জনগণ চাইলে আমি মেয়র নির্বাচনও করব: রিকশাচালক সুজন

জনগণ যোগ্য মনে করলে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার কথা জানিয়েছেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আলোচনায় আসা রিকশাচালক মোহাম্মদ সুজন। তিনি বলেছেন, জনগণ চাইলে আমি নির্বাচনে অংশ নেব। আর জনগণ যোগ্য মনে না করলে প্রার্থী হবো না।
শনিবার (১৮ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সুজন।
সুজন বলেন, ‘জনগণ যদি বলে, সুজন ভাই, আপনি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নামেন, তাহলে জনগণ যদি আমাকে যোগ্য মনে করে, আমি নামব। আর জনগণ যদি বলে সুজন যোগ্য না, তাহলে আমি নামব না। জনগণ তো হঠাৎ করে বলবে না। জনগণ আগে শুনবে, পরে সিদ্ধান্ত দেবে। এখন আমি কথা বললাম, আর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে জনগণ কীভাবে সিদ্ধান্ত দেবে?’
নিজের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ইচ্ছা আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে সুজন বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণ যা বলবে, আমি তা-ই করব। জনগণ যদি বলে, সুজন ভাই, আপনি নির্বাচনে নামেন, আমি নামব।’
ঢাকা-৮ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মনোনয়ন ফরম জমা দেওয়ার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি। সুজন বলেন, কিছু ‘হলুদ মিডিয়া’ ভিউ পাওয়ার জন্য তাকে নিয়ে নানা মন্তব্য করেছে। তাকে কোটি কোটি টাকার মালিক বলেও প্রচার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমি ফরম জমা দিয়েছিলাম। আমাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। কিছু হলুদ মিডিয়া ভিউ কামানোর জন্য বলেছে, সুজনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমি আগেও বলেছি, এখনো বলছি আমি ফরম জমা দিয়েছিলাম, আমাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি।’
নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমর্থনের কথাও উল্লেখ করেন সুজন। তিনি বলেন, ‘এনসিপি আমার সহযোদ্ধা, জামায়াত আমার সহযোদ্ধা, বিএনপি আমার সহযোদ্ধা। সবাইকে আমার সঙ্গে থাকতে হবে। সবাই যদি আমাকে সমর্থন করে, তাহলে আমি নির্বাচন করব।’
তবে নির্বাচনের আগে রাজপথে বিচার চান বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সুজন বলেন, ‘নির্বাচন করলেই তো সবকিছু হয় না। রাজপথে আগে বিচার করতে হবে। বিচার করে খুনি হাসিনার বিচার করতে হবে। এরপর নির্বাচন করব কি না, তা জনগণই সিদ্ধান্ত দেবে।’
প্রসঙ্গত, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্যালুট করে আলোচনায় আসেন রিকশাচালক মোহাম্মদ সুজন। তার সেই ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তিনি পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন। আন্দোলনের পরও শিক্ষার্থীরা তাকে মনে রেখেছেন। ক্যাম্পাসের দেয়ালচিত্রেও জায়গা পেয়েছেন তিনি।
কামরাঙ্গীরচরের বড়গ্রামে স্ত্রী, কন্যা ও অসুস্থ শাশুড়িকে নিয়ে থাকেন সুজন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে সংসদ সদস্য পদে এনসিপির মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছিলেন তিনি। তবে প্রাথমিক পর্যালোচনায় তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়। পরে তিনি আর নির্বাচনে প্রার্থী হননি।
source: The Dhaka Diary

