশমনে দোহা তার জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে।
source: Azadir Dak