Jannah Theme License is not validated, Go to the theme options page to validate the license, You need a single license for each domain name.
Bd বাংলাদেশ

জামায়াতকে ফখরুলের ‘নির্মূলের’ ঘোষণায় উত্তেজনা, তিনি ও জামায়াত আমির আসলে কী বলেছিলেন?

প্রবাস কন্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট:

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দেওয়া একটি বক্তব্য ঘিরে দেশে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা হচ্ছে। গতকাল (২৫ এপ্রিল) নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যৌথ সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া এ বক্তব্যে জামায়াতকে রাজনৈতিকভাবে নির্মূলে তারা কাজ করবেন বলেন জানান। তার এ বক্তব্যের পর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জামায়াত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিভিন্ন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে বিএনপিকে অভিযুক্ত করে সম্প্রতি জামায়াতের আমিরের করা এক বক্তব্যের জবাবে দেওয়া বক্তবে মির্জা ফখরুল গতকাল আসলে কী বলেছিলেন, এর জবাবে জামায়াত কী বলছে, আর জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানই বা সেই বক্তব্যে কী বলেছিলেন, সেসব বিষয়েই দ্য ঢাকা ডায়েরি এ আয়োজনে তুলে ধরার চেষ্টা করেছে।

যা বলেছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর:

আমি আজকে এক পত্রিকায় একটি সংবাদ দেখলাম। যে সংবাদটি আমাকে অত্যন্ত আহত করেছে। যেখানে জামায়াতে ইসলামীর আমির, তিনি বলছেন যে বিএনপি ইঞ্জিনিয়ারিং করে ক্ষমতায় এসেছে। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি, প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এবং তিনি বা তার দল যে কখনোই সুস্থভাবে চিন্তা করেন না, তা প্রমাণিত হয়েছে।

সমগ্র পৃথিবী থেকে আসা অবজার্ভার,সমগ্র বিশ্বের ও বাংলাদেশের সমস্ত প্রতিষ্ঠানগুলো পত্র-পত্রিকা-মিডিয়া এক বাক্যে স্বীকার করেছে যে, এই নির্বাচনটি ছিল এই কালের অর্থাৎ বাংলাদেশ থেকে সবচাইতে নিরপেক্ষ, অবাধ এবং সুষ্ঠু নির্বাচন। সেই সুষ্ঠ নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে বিএনপি তার জনপ্রিয়তার মধ্য দিয়ে ২১৩ টি আসন লাভ করে সরকার গঠন করার সুযোগ পেয়েছে। সুতরাং জামায়াতে ইসলামীর আমিরের এই বক্তব্য আবার আমরা প্রত্যাখ্যান করছি। শুধু তাই নয় নিন্দা জানাচ্ছি এবং ক্ষোভ প্রকাশ করছি।

আজকে বিভিন্নভাবে বিএনপির বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের উপরে বিভিন্নভাবে অপপ্রচারের প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে এবং ওই শক্তিটির পক্ষ থেকেই আবার একটি ধুম্রজাল ও বিবেদ সৃষ্টি করার। আমরা ৫ আগস্টের পরে যে সুযোগ পেয়েছি বাংলাদেশে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার, সেই প্রচেষ্টাকে নষ্ট করে আবার একটা ফ্যাসিস্ট শাসনের পায়তারা তারা করছে কিনা সেটা আমাদেরকে চিন্তা করতে হবে। দেশবাসীকে চিন্তা করতে হবে, ভিন্নভাবে দেশকে আবার স্বৈরাচারের মধ্যে তারা নিতে চায় কিনা সেটাও আমাদেরকে চিন্তা করতে হবে এবং তাদের যে অতীত ইতিহাস সে ইতিহাস আমরা সবাই খুব ভালো করে জানি। সেই কারণেই সমগ্র জাতি অত্যন্ত সচেতনভাবে তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং আগামীতে যেন পুরোপুরি তাদেরকে নির্মূল করা যায় রাজনৈতিকভাবে সেইভাবেই আমাদেরকে কাজ করতে হবে।

দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে বিনষ্ট করার জন্য একটি পক্ষ প্রথম থেকেই অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। নির্বাচনের আগে থেকেই বিএনপির বিরুদ্ধে অফুরন্ত মিথ্যাচার, অপপ্রচার, সোশ্যাল মিডিয়াকে অন্যায় ও অনৈতিকভাবে ব্যবহার করে জনগণের কাছ থেকে দলকে সরিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা করেছে। কিন্তু তারা সফল হয়নি। তারা ফ্যাসিস্ট শাসনের পাঁয়তারা করছে কি না, সেটা চিন্তা করতে হবে। ভিন্নভাবে দেশকে আবার স্বৈরাচারের মধ্যে নিতে চায় কি না, সেটাও ভাবতে হবে।

জামায়াতের প্রতিবাদএদিকে বিএনপির মহাসচিবের বক্তব্যের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার গতকাল রাতেই এক বিবৃতিতে বলেন, ‘বিএনপি মহাসচিব বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে পুরোপুরি রাজনৈতিভাবে নির্মূল করার হুমকি দিয়ে যে অসাংবিধানিক, অনাকাঙ্ক্ষিত এবং অশোভন বক্তব্য দিয়েছেন আমি তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

‘বিএনপি মহাসচিব জনাব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাজনৈতিকভাবে নির্মূল করার হুমকি দিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন তা গণতন্ত্রের ভাষা নয়। এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত বক্তব্য দিয়ে তিনি পতিত আওয়ামী ফ্যাসিবাদীদের ভাষায় কথা বলেছেন যা মোটেই সমীচীন নয় এবং অত্যন্ত দুঃখজনকও বটে। তার মত দায়িত্বশীল নেতার নিকট থেকে দেশবাসী এ ধরনের রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত বক্তব্য আশা করে না। তার এই বক্তব্য অতীতের মত দেশকে সহিংসতা ও উস্কানিমূলক নৈরাজ্যের দিকে ঠেলে দেবার ইঙ্গিত বহন করে।’

‘যেই মুহূর্তে দশের ১৮ কোটি মানুষ এক রক্তক্ষয়ী বিপ্লবের মাধ্যমে একদলীয় ফ্যাসিবাদী শাসকদের দেশ থেকে বিতাড়িত করে দেশে গণতন্ত্র, আইনের শাসন, ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে, ঠিক সেই মুহূর্তে জাতীয় সংসদের বিরোধীদল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে পুরোপুরি রাজনৈতিভাবে নির্মূলের হুমকি দিয়ে বিএনপি মহাসচিব একদলীয় আওয়ামী ফ্যাসিবাদের সূরে কথা বলেছেন। তার এ বক্তব্যেই প্রমাণিত হচ্ছে যে, তারা জাতীয় সংসদের বিরোধীদলকে পুরোপুরি রাজনৈতিকভাবে নির্মূল করে এ দেশে আবার একদলীয় কর্তৃত্ববাদী ও ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েমের ষড়যন্ত্র করছেন।’

‘সচেতন দেশবাসী মনে করে কোন দল বা ব্যক্তি যখন আদর্শ, যুক্তি ও নৈতিকতা দিয়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে মোকাবিলায় ব্যর্থ হয়, কেবল তখনই এ ধরনের সন্ত্রাস ও সহিংসতার মত উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে নিজেদের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বেরই পরিচয় দেয়।’

‘বিএনপি মহাসচিবের বক্তব্যের জবাবে আমি স্পষ্ট ভাষায় জানাতে চাই, অতীতের আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শক্তি সাড়ে ১৭ বছর অন্যায়ভাবে অগণতান্ত্রিক ও সন্ত্রাসী তাণ্ডব চালিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে নির্মূল করতে পারেনি। সুতরাং আমি আশা করি যে, এ ধরনের অপরিণামদর্শী বক্তব্য থেকে বিএনপি মহাসচিব বিরত থেকে গণতান্ত্রিক পরিবেশকে সমুন্নত রাখবেন। অতীতে জামায়াতে ইসলামীকে রাজনৈতিভাবে নির্মূল করতে গিয়ে আওয়ামী ফ্যাসিবাদীরাই প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। অনুরূপভাবে কেউ বা কোন দল জামায়াতে ইসলামীকে নির্মূল করার ষড়যন্ত্র করলে এ দেশের জনগণ তাদেরও একইভাবে প্রত্যাখ্যান করবে।’

‘কাজেই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে নির্মূল করার হুমকি দিয়ে, ভয় দেখিয়ে কাবু করা যাবে না। এ ধরনের অগণতান্ত্রিক ও উস্কানিমূলক ভাষা ব্যবহার করে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে না দিয়ে নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক ভাষায় কথা বলার জন্য আমি বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’

জামায়াতের আমির কী বলেছিলেন?

গত ১৭ এপ্রিল রাজধানীর আল-ফালাহ মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ‘জেলা ও মহানগরী আমীর সম্মেলন’ অনুষ্ঠিত হয়। সেই সম্মেলনে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন।

তখন তিনি বলেন, ‘শুধু চব্বিশের জুলাই নয় ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে এদেশে সন্ত্রাসের কবলে পড়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ১১ জন শীর্ষ দায়িত্বশীল নেতাসহ আমাদের সহস্রাধিক কর্মীকে হারিয়েছি। অন্যান্য বিরোধী দল ও মতের উপর একই তাণ্ডব চালিয়েছি ফ্যাসিবাদী সরকার।’

‘ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় জুলাই বিপ্লবের পর দেশে একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছিল। ট্রানজিশনাল পিরিয়ডের সরকার হিসেবে তাদের একটি পবিত্র দায়িত্ব ছিল ক্ষমতা হস্তান্তরটিকে স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য করা। কার্যত তারা সে দায়িত্ব পালন করতে পারেননি, ব্যর্থ হয়েছেন। ফলে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও ত্যাগের মধ্য দিয়ে জাতির মধ্যে যে আকাক্সক্ষা তৈরি হয়েছিল, নির্বাচনের মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন হয়নি। কেন হয়নি তা পরিষ্কার। নির্বাচনকে সুষ্ঠু হতে দেয়া হয়নি। ব্যাপক ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের একজন উপদেষ্টার মুখ থেকে তা বের হয়েছে। তিনিই প্রথম রাজসাক্ষী।’

‘অধ্যাপক ইউনূস যুক্তরাজ্য সফরে গিয়ে বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তৎকালীন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাথে একটি বৈঠকের পর যৌথ সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে হতে পারে বলে জানান। আমরা এটির প্রতিবাদ করেছিলাম যে, বিদেশের মাটিতে বসে দেশের নির্বাচনের তারিখ কেন ঘোষণা করা হবে? দ্বিতীয়ত, বিএনপি একমাত্র স্টেকহোল্ডার নয়। সেসময় দেশে ৩৯টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল ছিল। আমরা স্পষ্ট বলেছিলাম তিনি জাতিকে একটি ভুল বার্তা দিয়ে এসেছেন।’

‘ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিং হয়েছে। বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাই নয়, বরং সরকারেরই একজন প্রতিমন্ত্রী বলে ফেলেছেন যে, আন্দোলন করেছে যুবসমাজ, আমরাও ছিলাম। তবে প্রফেসর ইউনূস যুক্তরাজ্যে গিয়ে ক্যাপ্টেনের হাতে ট্রফি তুলে দিয়ে এসেছেন। ট্রফি যদি ওখানেই তুলে দেয়া হয়, তাহলে নির্বাচনের প্রয়োজন কি? এটি দ্বিতীয় রাজসাক্ষী। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে যে নির্বাচনে যোগসাজশের মাধ্যমে ব্যাপক অনিয়ম করে জনগণের প্রত্যাশার কবর রচনা করা হয়েছে।’

‘দুটি ভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হয়েছে পৃথক ব্যালটে। একটি ছিল জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচন, আরেকটি হলো গণভোটে হ্যাঁ কিংবা না। জনগণ তাদের রায় দিয়েছে। গণভোটে ৬৮% -এর বেশি হ্যাঁ-তে ভোট দিয়েছেন জনগণ। বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের এক উপদেষ্টা বলেছেন তাদের আমরা মেইন স্ট্রিমে আসতে দেইনি। তাদের ১৬৮টি পাওয়ার কথা ছিল তাদের আমরা ৬৮টিতে বেঁধে দিয়েছি। এটি চরম লজ্জাজনক, বলেন ডা. শফিকুর রহমান।’

‘ইতিহাস একদিন এই নির্বাচনের পোস্টমর্টেম করবে। সেদিন চুলচেরা আরও অনেক জিনিস বের হয়ে আসবে। তবে আমাদের ঐক্য (১১ দল) দেশ পরিচালনার জায়গায় গেল কিনা সেটি বড় আফসোসের জায়গা নয়, জনগণের আকাক্সক্ষার মৃত্যু হলো। আমরা চাইনি দেশে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হোক। এই নির্বাচন শেষ নির্বাচন নয়, এই মার্কা নির্বাচন ২০০৮ সালে হয়েছিল। সেই নির্বাচনে বোঝাপড়া করে পিছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতার মসনদে যারা গিয়েছিলেন, তারা তাদের পরিণতি বহন করে বিদায় হয়েছে। এখনো যদি কেউ এমন করে থাকেন, তাদের পরিণতি ভিন্ন কিছু হওয়ার কথা নয়- তা প্রমাণিত, কারণ প্রধান বিচারক আল্লাহ তায়ালা।’

‘আমাদের আফসোসের জায়গা হলো জনগণের ভোটাধিকার আর কতকাল চোরাবালিতে হামাগুড়ি খাবে। আমরা আশাবাদী, অপসংস্কৃতির অপনোদন হবে। সুস্থ রাজনীতির বিকাশ ঘটবে। আমরা সেই সুস্থ রাজনীতির ধারায় হাঁটছি বলেই এতো বড় দলীয় বা জোটগত ক্ষতি আমরা মেনে নিয়েছি বৃহত্তর স্বার্থে। আরেকটি আফসোস হলো আমরা প্রথম দিনে দুটি শপথ নিলেও সরকারি দল একটি নিয়েছে। আমরা প্রতারণা ও ধোকাবাজির রাজনীতিকে প্রত্যাখান ও ঘৃণা করি।’

‘সংসদ নির্বাচনের নির্দিষ্ট সময় সীমা ৩০ দিনের মধ্যে সংসদ অধিবেশন ও সংস্কার পরিষদের অধিবেশ না ডাকায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন। সংকট বিএনপ সংসদ সদস্যদের শপথ না নেয়ার মধ্যদিয়ে সূচনা এবং সংস্কার পরিষদের অধিবেশন না ডাকার মধ্যদিয়ে তার ষোলোকলা পূর্ণ করা হয়। মার্চের ১২ তারিখ সংসদ অধিবেশন ডাকা হয়। সময় স্বল্পতার মধ্যে বিরোধীদল সংসদে নোটিশ উত্থাপন করলেও তা টকডআউট করা হয়, যা স্পিকারের নিরপেক্ষতাকে ক্ষুণ্ণ করে।’

‘জনগণের রায়কে অস্বীকার, অগ্রাহ্য অমান্য করার ধারা শুরু হয়, এরপর থেকেই চলছে। অধিবেশনের প্রথম দিনেই বিগত সরকারের ১৩৩টি অধ্যাদেশ উত্থাপিত হয়েছিল। ৩০ দিনের মধ্যে এটি নিষ্পত্তি করতে হবে। যে যে জায়গায় সংবিধানের বর্তমান অবস্থানকে পরিবর্তন করার জন্য অধ্যাদেশ জারি হয়েছে- সেই জায়গাগুলো বিএনপি বদলাতে চায় না। অর্থাৎ ঐ জায়গাগুলো রেখে দিয়ে ফ্যাসিবাদী কায়দায় হয়তো তারা দেশ চালাতে চায়। আমাদের লোকেরা তখন নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছেন।’

‘আমরা বলেছিলাম ১৩৩টি অধ্যাদেশে সংসদে উত্থাপিত হয়েছে এটা সংসদের প্রপার্টি, এটা সংসদেই আলোচিত হতে হবে। কিন্তু শেষ দিন দেখা গেল এখানে কাটছাট করে আমাদের সামনে আলোচ্যসূচি দেয়া হয়েছে। আমরা তখন বাধ্য হয়ে আবার সংসদ থেকে ওয়াকআউট করি। আমরা বলেছিলাম গণভোটকে বাস্তবায়ন করার জন্য জনগণের কাছে গিয়েছিলাম। আমরা আবার জনগণের এজেন্ডা নিয়ে জনগণের কাছে চলে যাচ্ছি।’

‘দেশে একটা সরকার গঠিত হয়েছে। বিশ্বে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিভিন্ন দেশের মতো আমাদের দেশও আর্থিক ও জ্বালানি সংকটের মুখোমুখি হোক- তা আমরা চাইনি। আমরা আন্দোলন সংগ্রামের দিকে যাবো এতে জনদুর্ভোগ বাড়বে, আমরা এটা চাইনি। কিন্তু আমাদের যখন সংসদে ন্যায্য বিষয়ে কথা বলতে দেয়া হবে না, তখন আমাদের জায়গা থাকে রাজপথ। কারণ আমরা জনগণের দায়িত্ব নিয়ে সেখানে ঢুকেছি।’

প্রবাস কন্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট/আ/মু

Source: thedhakadiary.com

Back to top button