বর্তমান সরকার ব্যর্থ হলে সবচেয়ে বেশি লাভ হবে শেখ হাসিনার: ইশরাক

বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন বা নির্বাচিত সরকার যদি কোনো কারণে ব্যর্থ হয়, তবে দিল্লিতে পালিয়ে থাকা সাবেক স্বৈরাচারী শাসক শেখ হাসিনা এবং তাঁকে আশ্রয় প্রদানকারী আঞ্চলিক আধিপত্যবাদী শক্তি সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিক ফায়দা লুটবে এবং লাভবান হবে বলে মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নবনিযুক্ত প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। সে কারণে দেশের স্বার্থে সব মহলে কিছু রাজনৈতিক মতভেদ ও মতভিন্নতা থাকলেও, দেশকে অস্থিতিশীল ও অকার্যকর করার পেছনে যেকোনো ধরনের অপচেষ্টা বা চক্রান্ত করা হলে তা রাজপথে কঠোরভাবে প্রতিহত করতে হবে বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন তিনি।
রোববার (১৯ জুলাই) বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি) আয়োজিত ‘রক্তস্নাত জুলাই: প্রেক্ষাপট, রক্তের ঋণ এবং কোন পথে বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক বিশেষ আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন এসব কথা বলেন। তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে দল ও সাধারণ মানুষের প্রতি ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
প্রতিমন্ত্রী দেশের সার্বিক গণতান্ত্রিক পরিবেশের ওপর জোর দিয়ে বলেন, কেবল ব্যক্তিস্বার্থ বা সস্তা ক্ষমতার লোভে কোনো মহলেরই এমন কোনো অপরিণামদর্শী পদক্ষেপ বা সিদ্ধান্ত নেওয়া একদম উচিত হবে না, যার ফলে দেশের তিলে তিলে অর্জিত গণতন্ত্র নতুন করে হুমকির মুখে পড়ে। তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি দেশের গণতন্ত্রই আবার কোনোভাবে হুমকিতে পড়ে, তবে আমাদের কষ্টার্জিত স্বাধীনতা ও জাতীয় সার্বভৌমত্ব বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পতিত হবে।
ইশরাক হোসেন দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করে বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), গণঅধিকার পরিষদসহ দেশের সব দেশপ্রেমিক ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল এবং ছাত্র-জনতা যেকোনো অভ্যন্তরীণ কিংবা বাহ্যিক ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সবসময় ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে সজাগ থাকবে এবং যেকোনো মরণকামড়ের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে কঠোর জবাব দেবে। তিনি আরও যোগ করেন, রাষ্ট্র সংস্কার, ভঙ্গুর গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রাখতে সব রাজনৈতিক মতভেদ সম্পূর্ণ ভুলে একটি জাতীয় সুদৃঢ় ঐক্য গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।
আলোচনা সভায় ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে ইশরাক হোসেন বলেন, এই গণ-আন্দোলনের মূল চালিকাশক্তিই ছিল সব ধরনের সংকীর্ণ দলীয় পরিচয় ও ভেদাভেদের ঊর্ধ্বে উঠে ফ্যাসিবাদ পতনের ‘এক দফা’ আন্দোলনে সবার ইস্পাতকঠিন একতাবদ্ধ হওয়া। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের অবিচ্ছেদ্য ধারাবাহিকতাতেই ২০২৪ সালের এই রক্তক্ষয়ী ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান সফলভাবে সংঘটিত হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যের শেষাংশে প্রতিবেশী দেশের আধিপত্যবাদী আচরণের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী যেভাবে বাঙালি জাতিকে দাসত্বে শৃঙ্খলিত ও পরাধীন করে রাখতে চেয়েছিল, ঠিক একইভাবে ২০২৪ সালেও ভারতের আধিপত্যবাদী শক্তিও শেখ হাসিনা সরকারের মাধ্যমে বাংলাদেশকে পুরোপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চেয়েছিল। ভারতের এই নগ্ন আঞ্চলিক আধিপত্যবাদ ও হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোই ছিল জুলাই গণ-আন্দোলনের অন্যতম একটি প্রধান নিয়ামক ও উপাদান।
source: Azadir Dak

