আত্মগোপনে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ-সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনভিপ্রেত ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বর্তমান অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর তিনি কোথায় আছেন, সে বিষয়ে তাঁর স্বজন বা দলীয় নেতারা নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারছেন না। ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই তাঁর ব্যক্তিগত মুঠোফোনটি বন্ধ রয়েছে এবং তিনি লোকচক্ষুর আড়ালে রয়েছেন।
৭৪ বছর বয়সি এ সংসদ সদস্যের সঙ্গে এক তরুণীর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের জরুরি বৈঠকে সাংগঠনিক তদন্তে নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ায় তাঁকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে বহিষ্কারের বিষয়টি নির্বাচন কমিশন ও সংসদ সচিবালয়কে চিঠির মাধ্যমে অবহিত করেছে দলটি।
দল থেকে বহিষ্কারের পর এখন তাঁর সংসদ সদস্যপদ থেকেও পদত্যাগের জন্য স্থানীয় ও রাজনৈতিক বিভিন্ন মহল থেকে চাপ বাড়ছে। নির্বাচন এলাকা শ্যামনগরসহ সাতক্ষীরায় তাঁর পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ ও মিছিল-মিটিং অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সংবিধান বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, কেবল দল থেকে বহিষ্কার হলে সংসদ সদস্যপদ বাতিল হয় না, যদি না তিনি নিজে পদত্যাগ করেন বা দলের বিরুদ্ধে ভোট দেন। এ কারণে তাঁকে পদত্যাগে বাধ্য করার প্রচেষ্টা চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে, সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক এক গণসংবর্ধনায় উল্লেখ করেন, একজন জনপ্রতিনিধি ও দায়িত্বশীল নেতার ভুল সাধারণ মানুষের চেয়ে ভিন্নভাবে বিবেচিত হয়। তিনি জানান, ওই অনভিপ্রেত কাজের জন্যই দল তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা হিসেবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি দলীয় আলোচনার সূত্রে তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট তরুণী গাজী নজরুল ইসলামের সেবাতেই আজীবন থেকে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
source: Azadir Dak

