Jannah Theme License is not validated, Go to the theme options page to validate the license, You need a single license for each domain name.
Bd বাংলাদেশ

ভোট রিগিং করেছে আব্বাস উদ্দিন: নির্বাচন কমিশনে যে ১১ অভিযোগ দিলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

প্রবাস কন্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট:

ঢাকা-৮ আসনে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ এনে নির্বাচন কমিশনে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মনোনীত প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি শাপলা কলি প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। অভিযোগে তিনি দাবি করেন, একই আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ ও তার নেতা-কর্মী, এজেন্ট এবং পরিবারের সদস্যরা ভোট রিগিং, প্রভাব বিস্তার, ফলাফল আটকে রাখা এবং বাতিল ভোট গণনায় অন্তর্ভুক্ত করার মতো অনিয়ম করেছেন।

তিনি অভিযোগ করেন, সংশ্লিষ্ট প্রিজাইডিং অফিসার ও রিটার্নিং অফিসারও এসব অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন এবং তাকে বিজয়ী ঘোষণা না করে ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নির্বাচন কমিশনের কাছে ভোট পুনর্গণনার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি পুনর্গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওই আসনের শপথ অনুষ্ঠান স্থগিত রাখার আহ্বান জানান। তিনি দাবি করেন, ১৯৭২ সালের গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ও ২০০৮ সালের নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হয়েছে।

আরও পড়ুন: মির্জা আব্বাসকে শপথ থেকে বিরত রাখার আহ্বান নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর

অভিযোগপত্রে তিনি ১১টি কেন্দ্রের নির্দিষ্ট অনিয়ম তুলে ধরেন। তার দেওয়া অভিযোগগুলো হুবহু নিচে তুলে ধরা হলো-

১. কেন্দ্র নং ২৮, আব্বাস মহিলা ডিগ্রি কলেজ, শাহজাহানপুর: মির্জা শাপলা কলির পোলিং এজেন্টকে মির্জা আব্বাসের বাহিনী ঢুকতে বাধা প্রদান করে এবং পথরোধ করে আটকে রাখে। এছাড়াও ভোট গণনার সময় কাল-বিলম্ব করা হয়, দীর্ঘ সময় ধরে ফলাফল আটকে রাখা হয় এবং প্রিজাইডিং অফিসারের ওভাররাইটিং করা শিটে আমাদের এজেন্টকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয়।

২. কেন্দ্র নং ২৯, শাহজাহানপুর রেলওয়ে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়: প্রিজাইডিং অফিসার আমাদের দুইজন পোলিং এজেন্টকে বুথ থেকে জোরপূর্বক বের করে দেয় এবং প্রায় দুই ঘন্টা যাবৎ ভোট রিগিং করে।

২. কেন্দ্র নং ৩১, শাহজাহানপুর রেলওয়ে উচ্চ বিদ্যালয়: মহিলা ভোট কেন্দ্রে পুরুষ পোলিং এজেন্ট রাখা যাবে না মর্মে অহেতুক বেআইনি অভিযোগ উত্থাপন করে কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার আমাদের এজেন্টদেরকে পাস না নিয়ে প্রায় দেড় ঘন্টা বিলম্ব করে এবং এই সময়ে কারচুপির আশ্রয় নেয়।

৪. কেন্দ্র নং ৩২, শাহজাহানপুর রেলওয়ে উচ্চ বিদ্যালয়: মহিলা ভোট কেন্দ্রে পুরুষ পোলিং এজেন্ট প্রধান থাকতে পারবে না বলে শাপলা কলির পক্ষে একজন মহিলা পোলিং এজেন্টকে ভোট গণনার সময় আটকে রেখে ভয়ভীতি দেখিয়ে ভোট গণনা করা হয় এবং জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হয়।

৫. কেন্দ্র নং ৩৪, আব্দুল গফুর শিক্ষা শিবির: প্রিজাইডিং অফিসার শাপলা কলির ছয়জন পোলিং এজেন্টকে দীর্ঘ সময় পাস না দিয়ে ভিতরে ভোট কারচুপিতে মির্জা আব্বাসের কর্মী বাহিনীকে সহায়তা করে।

৬. কেন্দ্র নং ৩৮, মির্জা আব্বাস মহিলা ডিগ্রি কলেজ: প্রিজাইডিং অফিসারের সরাসরি নির্দেশনায় কেন্দ্রের প্রধান গেটে মির্জা আব্বাসের কর্মী বাহিনী শাপলা কলি মার্কার পোলিং এজেন্টদের থেকে প্রার্থী কর্তৃক স্বাক্ষরিত মূল ফাইলটি ছিনিয়ে নিয়ে যায়। সেখানে প্রায় ২ ঘন্টা পোলিং এজেন্টগণ কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারেন নি এবং এই সময়ে ধানের শীষের লোকজন ব্যাপক কারচুপি সম্পন্ন করে।

৭. কেন্দ্র নং ৪০, দ্বীপশিখা প্রি-ক্যাডেট হাইস্কুল: বেআইনি অযুহাত দেখিয়ে প্রিজাইডিং অফিসার শাপলা কলি মার্কার ৭ জন পোলিং এজেন্টকে পাস না দিয়ে কেন্দ্র থেকে বের করে দেন। পরবর্তীতে প্রশাসনের সহযোগিতায় প্রায় ২ ঘন্টা পর তাদের বুথে প্রবেশ করতে দেওয়া হলেও, ভোট গণনার সময় তাদের ওপর ব্যাপক চাপ প্রয়োগ করে করা হয় এবং আইনানুগভাবে বাতিল ও নষ্ট ভোটকে সঠিক ভোট হিসাবে ধানের শীষের ভোট হিসাবে গণনা করা হয়। আমাদের এজেন্টদের আপত্তিকে পাও না দিয়ে উল্টো চাপ সৃষ্টি করা হয়।

৮. কেন্দ্র নং ৭৫, ইস্কাটন গার্ডেন স্কুল (মহিলা): প্রিজাইডিং অফিসার মহিলা এজেন্টদের অবরুদ্ধ করে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে স্বাক্ষর দিতে বাধ্য করে।

৯. কেন্দ্র নং ৮৩, সিদ্ধেশ্বরী গার্লস স্কুল: প্রথমবার গণনার পর এজেন্টদের স্বাক্ষর নেওয়া হয়। কিন্তু মির্জা আব্বাসের কর্মী বাহিনীর চাপে আবারো গণনা করে বাতিলকৃত ভোট ধানের শীষের ভোট হিসাবে যুক্ত করে জোর করে স্বাক্ষর নেওয়া হয়।

১০. কেন্দ্র নং ৮৮, সিদ্ধেশ্বরী বালক বিদ্যালয়: বাতিলকৃত ভোটকে ধানের শীষের ভোট হিসাবে যুক্ত করার জন্য পোলিং এজেন্টকে চাপ প্রয়োগ করা হয়। মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাস বেআইনিভাবে কেন্দ্রে প্রবেশ করে প্রায় সাড়ে তিন ঘন্টা অবস্থান করে ফলাফল প্রভাবিত করেন। পরবর্তীতে ম্যাজিস্ট্রেট আসার পরও তাকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।

১১. কেন্দ্র নং ৯৪ ও ৯৫ বিজ্ঞান ক্যাফেটেরিয়া, ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি অনুষদ ঢাকা বিশ্বিবিদ্যালয় এলাকা: প্রিজাইডিং অফিসার প্রথমে শাপলা কলির পোলিং এজেন্টকে দীর্ঘ সময় পাস না দিয়ে ভিতরে ভোট কারচুপিতে সহযোগীতা করেন। প্রথমে বলেন দুটি বুথ নেই বলে শাপলা কলির পোলিং এজেন্টকে বের করে দেয়। আবার দেখা যায় শেষে বুথ আছে এবং ভোট গণনা করেন।

প্রবাস কন্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট/আ/মু

Source: thedailycampus.com

Back to top button