Jannah Theme License is not validated, Go to the theme options page to validate the license, You need a single license for each domain name.
কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স

হাসিনার পলায়নের ২ বছর পর আমেরিকায় আত্মপ্রকাশ করলেন বিতর্কিত লেখক জাফর ইকবাল

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার পলায়নের পর তার অনুগত আরও অনেকের মতো লোকচক্ষুর আড়ালে চলে যান বিতর্কিত আওয়ামীপন্থী লেখক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল। তবে  অতি সম্প্রতি আমেরিকায় এক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গিয়ে তিনি প্রকাশ্যে এসেছেন। গত ১৯ জুলাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একটি উন্মুক্ত অনুষ্ঠানে সস্ত্রীক অংশ নেন তিনি। হাসিনার পতনের পর এটিই তার প্রথম কোনো প্রকাশ্য উপস্থিতি।

​ফেসবুকে যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদ, পেন্সিলভেনিয়া শাখার সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলামের ভেরিফাইড আইডিতে পোস্ট করা একটি ছবিতে দেখা যায়, মুহম্মদ জাফর ইকবালকে আওয়ামী লীগপন্থী আরেক বুদ্ধিজীবী ড. নূরন নবী এবং আরিফুল ইসলাম ফুল দিয়ে স্বাগত জানাচ্ছেন। ছবিটিতে তাদের পলাতক ফ্যাসিস্ট হাসিনার পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের একটি প্রতিকৃতিও দেখা যায়।

নূরন নবীর পোস্ট থেকে জানা যায়, জাফর ইকবাল ২০২৬ সালের ‘বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বইমেলা ও নবী-জিনাত ফাউন্ডেশন সাহিত্য পুরস্কারে’ ভূষিত হয়েছেন। এই পুরস্কারটি গ্রহণের জন্য ওই অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি। তবে জনাব ইকবাল কবে বাংলাদেশ থেকে গিয়েছেন বা যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেছেন কিনা সে বিষয়ে কিছু জানা যায়নি।

গত ১৯ জুলাই নিউজার্সিতে ড. নূরন নবী এবং জিনাত নবীর বাড়ির প্রাঙ্গণে আয়োজিত শতাধিক প্রবাসী বাংলাদেশির উপস্থিতিতে পুরস্কারটি জাফর ইকবালের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

নূরন নবী নিজে তার ফেসবুক আইডিতে ছবি পোস্ট করে লিখেন, ​”আজ অনেকদিন পর ডঃ জাফর ইকবাল ও ডঃ ইয়াসমিন হক আমাদের বাসায়।”

উল্লেখ্য, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে যখন কোটা সংস্কার আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করে, তখন শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের বিপরীতে তার একটি চিরকুট বা লিখিত বক্তব্য সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং তীব্র সমালোচনার জন্ম দেয়।

১৬ জুলাই ২০২৪ তারিখে ছড়িয়ে পড়া ওই চিঠিতে তিনি লিখেছিলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আমার বিশ্ববিদ্যালয়, আমার প্রিয় বিশ্ববিদ্যালয়। তবে আমি মনে হয় আর কোনোদিন এই বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে চাইব না। ছাত্রছাত্রীদের দেখলেই মনে হবে, ‘এরাই হয়তো সেই রাজাকার।’ আর যে কয়দিন বেঁচে আছি, আমি কোনো রাজাকারের মুখ দেখতে চাই না। একটাই তো জীবন। সেই জীবনে আবার কেন নতুন করে রাজাকারদের দেখতে হবে?”

তার এই বক্তব্যকে তৎকালীন স্বৈরাচারী সরকারের দমন-পীড়নের এবং ছাত্র হত্যার যৌক্তিকতা তৈরির চেষ্টা হিসেবে দেখেন আন্দোলনরত সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এর পরিপ্রেক্ষিতে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা তাকে ক্যাম্পাসে আজীবন নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন এবং অনলাইন বুকশপ ‘রকমারি’ তাদের প্ল্যাটফর্ম থেকে জাফর ইকবালের সব বই সরিয়ে নেয়। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই তিনি সম্পূর্ণ আত্মগোপনে চলে যান এবং দীর্ঘ দুই বছর তার কোনো খোঁজ বা প্রকাশ্য উপস্থিতি ছিল না।

source: The Dissent

Leave a Reply

Back to top button