Jannah Theme License is not validated, Go to the theme options page to validate the license, You need a single license for each domain name.
Uncategorized

আজীবন হাসিনাকেই ক্ষমতায় দেখার খায়েশ ছিল ব্যবসায়ীদের

২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলন যখন চূড়ান্ত রূপ নেয়, তখন শীর্ষ ব্যবসায়ীদের একটি অংশ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে শুধু সমর্থনই জানাননি, বরং আন্দোলন দমাতে তাঁর কঠোর পদক্ষেপের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেন। আন্দোলনকারীদের ‘জঙ্গি’ ও ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিয়ে তাঁদের দমনে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন তারা। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর এসব ব্যবসায়ীর অনেকেই এখন আত্মগোপনে, অনেকে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন, আবার কেউ কেউ গ্রেফতারও হয়েছেন।

২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন তীব্র হয়ে উঠলে সরকার সারা দেশে ইন্টারনেট বন্ধ, কারফিউ জারি ও সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে। এমন পরিস্থিতিতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি বিনিয়োগ ও শিল্প উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং তৎকালীন তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত ২২ জুলাই গণভবনে ব্যবসায়ী নেতাদের একটি বৈঠকের আয়োজন করেন। উক্ত বৈঠকে উদ্ভূত সংকট সমাধানের কোনো পথ না দেখিয়ে উল্টো হাসিনাকে কঠোর হস্তে আন্দোলন দমানোর অনুরোধ জানান অংশগ্রহণকারী ব্যবসায়ী নেতারা।

বৈঠকে বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আকবর সোবহান আন্দোলনকারীদের সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে বলেন, “এই সন্ত্রাসী, জঙ্গি বাহিনীকে ধ্বংস করতে হবে। এজন্য আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে; তা না হলে আমাদের কেউই আর ব্যবসায়ী হিসেবে থাকতে পারব না।” একই সঙ্গে তিনি হাসিনাকে সমর্থন দিয়ে আন্দোলনকারীদের বিচারের আওতায় আনার জোরালো দাবি জানান।

এফবিসিসিআইয়ের তৎকালীন সভাপতি মাহবুবুল আলম দেশের ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনার পাশে থাকার অঙ্গীকার করে বলেন, “টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া তিন কোটি ব্যবসায়ী আপনাকে এই অঙ্গীকারবদ্ধ করতে চাই যে, আপনার সঙ্গে আছি, অতীতেও ছিলাম এখনো আছি, ভবিষ্যতেও থাকব।” বিজিএমইএর তৎকালীন সভাপতি এস এম মান্নান কচি এবং ব্যাংক মালিকদের সংগঠন বিএবি-র তৎকালীন চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারও জীবন দিয়ে হলেও হাসিনার পাশে থাকার ঘোষণা দেন।

এছাড়া দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন, বিকেএমইএর তৎকালীন নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, এপেক্স গ্রুপের প্রধান সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর এবং প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান আহসান খান চৌধুরী আন্দোলনের নামে হওয়া ধ্বংসযজ্ঞের নিন্দা জানিয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রতি আস্থা প্রকাশ করেছিলেন। এর বাইরেও, এর আগে ২০১৩ ও ২০২৩ সালে ‘শেখ হাসিনার সরকার বারবার দরকার’ স্লোগান দিয়ে ব্যবসায়ী নেতা ও সংসদ সদস্য এ কে আজাদসহ অনেকে প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেন।

ব্যবসায়ীদের এই সমর্থনের পরপরই আন্দোলনকারীদের ওপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দমন-পীড়ন আরও বৃদ্ধি পায়। তবে তীব্র গণঅভ্যুত্থানের মুখে ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর ওই বৈঠকে অংশ নেওয়া ২৪ শীর্ষ ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে গণহত্যায় সহযোগিতার অভিযোগ এনেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। ট্রাইব্যুনাল সূত্র জানিয়েছে, এসব অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে বর্তমানে তদন্ত কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

source: Azadir Dak

Leave a Reply

Back to top button