‘ককরোচ’ সমর্থকদের পদযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা, অনড় আন্দোলনকারীরা

ভারতে যুবনেতৃত্বাধীন ককরোচ জনতা পার্টির সমর্থকদের সংসদ অভিমুখে পদযাত্রার অনুমতি দেয়নি দিল্লি পুলিশ। তবে আন্দোলনকারীরা কর্মসূচি থেকে সরে আসার কোনো ইঙ্গিত দেয়নি। এ অবস্থায় নতুন করে উত্তেজনা ও অচলাবস্থার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় দেশটির শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিও জোরালো হচ্ছে।
শনিবার অনশনরত সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুককে পুলিশ জোর করে হাসপাতালে ভর্তি করার পর আন্দোলনটি নতুন গতি পায়। সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনে নির্ধারিত পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে শত শত সমর্থক ইতোমধ্যে আন্দোলনস্থলে জড়ো হয়েছেন।
গত মে মাসে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় লাখ লাখ পরীক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ককরোচ’ আন্দোলনের সূচনা হয়। অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই ইনস্টাগ্রামে তাদের অনুসারীর সংখ্যা ২ কোটি ২০ লাখে পৌঁছে যায়। পরে আন্দোলনটি অনলাইন সীমা পেরিয়ে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রধানমন্ত্রী মোদি সরকারের জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়।
৫৯ বছর বয়সী সোনম ওয়াংচুক রোববার তার স্ত্রীর মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, পরিকল্পিত এই পদযাত্রা হবে ‘ভারতের দ্বিতীয় স্বাধীনতা আন্দোলন’। তার ভাষায়, এটি হবে ‘প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো অন্যায়ের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার’ এবং ‘অবৈধ আটক ও ভয়ের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার’ আন্দোলন।
তবে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন শুরু হওয়ায় নিউ দিল্লি জেলায় পাঁচ বা তার বেশি মানুষের সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। কেবল নির্ধারিত বিক্ষোভস্থল জন্তর মন্তরে সমাবেশের অনুমতি রয়েছে, যেখানে গত তিন সপ্তাহ ধরে আন্দোলনকারীরা অবস্থান করছেন।
পুলিশ এক্সে দেওয়া বিবৃতিতে জানায়, ‘২০ জুলাই সংসদের অধিবেশন শুরু হওয়ায় জননিরাপত্তা, ভিভিআইপিদের নিরাপত্তা এবং গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’
অন্যদিকে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ জানিয়েছে, পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। দলের এক মুখপাত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘পদযাত্রা অবশ্যই হবে। বাকি বিষয়গুলো নিয়ে আমরা পরিকল্পনা চূড়ান্ত করছি।’
সূত্র: জিও নিউজ
আরএ
source: Daily Amar Desh

