আর্জেন্টিনার স্বপ্ন ভেঙে বিশ্বকাপ ট্রফি স্পেনের হাতে

বিশ্বকাপের ফাইনালে আধিপত্যের এক অনন্য প্রদর্শনী করে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জিতেছে স্পেন। ২০১০ সালের পর আবারও ফুটবলের সর্বোচ্চ শিরোপা ঘরে তুলেছে লা রোজা। অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে নির্ধারিত হয় শিরোপার ভাগ্য।
রবিবার (১৯ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখে স্পেন। বল দখল, আক্রমণ, সুযোগ সৃষ্টি, সব দিকেই এগিয়ে ছিল তারা। অন্যদিকে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা পুরো ম্যাচজুড়ে নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দ খুঁজে পায়নি।
প্রথমার্ধেই একাধিকবার গোলের সুযোগ তৈরি করে স্পেন। লামিন ইয়ামাল, মিকেল ওয়ারজাবাল ও দানি ওলমো আর্জেন্টিনার রক্ষণে বারবার চাপ সৃষ্টি করেন। তবে গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ অসাধারণ কিছু সেভ করে দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন।
বিরতির পরও একই চিত্র দেখা যায়। স্পেন একের পর এক আক্রমণ চালালেও মার্টিনেজের দৃঢ়তায় গোল পাচ্ছিল না। অন্যদিকে আর্জেন্টিনা বলের দখল হারিয়ে রক্ষণ সামলাতেই ব্যস্ত ছিল। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে তারা লক্ষ্যে একটি শটও নিতে পারেনি, যা বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে বিরল ঘটনা।
ম্যাচের যোগ করা সময়ে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়ার পর অতিরিক্ত সময়ে আরও চাপে পড়ে আলবিসেলেস্তেরা।
অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধে নিকো উইলিয়ামসের একটি গোল ফাউলের কারণে বাতিল হয়। তবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই কাঙ্ক্ষিত গোল পেয়ে যায় স্পেন। পেদ্রো পোরোর ক্রস থেকে নিকো উইলিয়ামসের শট পোস্টে লেগে ফিরে এলে ফিরতি বলে জালে পাঠান বদলি ফরোয়ার্ড ফেরান তোরেস।
গোল হজমের পর মরিয়া হয়ে আক্রমণে ওঠে আর্জেন্টিনা। তবে স্পেনের সংগঠিত রক্ষণ ভাঙতে পারেননি মেসিরা। শেষ দিকে লিওনেল মেসির ফ্রি কিক থেকেও সমতা ফেরানোর সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয় দলটি।
পুরো ম্যাচে ৬৫ শতাংশের বেশি সময় বল নিজেদের দখলে রাখে স্পেন। লক্ষ্যে একের পর এক শট নিলেও এমিলিয়ানো মার্টিনেজের অসাধারণ নৈপুণ্যের কারণে নির্ধারিত সময়ে গোল পায়নি তারা। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ে সেই বাধা ভেঙেই বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট নিজেদের করে নেয় স্প্যানিশরা।
এই জয়ে ২০১০ সালের পর দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেল স্পেন। অন্যদিকে টানা দ্বিতীয় শিরোপা জয়ের স্বপ্ন ভেঙে যায় আর্জেন্টিনার।
source: The Dhaka Diary

